| বঙ্গাব্দ

এলপিজি ও অটোগ্যাসের দাম বাড়ল যেসব কারণে

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 05-10-2026 ইং
  • 5696 বার পঠিত
এলপিজি ও অটোগ্যাসের দাম বাড়ল যেসব কারণে
ছবির ক্যাপশন: এলপিজি ও অটোগ্যাসের দাম বাড়ল

১২ কেজি এলপিজির দাম বাড়িয়ে ১,৮৩৭ টাকা নির্ধারণ করল বিইআরসি: অটোগ্যাসের দামও বৃদ্ধি

প্রতিবেদক: বুলবুল আহমেদ

খুচরা পর্যায়ে ১২ কেজি এলপিজি (লিকার পেট্রোলিয়াম গ্যাস) সিলিন্ডারের দাম এক লাফে ২৫২ টাকা বাড়িয়ে ১ হাজার ৮৩৭ টাকা নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। এর ফলে গৃহস্থালিতে ব্যবহৃত এই জ্বালানিটির দাম সাধারণ মানুষের জন্য আরও নাগালের বাইরে চলে গেল। একই সঙ্গে যানবাহনে বহুল ব্যবহৃত অটোগ্যাসের দামও লিটারপ্রতি প্রায় ১২ টাকা বাড়ানো হয়েছে। গত রোববার (৪ অক্টোবর) সন্ধ্যা ৬টা থেকেই নতুন এই দাম কার্যকর হয়েছে।

দাম বাড়ার সুনির্দিষ্ট কারণ

এলপিজির দাম এতটা হুট করে বাড়ার পেছনে আন্তর্জাতিক বাজারের বিভিন্ন নির্দেশককে দায়ী করেছে বিইআরসি। সংস্থাটির ব্যাখ্যা অনুযায়ী—

  • সৌদি সিপি বৃদ্ধি: আন্তর্জাতিক বাজারে সৌদি আরামকোর অক্টোবর মাসের প্রোপেন ও বিউটেনের সৌদি কনট্রাক্ট প্রাইস (সিপি)-এর ভিত্তিতে নতুন এই দাম সমন্বয় করা হয়েছে। অক্টোবরে প্রোপেনের সৌদি সিপি প্রতি টন ৬৮০ ডলার এবং বিউটেনের ৭৩০ ডলার নির্ধারণ করা হয়েছে। ৩৫:৬৫ অনুপাতে প্রোপেন ও বিউটেনের এই গড় মূল্য দাঁড়ায় প্রতি টন ৭১২ দশমিক ৫০ ডলার। অথচ এর আগের মাস সেপ্টেম্বরে এই গড় সিপি ছিল ৬৪৭ দশমিক ৭৫ ডলার। অর্থাৎ এক মাসের ব্যবধানে টনপ্রতি গড় সিপি বেড়েছে ৬৪ দশমিক ৭৫ ডলার।

  • জাহাজ ভাড়া ও প্রিমিয়াম বৃদ্ধি: অক্টোবরের মূল্য সমন্বয়ের সময় এলপিজি আমদানির জাহাজ ভাড়া এবং ব্যবসায়ীদের প্রিমিয়াম বাবদ টনপ্রতি ২৫০ ডলার ধরেছে বিইআরসি, যা সেপ্টেম্বরে ছিল ১৬০ ডলার। অর্থাৎ শুধু জাহাজ ভাড়া ও প্রিমিয়াম বাবদই টনপ্রতি ৯০ ডলার বেড়েছে।

  • বিনিময় হার: অক্টোবরে এলপিজির দাম নির্ধারণের ক্ষেত্রে ডলারের গড় বিনিময় হার ১২৩ টাকা ১৮ পয়সা হিসাব করা হয়েছে (সেপ্টেম্বরে যা ছিল ১২৩ টাকা ৩০ পয়সা)।

অটোগ্যাসের নতুন দাম

এলপিজির পাশাপাশি যানবাহনে ব্যবহৃত অটোগ্যাসের দামও উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বাড়ানো হয়েছে। প্রতি লিটার অটোগ্যাসের দাম ৭৩ টাকা ৯ পয়সা থেকে বাড়িয়ে নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৮৪ টাকা ৬২ পয়সা।

সরকারি দাম বনাম বাজারের বাস্তব চিত্র

বিইআরসি সিলিন্ডারের দাম ১ হাজার ৮৩৭ টাকা নির্ধারণ করলেও ভোক্তাদের জন্য এই সুফল পাওয়া বেশ কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের বেশিরভাগ এলাকায় ১২ কেজির একটি সিলিন্ডারের জন্য সাধারণ মানুষকে এখনো ২ হাজার ২০০ থেকে ২ হাজার ৫০০ টাকা পর্যন্ত গুনতে হচ্ছে বলে ব্যাপক অভিযোগ রয়েছে। বিশেষ করে অটোগ্যাসের দাম বাড়ার ফলে সরাসরি এর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে দেশের পরিবহন খাতেও। রান্নার কাজে ব্যবহৃত এলপিজির অতিরিক্ত দামের কারণে শুধু সাধারণ গৃহস্থালি গ্রাহকেরাই নন, বরং হোটেল-রেস্তোরাঁসহ বিভিন্ন বাণিজ্যিক ব্যবহারকারীরাও বড় ধরনের আর্থিক চাপের মুখে পড়েছেন।

বাজার নিয়ে ব্যবসায়ীদের পরস্পরবিরোধী অভিযোগ

এদিকে এলপিজির চলমান এই অস্থিরতা ও সংকটের জন্য ব্যবসায়ী এবং আমদানিকারকরা পরস্পরকে দোষারোপ করছেন। এলপিজি ব্যবসায়ী সমবায় সমিতির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে যে, গত ২০ সেপ্টেম্বরের পর থেকেই আমদানিকারকরা গ্যাস সরবরাহ প্রায় ৮০ শতাংশ কমিয়ে দিয়েছেন এবং ২৫ সেপ্টেম্বরের পর কিছু কিছু ডিপো থেকে সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ রাখা হয়েছিল।

অন্যদিকে, বাজারে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টির এই অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন আমদানিকারকরা। তাদের পাল্টা দাবি, বাজারে এই কৃত্রিম সংকট তৈরি করার পেছনে মূল ভূমিকা পালন করছেন ডিলার ও খুচরা ব্যবসায়ীরাই। সব মিলিয়ে সরকারের নতুন দাম নির্ধারণের পরও দেশের এলপিজির বাজার ও সরবরাহ ব্যবস্থা এখনো বেশ অস্থিতিশীল রয়েছে।

আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency