| বঙ্গাব্দ

গালিগালাজ করলে কি অজু ভেঙে যায়?

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 30-09-2026 ইং
  • 15969 বার পঠিত
গালিগালাজ করলে কি অজু ভেঙে যায়?
ছবির ক্যাপশন: গালিগালাজ করলে কি অজু ভেঙে যায়?

অজু করার পর গালি দিলে কি অজু ভেঙে যায়? জেনে নিন ফিকহি বিধান

প্রতিবেদক: বুলবুল আহমেদ

পবিত্রতা অর্জন মুমিনের জীবনের এক অনুপম সৌন্দর্য। আত্মাকে স্নিগ্ধ রাখা এবং প্রভুর দরবারে সিজদানত হওয়ার প্রাথমিক চাবিকাঠি হলো অজু। কেবল নামাজ বা কুরআন তিলাওয়াতই নয়, সার্বক্ষণিক অজু অবস্থায় থাকার আত্মিক ও মানসিক ফজিলত অপরিসীম। পবিত্রতা অবলম্বনকারীদের ভালোবেসে আল্লাহ তাআলা পবিত্র কুরআনে ইরশাদ করেন—

إِنَّ اللَّهَ يُحِبُّ التَّوَّابِينَ وَيُحِبُّ الْمُتَطَهِّرِينَ

‘নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলা তওবাকারী এবং পবিত্রতা অবলম্বনকারীদের ভালোবাসেন।’ (সুরা বাকারা: আয়াত ২২২)

গালি দিলে কি অজু ভেঙে যায়? ফিকহি বিধান

দৈনন্দিন জীবনে রাগ কিংবা অসাবধানতাবশত অজুর পর মুখ থেকে অশালীন বাক্য বা গালি বের হয়ে গেলে অনেকের মনেই এই সংশয় জাগে যে অজু ভেঙে গেল কি না।

ইসলামি ফিকহি বিধান অনুযায়ী, অজু করার পর কাউকে গালি দিলে সরাসরি অজু ভেঙে যায় না। শরিয়তে অজু ভেঙে যাওয়ার নির্দিষ্ট কিছু শারীরিক কারণ নির্ধারিত রয়েছে। যেহেতু গালি দেওয়া বা অশালীন কথা বলা অজু ভঙ্গের কারণগুলোর অন্তর্ভুক্ত নয়, তাই গালি দিলেও অজুর শারীরিক পবিত্রতা নষ্ট হয় না।

তবে বাহ্যিক অজু বহাল থাকলেও গালি দেওয়ার মতো পাপ কাজের কারণে অজুর আধ্যাত্মিক নুর, সওয়াব ও পবিত্রতার মাহাত্ম্য বা বরকত অনেকাংশে কমে যায়। এ জন্য বিজ্ঞ আলেমদের পরামর্শ হলো— এমন অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি ঘটলে তওবা করে নতুন করে আবার অজু করে নেওয়া উত্তম।

ইসলামে গালি দেওয়া ও কষ্ট দেওয়ার ভয়াবহতা

অজু না ভাঙলেও কাউকে গালি দেওয়া বা অশালীন ভাষা ব্যবহার করা ইসলামে একটি অত্যন্ত গর্হিত ও কবিরা গুনাহের কাজ। কোনো যৌক্তিক বা অযৌক্তিক কারণেই ইসলামে অন্যকে গালি দেওয়ার বিন্দুমাত্র অনুমতি নেই। এমনকি ঠাট্টা-মশকরা কিংবা হাসি-কৌতুকের ছলেও কাউকে গালিগালাজ করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ ও নিন্দনীয়।

কাউকে গালি দেওয়া বা মুখে কষ্ট দেওয়ার ভয়াবহতা সম্পর্কে পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তাআলা সতর্ক করে বলেছেন—

وَالَّذِينَ يُؤْذُونَ الْمُؤْمِنِينَ وَالْمُؤْمِنَاتِ بِغَيْرِ مَا اكْتَسَبُوا فَقَدِ احْتَمَلُوا بُهْتَانًا وَإِثْمًا مُّبِينًا

‘যারা বিনা অপরাধে ইমানদার পুরুষ ও নারীদের কষ্ট দেয়, তারা অবশ্যই মিথ্যা অপবাদ এবং স্পষ্ট অপরাধের বোঝা বহন করে।’ (সুরা আল-আহজাব: আয়াত ৫৮)

পরিশেষে, অজু কেবল শারীরিক পরিচ্ছন্নতার মাধ্যম নয়, এটি মুমিনের আত্মিক উৎকর্ষ সাধনেরও একটি বড় উপায়। তাই বাহ্যিক পবিত্রতা রক্ষার পাশাপাশি মুখের ভাষাকেও সংযত রাখা জরুরি। সব ধরনের অশ্লীলতা ও গালিগালাজ থেকে দূরে থেকে নিজেদের জীবনকে ইবাদত ও সুন্দরের আলোয় আলোকিত করাই প্রকৃত মুমিনের বৈশিষ্ট্য।

আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency