| বঙ্গাব্দ

রাতে ঘুম আসে না? ঘুমানোর আগে মেনে চলুন এই ৮ অভ্যাস

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 06-10-2026 ইং
  • 7696 বার পঠিত
রাতে ঘুম আসে না? ঘুমানোর আগে মেনে চলুন এই ৮ অভ্যাস
ছবির ক্যাপশন: রাতে ঘুম আসে না

ভালো ঘুমের জন্য রাতে মেনে চলতে পারেন এই ৮টি সহজ অভ্যাস

প্রতিবেদক: বুলবুল আহমেদ

দিনভর কাজের ব্যস্ততা শেষে বিছানায় গেলেও অনেকের সহজে ঘুম আসে না। কর্মক্ষেত্রের চাপ, ব্যক্তিগত দুশ্চিন্তা কিংবা ঘুমানোর আগে দীর্ঘ সময় মোবাইল ফোন ব্যবহারের কারণে রাতের স্বাভাবিক বিশ্রাম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হতে পারে। তবে জীবনযাত্রায় কিছু সহজ পরিবর্তন এনে নিয়মিত কিছু অভ্যাস অনুসরণ করলে শরীর ও মনকে সহজেই ঘুমের উপযোগী করে তোলা সম্ভব।

গভীর ও শান্তির ঘুম নিশ্চিত করতে রাতে মেনে চলতে পারেন এমন ৮টি কার্যকরী অভ্যাস:

১. স্ক্রিন বা গ্যাজেট ব্যবহার কমান

ঘুমানোর অন্তত এক ঘণ্টা আগে স্মার্টফোন, ল্যাপটপ, ট্যাবলেট বা টেলিভিশনের স্ক্রিন ব্যবহার থেকে দূরে থাকার চেষ্টা করুন। এসব ইলেকট্রনিক ডিভাইস থেকে নির্গত নীল আলো মস্তিষ্কে মেলাটোনিন হরমোনের স্বাভাবিক নিঃসরণে বাধা সৃষ্টি করে, যা আমাদের ঘুমের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই সময়ে স্ক্রিনে চোখ না রেখে কোনো ভালো বই পড়া বা শান্ত কোনো কাজে মনোযোগ দিতে পারেন।

২. কয়েক মিনিট মেডিটেশন বা ধ্যান করুন

ঘুমের আগে কিছু সময় ধ্যান বা গভীর শ্বাস-প্রশ্বাসের চর্চা করা মানসিক চাপ কমাতে দারুণ কার্যকরী। ধীরে ধীরে শ্বাস নেওয়া ও ছাড়ার অভ্যাস মনকে পুরোপুরি শান্ত করে এবং শরীরকে ঘুমের পরিবেশ তৈরি করতে সাহায্য করে।

৩. নিজের জন্য কিছুটা সময় রাখুন

ব্যস্ত দিনের শেষে নিজের মানসিক প্রশান্তির জন্য কিছু সময় বরাদ্দ করুন। ঘুমানোর আগে হালকা কুসুম গরম পানিতে গোসল শরীর ও পেশিকে আরাম দিতে পারে। পাশাপাশি ত্বকের যত্ন বা রিলাক্সিং কোনো ছোটখাটো রুটিন মনকে ফুরফুরে করতে বেশ সহায়ক।

৪. হালকা স্ট্রেচিং বা যোগব্যায়াম করুন

সারাদিন একটানা বসে কাজ করার ফলে শরীরের বিভিন্ন পেশিতে টান বা অস্বস্তি তৈরি হতে পারে। ঘুমানোর আগে খুব হালকা স্ট্রেচিং বা সহজ কিছু ইয়োগা পোজ শরীরকে শিথিল করতে সাহায্য করে। তবে মনে রাখবেন, শোবার আগে অতিরিক্ত কষ্টসাধ্য বা ভারী কোনো ব্যায়াম করা থেকে বিরত থাকাই শ্রেয়।

৫. নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমানোর অভ্যাস করুন

প্রতিদিন ঠিক একই সময়ে ঘুমাতে যাওয়া এবং সকালে নির্দিষ্ট সময়ে ঘুম থেকে ওঠার অভ্যাস গড়ে তুলুন। এই নিয়মিত রুটিন শরীরের নিজস্ব জৈবিক ঘড়ি বা সার্কাডিয়ান রিদমকে সঠিকভাবে পরিচালিত করতে সাহায্য করে, যা ভালো ঘুমের অন্যতম প্রধান শর্ত।

৬. দুশ্চিন্তা ও অতিরিক্ত ভাবনা থেকে দূরে থাকুন

ঘুমাতে যাওয়ার ঠিক আগে কাজের চাপ, পড়াশোনা বা ব্যক্তিগত কোনো সমস্যা নিয়ে অতিরিক্ত চিন্তা করা ঘুমের বড় অন্তরায়। তাই শোওয়ার আগে মনকে যথাসম্ভব চিন্তামুক্ত ও শান্ত রাখার চেষ্টা করুন। প্রয়োজনে ডায়েরিতে মনের কথা লিখে কিংবা গভীর শ্বাস নিয়ে মস্তিষ্ককে হালকা করে নিতে পারেন।

৭. ঘরের পরিবেশ আরামদায়ক ও উপযোগী রাখুন

একটি শান্তির ঘুম নিশ্চিত করার জন্য আপনার শোবার ঘরটি ঠান্ডা, নীরব এবং যথাসম্ভব অন্ধকার রাখা অত্যন্ত জরুরি। বেডরুমে অতিরিক্ত উজ্জ্বল আলোর বদলে নরম বা ডিমিং আলো ব্যবহার করতে পারেন। এছাড়া একটি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন ও পরিপাটি ঘর মনে পজিটিভ প্রভাব ফেলে।

৮. ঘুমকে জীবনের অন্যতম অগ্রাধিকার দিন

ঘুমকে কেবল একটি দিনের অবসান বা ক্লান্তি দূর করার মাধ্যম হিসেবে দেখবেন না; এটি শরীর ও মস্তিষ্কের পুনরুজ্জীবন ও মেরামতের সময়। প্রতিদিন রাতে একই ধরনের শান্ত ও স্বস্তিদায়ক রুটিন মেনে চললে শরীর নিজেই ধীরে ধীরে ঘুমের জন্য প্রস্তুত হতে অভ্যস্ত হয়ে ওঠে।

বিশেষ পরামর্শ:

মনে রাখবেন, এসব অভ্যাস সবার ক্ষেত্রে সমানভাবে কার্যকর নাও হতে পারে। পর্যাপ্ত সময় ঘুমানোর চেষ্টা করার পরও যদি আপনার নিয়মিত তীব্র ঘুমের সমস্যা দেখা দেয় বা এর কারণে দৈনন্দিন কার্যক্রম ব্যাহত হয়, তবে দেরি না করে অবশ্যই একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency