প্রতিবেদক: বুলবুল আহমেদ
বাংলাদেশের প্রচলিত মুসলিম পারিবারিক আইন অনুযায়ী, স্ত্রী অন্তঃসত্ত্বা থাকা অবস্থায় স্বামী কর্তৃক তাকে তালাক দেওয়া বৈধ হলেও, সেই তালাক কার্যকর হওয়া এবং পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া পালনের ক্ষেত্রে কিছু সুনির্দিষ্ট ও কঠোর নিয়ম রয়েছে। গর্ভাবস্থায় তালাকের নোটিশ প্রদান, ইদ্দতকাল ও কার্যকর হওয়ার সময়সীমা এবং সন্তান জন্মদানের পর তার হেফাজত ও ভরণপোষণ নিয়ে প্রায়ই নানা আইনি জটিলতা তৈরি হয়। নিচে এসব বিষয়ে বিস্তারিত আইনগত বিধান তুলে ধরা হলো।
সাধারণত তালাক নোটিশ পাঠানোর পর ৯০ দিন বা তিন মাস সময় গণনা করা হয়। তবে স্ত্রী অন্তঃসত্ত্বা থাকলে আইনের বিধান সম্পূর্ণ আলাদা।
বাংলাদেশের মুসলিম পারিবারিক আইন অনুযায়ী, স্ত্রী গর্ভবতী থাকা অবস্থায় তালাক দেওয়া হলে ৯০ দিন পূর্ণ হওয়া এবং সন্তান প্রসব হওয়া—এই দুইয়ের মধ্যে যেটি পরে ঘটবে, সেদিনই তালাক কার্যকর হবে। এর সহজ অর্থ হলো:
তালাক নোটিশ দেওয়ার পর ৯০ দিন অতিবাহিত হয়ে গেলেও যদি সন্তান ভূমিষ্ঠ না হয়, তবে সন্তান প্রসব না হওয়া পর্যন্ত তালাক কার্যকর হবে না।
পক্ষান্তরে, সন্তান যদি ৯০ দিন পূর্ণ হওয়ার আগেই জন্ম নেয়, তবুও তালাক অবিলম্বে কার্যকর হবে না; বরং ৯০ দিন পূর্ণ হওয়ার পরই তা কার্যকর হিসেবে গণ্য হবে।
গর্ভাবস্থায় তালাক দেওয়ার পর থেকে নিয়ে তালাক পুরোপুরি কার্যকর হওয়া (অর্থাৎ সন্তান প্রসব বা ৯০ দিন অতিক্রান্ত হওয়া) পর্যন্ত সময়কালে স্ত্রী আইনগতভাবে তার সমস্ত প্রাপ্য ভরণপোষণ পাওয়ার অধিকারী। স্বামী এই দায় এড়াতে পারেন না।
এছাড়া তালাকের নির্দিষ্ট আইনি প্রক্রিয়া অনুযায়ী, স্বামীকে তালাক উচ্চারণের পর স্থানীয় সরকার কর্তৃপক্ষ (সিটি কর্পোরেশন বা পৌরসভা বা ইউনিয়ন পরিষদ)-এর নিকট লিখিত নোটিশ প্রদান করতে হবে এবং একই নোটিশের একটি অনুলিপি স্ত্রীকে পাঠাতে হবে। এই নোটিশ পৌঁছানোর দিন থেকেই মূলত ৯০ দিনের সময়সীমা শুরু হয়।
দাম্পত্য সম্পর্ক ছিন্ন বা তালাক হয়ে গেলেও অনাগত বা জন্ম নেওয়া সন্তানের অধিকার রক্ষায় আইনে সুনির্দিষ্ট নীতিমালা রয়েছে:
সন্তানের হেফাজত বা লালন-পালন: প্রচলিত মুসলিম ব্যক্তিগত আইন অনুযায়ী, সাধারণত ছেলে সন্তানের ক্ষেত্রে ৭ বছর বয়স পর্যন্ত এবং মেয়ে সন্তানের ক্ষেত্রে সাবালিকা বা বয়ঃসন্ধিকাল পর্যন্ত মায়ের কাছে রাখার বা হেফাজতের অগ্রাধিকার আইনগতভাবে স্বীকৃত। তবে এটি চূড়ান্ত নয়; আদালতের কাছে যদি প্রতীয়মান হয় যে মায়ের কাছে থাকলে সন্তানের কল্যাণ বিঘ্নিত হতে পারে, তবে আদালত সন্তানের সর্বোত্তম স্বার্থ (Welfare of the child) বিচার করে ভিন্ন সিদ্ধান্ত দিতে পারেন।
সন্তানের ভরণপোষণ: সন্তান মায়ের হেফাজতে বা লালন-পালনে থাকলেও তার যাবতীয় ভরণপোষণের আর্থিক দায়িত্ব সম্পূর্ণভাবে বাবার ওপর বর্তায়। সন্তানের খাদ্য, পোশাক, চিকিৎসা, বাসস্থান, শিক্ষা এবং অন্যান্য দৈনন্দিন খরচ বহন করা পিতার আইনি ও ধর্মীয় দায়িত্ব। এ বিষয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কোনো বিরোধ বা জটিলতা দেখা দিলে আইনগতভাবে পারিবারিক আদালতের মাধ্যমে প্রতিকার পাওয়ার সুযোগ রয়েছে।
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |