| বঙ্গাব্দ

নষ্ট হবে ঘুম! হামলার সতর্কবার্তা পেতে অনীহা সৌদিদের

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 13-10-2026 ইং
  • 24493 বার পঠিত
নষ্ট হবে ঘুম! হামলার সতর্কবার্তা পেতে অনীহা সৌদিদের
ছবির ক্যাপশন: নষ্ট হবে ঘুম! হামলার সতর্কবার্তা

‘রাতে ঘুম নষ্ট হওয়ায় আপত্তি’: রিয়াদে হুথিদের প্রাণঘাতী মিসাইল হামলার আগে আগাম সতর্কতা বন্ধ রেখেছিল সৌদি সরকার!

প্রতিবেদক: বুলবুল আহমেদ

সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীদের একের পর এক প্রাণঘাতী ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার আগে সাধারণ জনগণকে কোনো প্রকার সতর্কবার্তা (Emergency Alert) দেয়নি দেশটির সরকার। আর এর পেছনে যে অদ্ভুত কারণ সামনে এসেছে তা হলো—রাতে মোবাইল ফোনে বিকট শব্দে সতর্কবার্তা গিয়ে সাধারণ মানুষের ‘ঘুম নষ্ট’ হওয়া এবং এ নিয়ে নাগরিকদের অভিযোগের মুখে আগাম সতর্কব্যবস্থা বন্ধ রাখা হয়েছিল!

আজ মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর ২০২৬) আন্তর্জাতিক নির্ভরযোগ্য বার্তা সংস্থা রয়টার্স-এর এক আলোড়ন সৃষ্টকারী এক্সক্লুসিভ প্রতিবেদনে এসব তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।

বিমানবন্দর হামলায় ১৮ প্রাণহানি, অথচ নীরব ছিল অ্যালার্ট সিস্টেম

গত সপ্তাহে রিয়াদ বিমানবন্দরে হুথিদের চার দফা টানা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় অন্তত ১৮ জন নিহত এবং ৩০০ জনেরও বেশি মানুষ আহত হন। রিয়াদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের মতো স্পর্শকাতর স্থানে এমন বড় ধরণের হামলা চলা সত্ত্বেও কেন সরকারের পক্ষ থেকে কোনো সাইরেন বা মোবাইল সতর্কবার্তা জারি করা হয়নি, সে বিষয়ে সৌদি সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে এখন পর্যন্ত কোনো ব্যাখ্যা দেয়নি।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, সম্ভাব্য সামরিক ও আকাশপথে হামলার ঝুঁকি জানাতে সৌদি আরব গত মে মাসে মোবাইল নেটওয়ার্ক ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ডিজিটাল আগাম সতর্কবার্তা চালুর ব্যবস্থা গ্রহণ করে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে হুথিদের আক্রমণের ঝুঁকি চরম রূপ নিলেও বেসামরিক নাগরিকদের জন্য এই সতর্কব্যবস্থাটি রহস্যজনকভাবে নীরব রাখা হয়। এর আগে সর্বশেষ সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছিল গত ২৯ সেপ্টেম্বর দেশটির দক্ষিণাঞ্চলীয় নাজরান প্রদেশে।

'ঘুম ভেঙে যাওয়ার অভিযোগ': পশ্চিমা মিত্রদের কাছে চাঞ্চল্যকর স্বীকারোক্তি

হামলার আগে কেন দেশের কেন্দ্রীয় আগাম সতর্কব্যবস্থা নীরব ছিল, তা নিয়ে সৌদি কর্তৃপক্ষের কাছে জানতে চেয়েছিল দেশটির মিত্র একটি গুরুত্বপূর্ণ পশ্চিমা দেশ।

বিষয়টি সম্পর্কে সরাসরি অবগত দুজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানান, পশ্চিমা মিত্রদের জিজ্ঞাসার জবাবে সৌদি কর্মকর্তারা জানান যে—“এই ধরনের জরুরি সতর্কবার্তাগুলো জনজীবনে অহেতুক বিঘ্ন ঘটাচ্ছিল। বিশেষ করে গভীর রাতে বিকট অ্যালার্টে ঘুম ভেঙে যাওয়ায় অনেক নাগরিক সরকারের কাছে ক্ষোভ ও অভিযোগ প্রকাশ করেছিলেন।”

তবে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে এই খবর প্রকাশের পর সৌদি সরকারের যোগাযোগ বা গণমাধ্যম শাখার পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

নিরাপত্তা বনাম স্বাভাবিকতার ভাবমূর্তি রক্ষা

বিশ্লেষকদের মতে, ইয়েমেনের ইয়েমেনভিত্তিক হুথিদের সঙ্গে দীর্ঘদিনের সশস্ত্র সংঘাত চললেও বিশ্বমঞ্চে সৌদি আরব নিজেদের 'সবকিছু স্বাভাবিক ও নিরাপদ' হিসেবে তুলে ধরতে চায়। কিন্তু বিমানবন্দর লক্ষ্য করে রক্তক্ষয়ী আক্রমণের আগে সতর্কবার্তা বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নাগরিক ও বিদেশি দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা দেওয়ার সক্ষমতাকে বড় ধরণের প্রশ্নের মুখে ফেলেছে।

সৌদি আরবে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক রাষ্ট্রদূত মাইকেল র্যাটনি পরিস্থিতি মূল্যায়ন করে বলেন:

"হামলার বিষয়ে জনগণকে কীভাবে সতর্ক করা হবে, তা নিয়ে একটি সূক্ষ্ম ভারসাম্য রক্ষার চেষ্টা করছে রিয়াদ। সৌদি আরব হুথিদের হামলার যথাযথ জবাব দিতে চায়, কিন্তু তারা চায় না যে এর কারণে দেশের অভ্যন্তরে আতঙ্ক ছড়াক কিংবা স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হোক। অথচ আগাম সতর্কবার্তা বন্ধ রাখায় মানুষের মনে উল্টো উদ্বেগ ও আতঙ্ক কয়েক গুণ বেড়ে গেছে।"

উপসাগরীয় প্রতিবেশী দেশগুলোর ভিন্ন নীতি ও পশ্চিমা দূতাবাসগুলোর অবস্থান

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, চলতি বছরের গত ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সরাসরি সামরিক উত্তেজনা শুরুর পর থেকে মধ্যপ্রাচ্যের উপসাগরীয় দেশগুলোতে প্রায়ই ড্রোন ও মিসাইল হামলার ঘটনা ঘটছে। তবে নাগরিকদের সুরক্ষায় সৌদি আরবের চেয়ে অন্য দেশগুলোর পদক্ষেপ বেশ আলাদা:

  • কাতার: কাতারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় যেকোনো হামলার আগাম সংকেত পাওয়ার সাথে সাথে প্রতিটি মোবাইল ফোনে তাৎক্ষণিক জরুরি বার্তা পাঠায় এবং বাসিন্দাদের ঘরের ভেতরে কিংবা জানালা থেকে দূরে থাকার নিরাপদ নির্দেশ জারি করে।

  • বাহরাইন ও কুয়েত: এই দুই দেশেও বারবার উচ্চশব্দে সাইরেন বাজিয়ে নাগরিকদের সতর্ক করা ও নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার আহ্বান জানানো হয়।

এদিকে রিয়াদে সাধারণ নাগরিকদের জন্য সরকারি সতর্কবার্তা বন্ধ থাকলেও, দেশটিতে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন পশ্চিমা দূতাবাসগুলো নিজস্ব গোয়েন্দা তথ্য এবং সৌদি কর্তৃপক্ষের বিশেষ তথ্যের ভিত্তিতে তাদের কর্মকর্তাদের জন্য অভ্যন্তরীণভাবে রেড অ্যালার্ট জারি করে আসছিল। তবে চরম নাটকীয়তার বিষয় হলো, গত শনিবারের বিমানবন্দর হামলার আগে দূতাবাসগুলোও সৌদি কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে কোনো আগাম অভ্যন্তরীণ বার্তা বা সতর্কসংকেত পায়নি।

তবে ধারাবাহিক বিপর্যয়ের পর গত সোমবার রাতে সৌদি বেসামরিক প্রতিরক্ষা কর্তৃপক্ষ রিয়াদসহ দক্ষিণাঞ্চলীয় শহরগুলোর নাগরিকদের উদ্দেশ্যে নতুন করে সতর্কবার্তা পাঠাতে দেখা গেছে।

আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency