গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তিতে দেশের স্বার্থ রক্ষাকেই সর্বোচ্চ প্রাধান্য দেওয়া হবে: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী
ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যকার ঐতিহাসিক গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তির ভবিষ্যৎ নবায়ন এবং আন্তর্জাতিক নদীর পানিবণ্টন সংক্রান্ত যেকোনো যৌথ আলোচনায় জাতীয় ও ভৌগোলিক স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে সরকার। গতকাল পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক বিশেষ সংবাদ ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ কথা জানান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। ২০২৬ সালে বিদ্যমান ৩০ বছর মেয়াদী গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তির মেয়াদ শেষ হতে চলায়, কৌশলগত আলোচনা ও দেশের ন্যায্য পানির হিস্যা নিশ্চিত করতে সরকার ইতিমধ্যেই বহুমাত্রিক প্রস্তুতি শুরু করেছে।
চুক্তি পর্যালোচনা ও জাতীয় অগ্রাধিকারসমূহ
সংবাদ ব্রিফিংয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী জানান, উজান ও ভাটির অববাহিকায় পানির ন্যায়সংগত বণ্টন নিশ্চিত করতে কারিগরি ও কূটনৈতিক উভয় পর্যায় থেকেই তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করা হচ্ছে।
ন্যায্য হিস্যা নিশ্চিতকরণ: গঙ্গা নদী থেকে শুষ্ক মৌসুমে নির্ধারিত পরিমাণ পানি প্রবাহ বজায় রাখা এবং শুষ্ক মৌসুমের সংকট নিরসনে পদক্ষেপ গ্রহণ।
কারিগরি কমিটির বিশ্লেষণ: যৌথ নদী কমিশনের (জেআরসি) মাধ্যমে গত তিন দশকের পানির প্রবাহের তথ্য উপাত্ত যাচাই-বাছাই করা।
পরিবেশ ও কৃষির সুরক্ষার অগ্রাধিকার: সুন্দরবনসহ দক্ষিণাঞ্চলের কৃষি, পরিবেশ ও নদী ব্যবস্থার পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষায় প্রয়োজনীয় পানির প্রবাহ সুসংহত করা।
এক নজরে গঙ্গা চুক্তি পুনর্নবায়ন প্রসঙ্গ
বিষয়: ভারত-বাংলাদেশ গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তি পর্যালোচনা ও নবায়ন
মূল ভিত্তি: বাংলাদেশের ভৌগোলিক, অর্থনৈতিক ও পরিবেশগত স্বার্থ
দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থা: পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও যৌথ নদী কমিশন (JRC)
প্রধান লক্ষ্য: টেকসই নদী ব্যবস্থাপনা ও ন্যায্য পানির হিস্যা অর্জন
কূটনৈতিক আলোচনা ও যৌথ নদী কমিশন
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন যে, নদীর অববাহিকাভিত্তিক সমন্বিত ব্যবস্থাপনার জন্য প্রতিবেশী দেশ ভারতের সাথে কূটনৈতিক যোগাযোগ বজায় রাখা হচ্ছে। যৌথ নদী কমিশনের পরবর্তী বৈঠকে উভয় দেশের প্রতিনিধি দল পানির বাস্তব অবস্থা ও চুক্তির শর্তাবলি পর্যালোচনার টেবিলে উত্থাপন করবে।
অভিন্ন নদীর সমন্বিত ব্যবস্থাপনা
কেবল গঙ্গা নদীই নয়, বরং দুই দেশের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত অন্যান্য অভিন্ন নদীর পানিবণ্টন এবং তিস্তা চুক্তি সম্পাদনের বিষয়েও আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী বাংলাদেশের কৌশলগত অবস্থান বজায় থাকবে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী।