প্রতিবেদক: বুলবুল আহমেদ
ঋতু পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে আবহাওয়ার তাপমাত্রা ও পরিবেশেও নানা পরিবর্তন আসে। বিশেষ করে আবহাওয়ায় ঠান্ডা পড়তে শুরু করলে সর্দি, কাশি, গলাব্যথা কিংবা নাক দিয়ে পানি পড়ার মতো সমস্যায় ভোগেন অনেকেই। এ সময় শরীরকে সুস্থ ও চাঙ্গা রাখতে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার (ইমিউন সিস্টেম) প্রতি বাড়তি মনোযোগ দেওয়া অত্যন্ত জরুরি। আর এ ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে আমাদের প্রতিদিনের সুষম খাদ্যাভ্যাস।
যদিও নির্দিষ্ট কোনো একটি খাবারই সব ধরনের রোগ থেকে সম্পূর্ণ সুরক্ষা দিতে পারে না, তবে ভিটামিন, খনিজ ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্টসমৃদ্ধ খাবার নিয়মিত খেলে শরীরের সংক্রমণের বিরুদ্ধে লড়াই করার সক্ষমতা বজায় থাকে। ঋতু পরিবর্তনের এই সময়ে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে খাদ্যতালিকায় রাখতে পারেন এমন ৫টি জাদুকরি খাবার:
কমলা, পাতিলেবু ও জাম্বুরার মতো লেবুজাতীয় ফলে ভরপুর পরিমাণে ভিটামিন সি রয়েছে। এই ভিটামিন শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার স্বাভাবিক কার্যক্রমে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। বিশেষ করে বিভিন্ন জীবাণুর সংক্রমণের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে প্রয়োজনীয় শ্বেত রক্তকণিকার কার্যকারিতা বজায় রাখতে ভিটামিন সি দারুণ সহায়ক। সকালের নাশতায় কমলা বা জাম্বুরা রাখা কিংবা যেকোনো পানীয়তে লেবুর রস মিশিয়ে সহজেই ভিটামিন সি-এর চাহিদা পূরণ করতে পারেন।
আমাদের রান্নার অত্যন্ত পরিচিত উপাদান রসুনে রয়েছে অ্যালিসিনসহ বিভিন্ন জৈব সক্রিয় যৌগ। এসব উপাদানের জীবাণুরোধী বৈশিষ্ট্য রয়েছে, যা সুষম খাদ্যাভ্যাসের একটি দারুণ অংশ হিসেবে কাজ করে। তরকারি, স্যুপ বা বিভিন্ন রান্নায় রসুন ব্যবহার করা যেতে পারে। রসুন কুচি বা থেঁতো করে কিছুক্ষণ রেখে রান্না করলে এর ভেতরের পুষ্টি উপাদানগুলো আরও ভালোভাবে সক্রিয় হয়।
আদা শুধু খাবারের স্বাদ ও সুবাসই বাড়ায় না, এতে রয়েছে জিঞ্জেরল-এর মতো উপাদান, যেগুলোর প্রদাহবিরোধী ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট বৈশিষ্ট্য রয়েছে। বিশেষ করে ঠান্ডা লাগলে আদা গলাব্যথা বা বমি বমি ভাবের মতো অস্বস্তি কমাতে দারুণ কার্যকর। ঋতু পরিবর্তনের এ সময়ে গরম আদা চা, স্যুপ কিংবা রান্নায় আদা যোগ করতে পারেন। গরম আদা চা গলায় আরাম দেওয়ার পাশাপাশি শরীরকে উষ্ণ রাখতেও সাহায্য করে।
আমাদের শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার সঙ্গে অন্ত্রের (Gut) স্বাস্থ্যের একটি গভীর ও ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। দইয়ে থাকা বিভিন্ন জীবিত উপকারী ব্যাকটেরিয়া অন্ত্রের স্বাভাবিক জীবাণুর ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে। প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় চিনি ছাড়া সাধারণ বা টক দই রাখতে পারেন। এর সঙ্গে চাইলে তাজা ফল, বাদাম বা সামান্য মধু মিশিয়ে খাওয়া যায়, যা প্রোটিন ও পুষ্টির জোগান বাড়ায়।
পালং শাক ভিটামিন সি, বিটা-ক্যারোটিন, ফোলেট এবং নানা ধরনের অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের চমৎকার একটি উৎস। এসব পুষ্টি উপাদান শরীরের স্বাভাবিক প্রতিরোধ ব্যবস্থা ও কোষের কার্যক্রম ঠিক রাখতে কাজ করে। বিশেষ করে বিটা-ক্যারোটিন শরীরে ভিটামিন এ তৈরি করতে সাহায্য করে, যা ত্বক ও শ্লেষ্মাঝিল্লির স্বাভাবিক সুরক্ষার জন্য জরুরি। পালং শাক ভাজি, স্যুপ বা ডালে মিশিয়ে খেতে পারেন। অল্প সময় রান্না করলে শাকের পুষ্টিগুণ অক্ষুণ্ণ থাকে।
পর্যাপ্ত পানি পান: শরীর হাইড্রেট রাখতে সারাদিন পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান করুন।
পর্যাপ্ত ঘুম ও বিশ্রাম: শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা চাঙ্গা রাখতে দৈনিক মানসম্মত ঘুম জরুরি।
ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা: নিয়মিত হাত ধোয়া এবং অসুস্থ ব্যক্তিদের সংস্পর্শে এলে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করুন।
মনে রাখবেন, পুষ্টিকর খাবার কেবল শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে সহায়তা করে; তবে তা সব রোগ নিজে থেকে প্রতিরোধ করতে পারে না। যদি দীর্ঘস্থায়ী জ্বর, তীব্র শ্বাসকষ্ট বা কোনো গুরুতর অসুস্থতার লক্ষণ দেখা দেয়, তবে অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |