প্রতিবেদক: বুলবুল আহমেদ
সারাদিনের ক্লান্তি শেষে রাতে দ্রুত ঘুমাতে যাওয়া এবং সকালে সতেজ অনুভব করার বিষয়টি কেবল আলোর ওপর নির্ভর করে না; বরং ঘরের তাপমাত্রাও এতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। বিজ্ঞানীরা ধারণা করছেন, সার্কাডিয়ান রিদম বা মানুষের অভ্যন্তরীণ জৈবঘড়ি নিয়ন্ত্রণে ঘরের তাপমাত্রা আলোর মতোই প্রভাব ফেলতে পারে।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে ঘুম ও পরিবেশগত তাপমাত্রার এই গভীর সম্পর্কের বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের নৃবিজ্ঞানী গান্ধী ইয়েতিশ বলিভিয়ার আমাজন অঞ্চলের 'তসিমানে' আদিবাসী, তানজানিয়ার 'হাডজা' এবং দক্ষিণ আফ্রিকার 'সান' জনগোষ্ঠীর ঘুম এবং আচরণের ওপর দীর্ঘদিন গবেষণা করেছেন। গবেষণায় তিনি দেখতে পান, কৃত্রিম আলোর ব্যবহার না থাকলেও তাদের ঘুমাতে যাওয়ার সময় সূর্যাস্তের সঙ্গে হুবহু মেলে না। তারা সাধারণত সূর্যাস্তের কয়েক ঘণ্টা পর ঘুমাতে যান এবং সূর্য ওঠার আগেই জেগে ওঠেন।
নৃবিজ্ঞানী ইয়েতিশের মতে, সূর্যাস্ত ও সূর্যোদয়ের সঙ্গে কেবল আলোর পরিবর্তন ঘটে না, বরং তাপমাত্রারও বড় ধরণের তারতম্য ঘটে। ঘরের তাপমাত্রা এবং রাতের ঠান্ডা বাতাস ঘুম আসার প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করে।
বার্লিনের 'ইন্টারডিসিপ্লিনারি সেন্টার অব স্লিপ মেডিসিন'-এর ঘুমবিষয়ক গবেষক সেবাস্তিয়ান হারবার্গার এবং অন্যান্য বিজ্ঞানীদের গবেষণায় উঠে এসেছে গুরুত্বপূর্ণ কিছু তথ্য:
শরীরের তাপমাত্রা হ্রাস: ঘুমানোর প্রস্তুতি নেওয়ার সময় মানুষের শরীরের অভ্যন্তরীণ তাপমাত্রা কমতে শুরু করে। দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রার তুলনায় রাতে শরীরের অভ্যন্তরীণ তাপমাত্রা গড়ে প্রায় ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস কমে যায়।
মেলাটোনিন হরমোনের প্রভাব: ২০০৭ সালের এক গবেষণায় দেখা গেছে, সান্ধ্যকালীন সময়ে ঘরের তাপমাত্রা ২৭ ডিগ্রি থেকে কমিয়ে ২৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস করা হলে মেলাটোনিন (ঘুমের হরমোন) প্রবাহ বৃদ্ধি পায়, যা মানুষকে দ্রুত গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন হতে সাহায্য করে।
অতিরিক্ত গরম ঘরের কুফল: অতিরিক্ত গরম বা উষ্ণ ঘরে ঘুমালে গভীর ঘুমের (Deep Sleep) সময় কমে যায় এবং রাতে বারবার ঘুম ভেঙে যাওয়ার প্রবণতা দেখা দেয়।
অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্কাডিয়ান নিউরোসায়েন্সের অধ্যাপক রাসেল ফস্টার এবং সুইজারল্যান্ডের বাসেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রোনোবায়োলজিস্ট ক্রিশ্চিয়ান কাজোখেন জানান, মানবদেহের ঘুম, জেগে থাকা ও খাওয়ার চক্র নিয়ন্ত্রণে তাপমাত্রার ওঠানামা দারুণ প্রভাব ফেলে।
প্রশান্তিদায়ক ঘুমের জন্য শোবার ঘরের তাপমাত্রা স্বাভাবিক মাত্রায় কিছুটা ঠান্ডা ও বাতাস চলাচলের উপযোগী রাখা প্রয়োজন। এতে শরীরের তাপমাত্রা দ্রুত কমে এবং মেলাটোনিন নিঃসৃত হয়ে গভীর ও নিরবচ্ছিন্ন ঘুম নিশ্চিত করে।
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |