প্রতিবেদক: বুলবুল আহমেদ
কন্যাসন্তানের জন্মকে কোনো অপমান, বোঝা কিংবা লজ্জার বিষয় নয়; বরং আল্লাহর বিশেষ নিয়ামত ও ‘সুসংবাদ’ হিসেবে ঘোষণা করেছে পবিত্র কুরআন। সমাজে কন্যাসন্তানের প্রতি অবহেলা করা, সম্পত্তি ও উত্তরাধিকার থেকে বঞ্চিত করা এবং বিয়েতে তার ব্যক্তিগত মতামত উপেক্ষা করার মতো কুপ্রথা রোধে ইসলাম দিয়েছে স্পষ্ট ও কঠোর নির্দেশনা।
কুরআনে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, সন্তান ছেলে হবে নাকি মেয়ে—তা সম্পূর্ণ মহান আল্লাহর সিদ্ধান্ত। পবিত্র কুরআনের সুরা আশ-শূরা (আয়াত: ৪৯-৫০)-এ আল্লাহ তাআলা ঘোষণা করেছেন, তিনি যাকে ইচ্ছা কন্যাসন্তান দান করেন, যাকে ইচ্ছা পুত্রসন্তান দেন, কাউকে উভয়ই দেন, আবার কাউকে নিঃসন্তান রাখেন। সুতরাং, কন্যাসন্তানের জন্মের জন্য কোনো মাকে দোষারোপ করা ইসলামি শরিয়তের দৃষ্টিতে চরম অন্যায় ও অজ্ঞতা।
ইসলামপূর্ব জাহেলিয়াতের যুগে কন্যাসন্তানের জন্মকে অত্যন্ত লজ্জার বিষয় মনে করা হতো এবং অনেক সময় জীবন্ত সমাহিত করা হতো। কুরআনে এই হীন মানসিকতার তীব্র নিন্দা জানানো হয়েছে:
সুরা আন-নাহল (আয়াত: ৫৮-৫৯):
$وَإِذَا\ بُشِّرَ\ أَحَدُهُم\ بِٱلْأُنثَىٰ\ ظَلَّ\ وَجْهُهُۥ\ مُسْوَدًّۭا\ وَهُوَ\ كَظِيمٌۭ$
অর্থ: “আর যখন তাদের কাউকে কন্যাসন্তানের সুসংবাদ দেওয়া হয়, তখন তার মুখমণ্ডল কালো হয়ে যায় এবং সে প্রচণ্ড মনস্তাপে ক্লিষ্ট হতে থাকে।”
এছাড়া সুরা আত-তাকভির (আয়াত: ৮-৯)-এ কিয়ামতের দিনে জীবন্ত প্রোথিত কন্যাশিশুকে কেন হত্যা করা হয়েছিল—সে বিষয়ে কঠোর হিসাব চাওয়া হবে বলে হুশিয়ার করা হয়েছে।
কন্যাসন্তানকে ভালোবাসার সাথে লালন-পালন করার জন্য হাদিসে অসামান্য মর্যাদার কথা বলা হয়েছে। সহিহ মুসলিম (হাদিস: ২৬৩১)-এ রাসুলুল্লাহ (সা.) নির্দেশ করেছেন, যে ব্যক্তি দুটি কন্যাসন্তানকে সাবালিকা হওয়া পর্যন্ত সঠিক শিক্ষা ও আদবে লালন-পালন করবে, কিয়ামতের দিন সে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর অতি সন্নিকটে অবস্থান করবে। তাই মেয়ের অন্ন, বস্ত্র ও চিকিৎসার পাশাপাশি উপযুক্ত শিক্ষা, নিরাপত্তা এবং মানসিক বিকাশ নিশ্চিত করা অভিভাবকের প্রধান দায়িত্ব।
আমাদের সমাজে অনেক পরিবার মেয়েদের বিয়ে হয়ে যাওয়ার পর বাবার সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত করে থাকে, যা শরিয়তের দৃষ্টিতে কবিরা গুনাহ। সুরা আন-নিসা (আয়াত: ৭)-এ স্পষ্ট বলা হয়েছে:
$لِّلرِّجَالِ\ نَصِيبٌ\ مِّمَّا\ تَرَكَ\ الْوَالِدَانِ\ وَالأَقْرَبُونَ\ وَلِلنِّسَاءِ\ نَصِيبٌ\ مِّمَّا\ تَرَكَ\ الْوَالِدَانِ\ وَالأَقْرَبُونَ\ مِمَّا\ قَلَّ\ مِنْهُ\ أَوْ\ كَثُرَ\ نَصِيبًا\ مَّفْرُوضًا$
অর্থ: “পিতা-মাতা ও আত্মীয়-স্বজনের পরিত্যক্ত সম্পত্তিতে পুরুষদের অংশ রয়েছে এবং পিতা-মাতা ও আত্মীয়-স্বজনের পরিত্যক্ত সম্পত্তিতে নারীদেরও অংশ রয়েছে—তা অল্প হোক কিংবা বেশি, এক নির্ধারিত অংশ।”
বিয়ে হলেও কোনো অজুহাতেই মেয়ের এই নির্ধারিত মিরাস বা উত্তরাধিকার বাতিল করা যায় না।
বিয়ে ও দাম্পত্য জীবনের ক্ষেত্রেও নারীকে পূর্ণ স্বাতন্ত্র্য ও অধিকার দিয়েছে ইসলাম:
১. সম্মতির বাধ্যবাধকতা: বিয়েতে নারীর মতামতের গুরুত্ব অপরিসীম। সুনান আবু দাউদ (হাদিস: ২০৯৬) অনুযায়ী, অভিভাবক জোরপূর্বক বা অনিচ্ছায় বিয়ে দিলে নারী তা বাতিলের জন্য নালিশ জানাতে পারে।
২. মোহরানা নারীর নিজস্ব সম্পত্তি: সুরা আন-নিসা (আয়াত: ৪)-এ আল্লাহ তাআলা আদেশ করেছেন:
$وَاتُوا\ النِّسَاءَ\ صَدُقَاتِهِنَّ\ نِحْلَةً\ ۚ\ فَإِنْ\ طِبْنَ\ لَكُمْ\ عَنْ\ شَيْءٍ\ مِنْهُ\ نَفْسًا\ فَكُلُوهُ\ هَنِيئًا\ مَرِيئًا$
অর্থ: “আর তোমরা নারীদেরকে তাদের মোহর স্বতঃস্ফূর্তভাবে (হৃষ্টচিত্তে) প্রদান করো। অতঃপর তারা যদি নিজেদের সন্তুষ্টিতে মোহরের কিছু অংশ তোমাদের ছেড়ে দেয়, তবে তা তৃপ্তি ও স্বাচ্ছন্দ্যে ভোগ করো।”
ইসলামের স্পষ্ট শিক্ষা হলো— কন্যাসন্তান কোনো সামাজিক বোঝা নয়, বরং সে জান্নাত অর্জনের অন্যতম মাধ্যম ও মহান আল্লাহর নিয়ামত। তাদের সঠিক শিক্ষা, নিরাপত্তা, সম্মান এবং সম্পত্তি ও বিয়ের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করা প্রতিটি সচেতন পরিবারের ইসলামি ও নৈতিক দায়িত্ব।
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |