প্রতিবেদক: বুলবুল আহমেদ
মহান আল্লাহ অত্যন্ত দয়ালু এবং তাঁর অফুরন্ত দয়ার কোনো শেষ নেই। বান্দার যেকোনো ছোট ও সাধারণ আমলেও তিনি সন্তুষ্ট হয়ে যান এবং নিজের অসীম রহমতের সাগরে জোয়ার এনে তাকে অঢেল পুরস্কার ও ধনভাণ্ডারের দরজা উন্মুক্ত করে দেন। তাই বলে মুমিনের কখনোই ছোট বা সহজ কোনো নেক আমলকে অবহেলা করা উচিত নয়। খোদ রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, কোনো সৎ কাজকেই কখনো তুচ্ছ জ্ঞান করবে না; যদিও তা হয় তোমার ভাইয়ের সঙ্গে একটি হাসিমুখে সাক্ষাৎ।
কারণ এই সহজ ও সাধারণ আমলগুলোর মাঝেই লুকিয়ে থাকে অফুরান প্রাপ্তি ও আল্লাহর সন্তুষ্টি। ইসলামের দৃষ্টিতে সহজ আমল এবং নিয়তের বিশুদ্ধতার তাৎপর্য নিচে তুলে ধরা হলো।
মনের সুনির্দিষ্ট সংকল্পই হলো নিয়ত। এতে কোনো বড় ধরনের শারীরিক কষ্ট-ক্লেশ বা কঠোর মেহনতের প্রয়োজন হয় না। কিন্তু এই নিয়ত মুমিনের ব্যক্তিগত জীবন থেকে শুরু করে যেকোনো সাধারণ কাজকে খাঁটি নেকির কাজে রূপান্তর করতে পারে। নিয়তের গুরুত্ব সম্পর্কে প্রিয়নবী (সা.) এরশাদ করেছেন—
إِنَّمَا الأَعْمَالُ بِالنِّيَّاتِ، وَإِنَّمَا لِكُلِّ امْرِئٍ مَا نَوَى...
‘নিশ্চয়ই সকল আমল নিয়তের ওপর নির্ভরশীল। আর প্রত্যেক ব্যক্তি তাই পাবে যার নিয়ত সে করবে।’ (বুখারি ১, মুসলিম ১৯০৭)
এই হাদিসের মূল শিক্ষা হলো, সওয়াবের প্রাপ্তি সম্পূর্ণভাবে মানুষের অন্তরের নিয়তের ওপর নির্ভরশীল। হিজরতের মতো গুরুত্বপূর্ণ আমলেও বাহ্যিক কাজ একই রকম হতে পারে, কিন্তু নিয়তের ভেদে তার ফলাফল সম্পূর্ণ বদলে যেতে পারে।
খাঁটি নিয়তের বরকতে মানুষ অনেক সময় কায়িক বড় আমল ছাড়াই তার পূর্ণ সওয়াব বা প্রতিদান পেয়ে যায়। এ প্রসঙ্গে নবীজি (সা.) বলেছেন—
مَنْ سَأَلَ اللَّهَ الشَّهَادَةَ بِصِدْقٍ بَلَّغَهُ اللَّهُ مَنَازِلَ الشُّهَدَاءِ، وَإِنْ مَاتَ عَلَى فِرَاشِهِ
‘যে ব্যক্তি আল্লাহর কাছে একনিষ্ঠ মনে শাহাদাতের প্রার্থনা করবে, আল্লাহ তাকে শহীদের মর্যাদা দান করবেন; যদিও সে নিজ বিছানায় মৃত্যুবরণ করে।’ (মুসলিম ১৯০৯)
অন্য এক হাদিসে তাবুক যুদ্ধের সময় ওজরবশত পেছনে থাকা সাহাবিদের সম্পর্কে রাসুল (সা.) বলেন, মদিনায় এমন কিছু মানুষ রয়েছে, যারা প্রতিটি পথে-প্রান্তরে তোমাদের সঙ্গেই ছিল। কারণ পূর্ণ নিয়ত থাকা সত্ত্বেও অসুস্থতা বা বৈধ ওযর তাদের সরাসরি অংশগ্রহণে বাধা দিয়েছিল। (মুসলিম ১৯১১)
এর বিপরীতে, অসৎ বা লৌকিকতাপূর্ণ ভ্রষ্ট নিয়তের কারণে বড় বড় ইবাদতও পুরোপুরি বরবাদ ও ধুলিসাৎ হয়ে যেতে পারে। কিয়ামতের দিন শহীদ, আলেম এবং দানবীর ব্যক্তিদের ভুল নিয়তের করুণ পরিণতির কথা হাদিসে অত্যন্ত স্পষ্টভাবে সতর্ক করা হয়েছে। লোকদেখানোর বা খ্যাতির উদ্দেশ্যে আমল করার কারণে তাদের জান্নাতে যাওয়ার পরিবর্তে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে।
হাদিসের বর্ণনায় এসেছে, কিয়ামতের দিন সর্বপ্রথম একজন শহীদকে ডাকা হবে এবং তাকে আল্লাহর দেওয়া নেয়ামতগুলো স্মরণ করিয়ে জিজ্ঞাসা করা হবে, তুমি এগুলোর বিনিময়ে কী আমল করেছ? সে যখন বলবে আপনার রাস্তায় লড়াই করে শাহাদাত বরণ করেছি, তখন আল্লাহ বলবেন, তুমি মিথ্যা বলছ; তুমি তো লড়াই করেছ যেন তোমাকে বীর উপাধি দেওয়া হয়। তা তো দেওয়া হয়েছে! অতঃপর তাকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে। একইভাবে ইলম চর্চাকারী আলেম এবং অকাতরে দানকারী বিত্তশালীদেরও লোকদেখানো নিয়তের কারণে মুখের ওপর অস্বীকার করে জাহান্নামে নিক্ষিপ্ত হওয়ার মর্মান্তিক চিত্র হাদিসে তুলে ধরা হয়েছে। (মুসলিম ১৯০৫)
অতএব, জীবনের প্রতিটি সৎ কাজে নিয়ত বিশুদ্ধ ও ইখলাসপূর্ণ রাখা অত্যন্ত জরুরি। ইখলাসের সঙ্গে পরিশুদ্ধ নিয়ত থাকলে কোনো ওযরবশত কাজ পুরোপুরি সম্পন্ন করতে না পারলেও বান্দা তার পূর্ণ সওয়াব পেয়ে যায়। আবার বিপরীতমুখী ভ্রষ্ট নিয়তের কারণে বড় আমলও পণ্ড হয়ে যায়। আল্লাহ তাআলা আমাদের প্রতিটি আমল ও ইবাদতে শতভাগ ইখলাস অর্জনের তৌফিক দান করুন। আমিন।
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |