প্রতিবেদক: বুলবুল আহমেদ
একটি নতুন লিমিটেড কোম্পানিতে শেয়ার ক্রয়ের মাধ্যমে অংশীদার হওয়া এবং নির্দিষ্ট কোনো বিভাগের তদারকির দায়িত্ব পালন করা জায়েজ কি না—এমন প্রশ্ন অনেকের মনেই থাকতে পারে। বিশেষ করে ফ্রোজেন ফুড বা প্রক্রিয়াজাত খাদ্যপণ্যের ব্যবসায় যুক্ত হওয়ার ক্ষেত্রে শরিয়তের মূলনীতিগুলো জানা অত্যন্ত জরুরি। এ বিষয়ে বিস্তারিত দিকনির্দেশনা দিয়েছেন বিশিষ্ট আলেম ও ইসলামি আইন বিশারদরা।
ইসলামে ব্যবসার মূল ভিত্তি হলো সততা, স্বচ্ছতা এবং হালাল-হারামের নিখুঁত বাছবিচার। যেকোনো ব্যবসায়িক উদ্যোগে অংশীদার হওয়ার ক্ষেত্রে প্রধানত কয়েকটি বিষয়ের ওপর দৃষ্টি দিতে হয়:
হালাল পণ্য ও সেবা: কোম্পানির মূল পণ্য অর্থাৎ ফ্রোজেন ফুডের উপাদান ও প্রক্রিয়াজাতকরণ সম্পূর্ণ হালাল হতে হবে। পাশাপাশি খাদ্যপণ্যটি মানুষের স্বাস্থ্য বা শরীরের জন্য ক্ষতিকর কি না, তা নিশ্চিত করাও আবশ্যক।
অবৈধ লেনদেন বর্জন: ব্যবসায়িক কার্যক্রমে সুদ, ঘুস, প্রতারণা, ধোঁকা কিংবা অন্য কোনো নাজায়েজ বা সন্দেহজনক লেনদেন থাকা যাবে না।
স্বচ্ছ চুক্তি ও অংশীদারিত্ব: অংশীদারদের মূলধন গঠন, শেয়ারের সঠিক মালিকানা, লভ্যাংশ বণ্টন, লোকসান বহন, নতুন অংশীদার গ্রহণ এবং কোনো অংশীদার ব্যবসা থেকে বের হয়ে যাওয়ার পদ্ধতি—এসব বিষয় পারস্পরিক চুক্তিতে অত্যন্ত স্পষ্টভাবে উল্লেখ থাকতে হবে এবং তা শরিয়তসম্মত হতে হবে।
অনেকের মনে ধারণা থাকতে পারে যে কোম্পানি ‘লিমিটেড’ (Limited Company) ফরম্যাটে গঠিত হলে বুঝি তার বিধান আলাদা হয়। আলেমদের মতে, কোনো ব্যবসা জায়েজ বা নাজায়েজ হওয়ার বিষয়টি শুধু কোম্পানি লিমিটেড কি না, তার ওপর নির্ভর করে না। লিমিটেড কোম্পানি হওয়া মাত্রই কোনো ব্যবসাকে অবৈধ বা নিষিদ্ধ করে দেয় না; বরং কোম্পানির আসল প্রকৃতি, ব্যবসার মূল কার্যক্রম, আর্থিক লেনদেন এবং অংশীদারদের পারস্পরিক চুক্তিগুলো শরিয়তের পরিপন্থী কি না—তার ওপরই এর সম্পূর্ণ বিধান নির্ভর করে।
আন্তর্জাতিক ইসলামী ফিকাহ একাডেমির সিদ্ধান্ত ও সংকলন ‘মাজাল্লাতু মাজমাউল ফিকহিল ইসলামী’-তে (খণ্ড ৭, পৃষ্ঠা ৪১৮) কোম্পানির শেয়ার বা অংশীদারিত্ব সম্পর্কে স্পষ্ট মূলনীতি তুলে ধরা হয়েছে: ১. মূলনীতি: লেনদেনের ক্ষেত্রে মূল বিষয় হলো হালাল বা বৈধতা। তাই বৈধ ও শরিয়তসম্মত উদ্দেশ্যে প্রতিষ্ঠিত অংশীদারি বা জয়েন্ট স্টক কোম্পানিতে অংশগ্রহণ করা জায়েজ।
২. নিষিদ্ধ ব্যবসা: যেসব কোম্পানির মূল উদ্দেশ্য বা কার্যক্রম হারাম বিষয়ের ওপর প্রতিষ্ঠিত—যেমন সুদভিত্তিক লেনদেন বা নিষিদ্ধ পণ্যের ব্যবসা করা, সেগুলোতে শেয়ার বা অংশীদারিত্ব গ্রহণ করা সর্বসম্মতভাবে হারাম।
৩. মিশ্র প্রকৃতির ব্যবসা: যেসব কোম্পানির মূল কার্যক্রম হালাল বা শরিয়তসম্মত, কিন্তু মাঝেসাঝে কিছু সুদি বা অবৈধ লেনদেনের সংমিশ্রণ ঘটে, সেগুলোতে সাধারণত শেয়ার নেওয়া নিষিদ্ধ ধরা হয়; তবে বিশেষ সংস্কারমূলক বা সংশোধনের নিয়তে অংশ নেওয়ার ক্ষেত্রে ফকিহগণের মাঝে কিছু বিস্তারিত শর্ত ও আলোচনা রয়েছে।
প্রশ্নে উল্লেখিত ফ্রোজেন ফুড কোম্পানির ক্ষেত্রে যেহেতু জানা গেছে যে এখনো কোনো ব্যাংকঋণ নেওয়া হয়নি এবং ১১ জন অংশীদার মিলে ব্যবসা পরিচালনা করবেন, তাই কোম্পানির সামগ্রিক কার্যক্রম যদি শরিয়তের বিধান মেনে পরিচালিত হয়, তবে সেখানে নির্দিষ্ট বিভাগের তদারকির দায়িত্বে থেকে শেয়ার নেওয়া জায়েজ হবে।
তবে আধুনিক ব্যবসায়িক লেনদেন, নির্দিষ্ট চুক্তিপত্র বা বিনিয়োগের পদ্ধতিতে কোনো ধরনের সংশয় বা ধোঁয়াশা থাকলে কোনো অভিজ্ঞ ও বিজ্ঞ আলেমের শরণাপন্ন হয়ে পুরো চুক্তিপত্রটি যাচাই করে নেওয়া উচিত। সুনির্দিষ্ট কোনো চুক্তি বা লেনদেনের ক্ষেত্রে বিস্তারিত তথ্য পর্যালোচনা করেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া বাঞ্ছনীয়।
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |