| বঙ্গাব্দ

ক্ষুধার্ত মানুষের তৃপ্তিময় হাসি যখন শ্রেষ্ঠ ইবাদত

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 20-10-2026 ইং
  • 8511 বার পঠিত
ক্ষুধার্ত মানুষের তৃপ্তিময় হাসি যখন শ্রেষ্ঠ ইবাদত
ছবির ক্যাপশন: ক্ষুধার্ত মানুষের তৃপ্তিময় হাসি

ক্ষণস্থায়ী দুনিয়ায় ক্ষুধার্ত মানুষের তৃপ্তিময় হাসিই মুমিনের শ্রেষ্ঠ ইবাদত ও সঞ্চয়

প্রতিবেদক: বুলবুল আহমেদ

মানবসমাজে ভ্রাতৃত্ব, সহানুভূতি ও পরোপকারের অবস্থান অত্যন্ত উঁচুতে। তবে বর্তমান সমাজজীবনের এক চরম ও নিষ্ঠুর বাস্তবতা হলো—একদিকে প্রাচুর্যের ঝলমলে আলো, আর অন্যদিকে দারিদ্র্যের চরম কষাঘাতে ক্ষুধার তীব্র কষ্ট। ইসলাম কোনো অবস্থাতেই এমন সামাজিক বৈষম্য ও শ্রেণিসংকটকে প্রশ্রয় দেয় না। নিজের প্লেটে খাবার তুলে নেওয়ার আগে পাশের ক্ষুধার্ত মানুষটির খবর নেওয়া প্রতিটি মুমিনের সুকোমল হৃদয় ও খাঁটি ঈমানের পরিচয় বহন করে।

সামর্থ্যের খুব সামান্য অংশ দিয়েও কোনো একজন তৃষ্ণার্ত বা ক্ষুধার্ত মানুষের মুখে তৃপ্তির হাসি ফোটানো যে কেবল নিছক সমাজসেবা নয়, বরং মহান স্রষ্টার পরম সন্তুষ্টি অর্জনের এক সুবর্ণ সুযোগ—ইসলামই সে সুমহান শিক্ষা দেয়।

নিঃস্বার্থ ভালোবাসা ও অন্নদান: ইসলামের সুমহান নির্দেশনা

ক্ষুধার্তের কষ্ট দূর করা এবং নিঃস্বার্থভাবে অভাবগ্রস্ত মানুষের খাবারের ব্যবস্থা করা ইসলামি জীবনাচারের অন্যতম সৌন্দর্য। ইসলাম এই মানবিক উদ্যোগকে কীভাবে মূল্যায়ন করে, তার প্রধান দিকগুলো নিচে তুলে ধরা হলো:

  • সর্বশ্রেষ্ঠ ইবাদতের অন্যতম: ইসলামের দৃষ্টিতে সর্বশ্রেষ্ঠ কাজের একটি হলো ক্ষুধার্তের মুখে অন্ন তুলে দেওয়া। পরিচিত কিংবা অপরিচিত—সবার প্রতি উদারতা দেখানোর মাধ্যমেই ইমানের পূর্ণতা অর্জিত হয়।

  • একান্তই আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন: অভাবী মানুষকে খাবার খাওয়ানোর মূল লক্ষ্য হতে হবে একান্তই মহান আল্লাহর প্রীতি অর্জন। লোকদেখানো সুনাম, সামাজিক বাহবা কিংবা কোনো পার্থিব প্রতিদানের আশায় খাবার দেওয়া ইসলামের মূল চেতনার পরিপন্থী।

  • খোঁটা দেওয়া কঠোরভাবে নিষিদ্ধ: কাউকে আহার করানোর পর তাকে খোটা দেওয়া বা অহংকার করে মনে কষ্ট দেওয়া শরিয়তে কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। এমন মানসিকতা ও মেজাজ মানুষের সুমহান দানের সকল সওয়াব ও আখেরাতের প্রতিদান ধূলিসাৎ করে দেয়।

  • সামর্থ্য অনুযায়ী ভালোবাসার হাত: অভাবীর পাশে দাঁড়াতে যে পাহাড়সম সম্পদের প্রয়োজন, তা কিন্তু নয়। নিজের যতটুকু সামর্থ্য আছে, সেখান থেকেই ভালোবাসার হাত বাড়িয়ে দেওয়া জরুরি। মাত্র একমুঠো অন্ন বা সামান্য খাবার দিয়ে হলেও ক্ষুধার্তের পাশে দাঁড়ানো রবের কাছে মহা মূল্যবান ও পরম ভালোবাসার কাজ।

  • আখেরাতের অক্ষয় সঞ্চয়: দুনিয়ার এই ধন-সম্পদ, রূপ-রস ও প্রাচুর্য অতি ক্ষণস্থায়ী। তবে আল্লাহর দেওয়া রিজিক থেকে অভাবগ্রস্ত মানুষকে আহার করালে তা আখেরাতে বান্দার পরম অক্ষয় সঞ্চয় হিসেবে জমা থাকে।

মানবতার কল্যাণে নিজ নিজ সামর্থ্য অনুযায়ী ক্ষুধার্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং তাদের মুখে তৃপ্তির হাসি ফোটানোই হলো একজন প্রকৃত মুমিনের জীবনের অন্যতম মূল লক্ষ্য।

আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency