| বঙ্গাব্দ

উপজেলা তদন্ত কমিটি সত্যতা পেলেও এলজিইডির তদন্তে ভিন্ন তথ্য

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 27-09-2026 ইং
  • 4761 বার পঠিত
উপজেলা তদন্ত কমিটি সত্যতা পেলেও এলজিইডির তদন্তে ভিন্ন তথ্য
ছবির ক্যাপশন: সত্যতা পেলেও এলজিইডির তদন্তে ভিন্ন তথ্য

টাঙ্গাইলে সেতু নির্মাণে বাঁশ ব্যবহারের অভিযোগ: দুই তদন্তে ভিন্ন তথ্যে রহস্য

প্রতিবেদক: বুলবুল আহমেদ

টাঙ্গাইলের বাসাইলে প্রায় ১০ কোটি ১০ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন একটি সেতুর ফুটপাতের স্ল্যাব ঢালাইয়ে রডের পরিবর্তে বাঁশ ব্যবহারের গুরুতর অভিযোগ নিয়ে দেশজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছিল। সংবাদমাধ্যমে খবর প্রকাশের পর নড়েচড়ে বসে প্রশাসন। বিষয়টির সত্যতা যাচাইয়ে উপজেলা প্রশাসন ও স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) পৃথক দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। তবে আশ্চর্যের বিষয় হলো, দুই তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে দুই রকম তথ্য উঠে এসেছে, যা নিয়ে নতুন করে আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

উপজেলা প্রশাসনের গঠিত তদন্ত কমিটি সরেজমিন পরিদর্শনে গিয়ে নকশা ও স্পেসিফিকেশন অনুযায়ী রডের পরিমাণ কম থাকা এবং ঢালাইয়ের পুরুত্বে অনিয়মের পাশাপাশি বাঁশ ব্যবহারের সত্যতা পায়। গত সোমবার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ইকবাল হোসেন স্বাক্ষরিত তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি এই প্রতিবেদন দেয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, স্পেসিফিকেশনে যেখানে ১০টি ও ৫টি করে মোট ১৫টি রড থাকার কথা, সেখানে পাওয়া গেছে মাত্র ৪টি ও ৪টি করে মোট ৮টি রড! এছাড়া ৪ ইঞ্চি পুরুত্বের ঢালাইয়ের স্থানে পাওয়া গেছে মাত্র আড়াই থেকে ৩ ইঞ্চি। নিয়ম অনুযায়ী স্ল্যাব অন্য স্থানে ঢালাই করে সেতুর ওপর স্থাপন করার কথা থাকলেও তা করা হয়নি; উপরন্তু কর্তৃপক্ষের চোখ ফাঁকি দিয়ে রাতে এই নিম্নমানের ঢালাইয়ের কাজ করা হয়। রড কম দেওয়ার কারণে স্ল্যাবের নিচে ফাঁকা স্থানে সাপোর্ট হিসেবে বাঁশের ফালি ব্যবহার করা হয়েছিল বলে জানিয়েছে উপজেলা কমিটি।

এলজিইডির তদন্তে ভিন্ন চিত্র:

এদিকে, সম্পূর্ণ বিপরীত চিত্র উঠে এসেছে এলজিইডির নিজস্ব তদন্তে। গত বৃহস্পতিবার এলজিইডির ঢাকা অঞ্চলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আবুল মনজুর মো. ছাদেক প্রধান প্রকৌশলীর কাছে যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছেন, তাতে ‘রডের পরিবর্তে বাঁশ ব্যবহারের’ সরাসরি কোনো সত্যতা পাওয়া যায়নি বলে জানানো হয়।

প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, মূল ঢালাইয়ে নয়, বরং স্ল্যাবের নিচে শাটারিং বা কাঠামোগত কাজের সহযোগিতার জন্য বাঁশ ব্যবহার করা হয়েছিল। তবে তদন্তে এও স্বীকার করা হয়েছে যে, সেতুর নির্মাণকাজে সুনির্দিষ্ট স্পেসিফিকেশন পুরোপুরি মানা হয়নি এবং যথাযথ অনুমোদন ছাড়াই কাজের পদ্ধতিতে পরিবর্তন আনা হয়েছে।

একই ঘটনায় গঠিত দুটি ভিন্ন সংস্থার দুটি বিপরীতমুখী প্রতিবেদনে জনমনে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। কোটি টাকার এই সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পে অনিয়মের প্রকৃত সত্য উদঘাটন এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় এলাকাবাসী।

আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency