প্রতিবেদক: বুলবুল আহমেদ
কষ্টের অর্জিত নিজের মালিকানাধীন জমি অন্য কেউ প্রতারণা, জালিয়াতি বা বেআইনি প্রক্রিয়ায় নিজের নামে নামজারি (মিউটেশন) করিয়ে নিলে দুশ্চিন্তায় পড়ার কিছু নেই। আইনগত সঠিক ধাপ ও প্রক্রিয়া অনুসরণ করে সেই অবৈধ নামজারি বাতিল বা সংশোধনের পূর্ণাঙ্গ সুযোগ রয়েছে। তবে এর জন্য জমির মালিকানার প্রকৃত প্রমাণপত্র সংগ্রহ এবং দ্রুত যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে আইনগত আবেদন জানানো জরুরি।
আপনার স্বত্বদখলীয় জমি বেআইনিভাবে অন্যের নামে নামজারি হলে যে সমস্ত আইনি ও দাপ্তরিক পদক্ষেপ নিতে হবে, তা নিচে বিস্তারিত তুলে ধরা হলো:
আপনার জমি অন্যের নামে অবৈধভাবে নামজারি হয়েছে—এমন তথ্য পাওয়ার পরপরই সত্যতা নিশ্চিত হতে সংশ্লিষ্ট উপজেলা ভূমি অফিসে (এসি ল্যান্ড অফিস) যোগাযোগ করতে হবে। নামজারি বা বাতিলের আবেদন জানানোর আগে নিচের তথ্যগুলো সংগ্রহ করা আবশ্যক:
কার নামে বা কাদের নামে জমিটি বেআইনিভাবে নামজারি করা হয়েছে।
ওই নামজারিকৃত খতিয়ান (মিউটেশন খতিয়ান) ও দাগ নম্বর।
সহকারী কমিশনার (ভূমি) কর্তৃক প্রদত্ত নামজারি আদেশের তারিখ ও স্মারক নম্বর।
নামজারির মূল আবেদন এবং তা নিষ্পত্তির পেছনের দাখিলকৃত নথিপত্র।
অবৈধ নামজারি বাতিল বা সংশোধনের আবেদনের সাথে নিজের প্রকৃত মালিকানা প্রমাণের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রস্তুত করতে হবে:
মূল রেজিস্ট্রিকৃত খতিয়ান, মূল বা বায়া দলিল (Deed)।
সর্বশেষ মূল সিএস, এসএ, আরএস বা বিএস খতিয়ানের সত্যায়িত কপি।
উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত জমি হলে ইউপি চেয়ারম্যান/কাউন্সিলর কর্তৃক প্রদত্ত ওয়ারিশ সনদ।
প্রতিপক্ষের অনুকূলে হওয়া বেআইনি নামজারি খতিয়ান ও আদেশের সার্টিফাইড কপি।
হালনাগাদ ভূমি উন্নয়ন কর (খাজনা) পরিশোধের দাখিলা বা রসিদ।
জমিতে নিজের বাস্তব দখল ও ব্যবহারের জোরালো প্রমাণাদি।
প্রক্রিয়া চলাকালীন আপত্তি: কোনো অসাধু ব্যক্তি নামজারির আবেদন করার পর তা অনুমোদন হওয়ার প্রক্রিয়া চলমান থাকলে অবিলম্বে এসি ল্যান্ড (এসি-ল্যান্ড) অফিসে লিখিত ‘আপত্তি আবেদন’ জমা দিয়ে শুনানি গ্রহণের অনুরোধ করতে পারেন।
নামজারি সম্পন্ন হয়ে গেলে আপিল: নামজারি ইতোমধ্যেই সম্পন্ন হয়ে গেলে, আদেশের কপি পাওয়ার পর নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) বা এডিসি (রেভিনিউ)-এর নিকট অথবা নির্দিষ্ট আপিল কর্তৃপক্ষের কাছে ‘নামজারি বাতিলের আপিল’ দায়ের করতে হবে।
বিশেষ দ্রষ্টব্য: অনেকে ভুলবশত শুধু উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)-এর কাছে আবেদন করে বসে থাকেন। তবে সঠিক এখতিয়ারভুক্ত আপিল কর্তৃপক্ষ ও নির্দিষ্ট সময়সীমা জেনে নিয়ে আবেদন জমা দেওয়া অত্যন্ত জরুরি।
প্রশাসনিক বা ভূমি অফিসের আপিল প্রক্রিয়ায় সন্তোষজনক সমাধান না মিললে কিংবা জালিয়াতির মাধ্যমে তৈরি দলিলের ওপর ভিত্তি করে নামজারি করা হয়ে থাকলে বিজ্ঞ দেওয়ানি আদালতে (Civil Court) মামলা দায়ের করতে হবে। সেক্ষেত্রে পরিস্থিতি অনুযায়ী ‘ঘোষণামূলক মামলা’ (Title Suit) অথবা ‘দলিল বাতিলের মামলা’ দায়ের করা যেতে পারে।
মনে রাখা জরুরি—নামজারি মূলত রাজস্ব আদায়ের একটি প্রশাসনিক রেকর্ড মাত্র; স্রেফ নামজারি হলেই কেউ জমির চূড়ান্ত বা আইনগত মালিক হয়ে যান না। আদালতের আদেশই চূড়ান্ত মালিকানা নির্ধারণ করে।
ভূমি আইনের জটিলতা এড়াতে এবং আবেদনের স্বপক্ষে শক্তিশালী আইনি যুক্তি উপস্থাপনের জন্য একজন অভিজ্ঞ ভূমি আইন বিশেষজ্ঞ আইনজীবীর পরামর্শ নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ হবে।
১. ভূঁইফোড় নামজারির আদেশের সার্টিফাইড কপি সংগ্রহ করুন।
২. নিজের মালিকানা ও দখলের মূল কাগজপত্র প্রস্তুত করুন।
৩. নির্ধারিত সময়ে এডিসি (রেভিনিউ) বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে নামজারি আপিল মামলা করুন।
৪. জটিলতা থাকলে দেওয়ানি আদালতে স্বত্ব ঘোষণার মামলা করুন।
সঠিক কাগজপত্র ও আইনানুগ পথ অনুসরণ করলে প্রতারণামূলক বা ভুল নামজারি বাতিল করে নিজের স্বত্ব পুনরোদ্ধার করা সম্পূর্ণ সম্ভব।
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |