| বঙ্গাব্দ

বিশ্ব ইজতেমার তারিখ ঘোষণাসহ সাদপন্থিদের ৭ দফা দাবি

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 13-09-2026 ইং
  • 13748 বার পঠিত
বিশ্ব ইজতেমার তারিখ ঘোষণাসহ সাদপন্থিদের ৭ দফা দাবি
ছবির ক্যাপশন: বিশ্ব ইজতেমার তারিখ ঘোষণাসহ সাদপন্থিদের ৭ দফা দাবি

বিশ্ব ইজতেমার তারিখ ঘোষণাসহ সাদপন্থিদের ৭ দফা দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক: বুলবুল আহমেদ
প্রকাশ: ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

টঙ্গীর বিশ্ব ইজতেমা ময়দানে আগামী ইজতেমার তারিখ দ্রুত ঘোষণা, ময়দান সরকারের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে তাবলিগের দুই পক্ষকে সমান সুযোগ দেওয়া এবং কাকরাইল মসজিদ বুঝিয়ে দেওয়াসহ সাত দফা দাবি জানিয়েছে তাবলিগ জামাত বাংলাদেশের সাদপন্থি অনুসারীরা।

পাশাপাশি ২০১৮ ও ২০২৪ সালে টঙ্গীর ইজতেমা ময়দানে সংঘটিত সংঘর্ষের ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলাগুলো নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রকৃত দোষীদের আইনের আওতায় আনার দাবিও জানিয়েছে তারা।

রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি তুলে ধরা হয়। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন শফিক বিন নাঈম।

লিখিত বক্তব্যে সাদপন্থিদের পক্ষ থেকে বলা হয়, তাবলিগ জামাত দীর্ঘদিন ধরে অহিংস, শান্তিপূর্ণ ও অরাজনৈতিক ধর্মীয় মেহনত হিসেবে পরিচালিত হয়ে আসছে। তবে ২০১৮ সাল থেকে দুই পক্ষের বিরোধকে কেন্দ্র করে বিভাজন ও সংঘাতের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

সাদপন্থিদের অভিযোগ, জুবায়েরপন্থি হিসেবে পরিচিত একটি পক্ষ বিভিন্ন সংগঠন ও ব্যানারের মাধ্যমে তাদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে। এতে তাবলিগের পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে দাবি করেন তারা।

টঙ্গী ময়দান নিয়ে সাদপন্থিদের দাবি

সংবাদ সম্মেলনে টঙ্গীর বিশ্ব ইজতেমা ময়দানের মালিকানা ও ব্যবহার নিয়েও নিজেদের অবস্থান তুলে ধরেন সাদপন্থিরা।

তাদের দাবি, ১৯৯৫ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া ইজতেমা ও অন্যান্য ধর্মীয় কার্যক্রমের জন্য টঙ্গীর প্রায় ১৬০ একর জমি স্থায়ীভাবে ব্যবহারের অনুমোদন দিয়েছিলেন। তাদের বক্তব্য, ময়দানের মালিকানা সরকারের। তাই কোনো নির্দিষ্ট পক্ষের একক নিয়ন্ত্রণে না রেখে তাবলিগের দুই পক্ষকেই সমানভাবে ব্যবহারের সুযোগ দিতে হবে।

তারা আরও বলেন, প্রতিবছর বিপুলসংখ্যক দেশি মুসল্লি ও বিদেশি অতিথি বিশ্ব ইজতেমায় অংশ নেন। ফলে টঙ্গী ময়দানের বাইরে ইজতেমা আয়োজন করা হলে বিদেশি অতিথিদের জন্য নানা ধরনের সমস্যার সৃষ্টি হতে পারে এবং দেশের ভাবমূর্তিও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

২০১৮ ও ২০২৪ সালের সংঘর্ষের তদন্ত দাবি

২০১৮ সালের ১ ডিসেম্বরের সংঘর্ষের প্রসঙ্গ তুলে সাদপন্থিরা দাবি করেন, তাদের জোড় কর্মসূচিতে বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে ওই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে তাদের দুই সাথী ইসমাইল মন্ডল ও শামসুদ্দিন বেলাল নিহত হন বলে সংবাদ সম্মেলনে দাবি করা হয়।

তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, ওই ঘটনায় তাদের পক্ষের কয়েকজন মুরব্বির বিরুদ্ধে মামলা হলেও সিআইডি ও পরবর্তী সময়ে পিবিআই তদন্ত করে ফাইনাল রিপোর্ট দিয়েছে। এরপরও তাদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তারা।

২০২৪ সালের ১৮ ডিসেম্বরের ঘটনাতেও নিজেদের দায় অস্বীকার করে সাদপন্থিরা। তাদের দাবি, ১৪ ডিসেম্বর গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে দুই পক্ষের পাশাপাশি রাজনৈতিক ও সামাজিক পর্যায়ের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। সেখানে জুবায়েরপন্থিদের ময়দান ছাড়ার বিষয়ে লিখিত অঙ্গীকার নেওয়া হয়েছিল বলে তারা দাবি করেন।

সাদপন্থিদের ভাষ্য, পরবর্তীতে ১৫ ডিসেম্বর ময়দান না ছাড়াকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা তৈরি হয় এবং ১৮ ডিসেম্বর সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনায় বেলাল হোসেন নিহত হন বলে তারা জানান। তবে তদন্ত শেষ হওয়ার আগে কাউকে ঘটনার জন্য দায়ী না করার আহ্বান জানিয়েছে তারা।

মুচলেকা দেওয়ার দাবি প্রত্যাখ্যান

টঙ্গী ইজতেমা ময়দানে ভবিষ্যতে ইজতেমা আয়োজন না করার বিষয়ে তারা কোনো মুচলেকা দিয়েছে—এমন দাবিও প্রত্যাখ্যান করেছে সাদপন্থিরা।

তাদের বক্তব্য, ২০২৫ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি প্রশাসনের কাছ থেকে ময়দানের মালামাল বুঝে নেওয়ার জন্য তাদের পক্ষ থেকে দুজনকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। তবে তারা ইজতেমা না করার কোনো মুচলেকা দেননি।

সংবাদ সম্মেলনে আরও দাবি করা হয়, ২০২৫ সালের ২৮ জানুয়ারি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে দেওয়া চিঠিতে আগের একটি পত্রে থাকা শর্তের সঙ্গে তারা একমত নয় বলে জানানো হয়েছিল। পরবর্তী চিঠিতে ওই শর্ত উল্লেখ না থাকায় মুচলেকা নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ তাদের।

মাওলানা সাদকে নিয়ে অভিযোগ প্রত্যাখ্যান

মাওলানা সাদকে ঘিরে বিভিন্ন অভিযোগও প্রত্যাখ্যান করেছে সাদপন্থি অনুসারীরা। তাদের দাবি, তিনি নিজেকে আমির ঘোষণা করেছেন, আল্লাহ ও নবীর শানে অবমাননাকর বক্তব্য দিয়েছেন কিংবা আলেম-ওলামাদের সম্পর্কে আপত্তিকর মন্তব্য করেছেন—এ ধরনের অভিযোগ ভিত্তিহীন।

তারা এসব অভিযোগের বিষয়ে মাওলানা সাদকে বাংলাদেশে এনে আলেম-ওলামা, পীর-মাশায়েখ, প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দেওয়ার দাবি জানায়।

কাকরাইল মসজিদ নিয়েও দাবি

কাকরাইল মসজিদ নিয়েও নিজেদের অবস্থান তুলে ধরে সাদপন্থিরা। তাদের দাবি, ‘তাবলিগ জামাত বাংলাদেশ’-এর নামে মসজিদটি স্থায়ী বন্দোবস্ত দেওয়া হয়েছে। তাই মসজিদটি তাদের বুঝিয়ে দেওয়ার দাবি জানান তারা।

একই সঙ্গে দেশের মসজিদগুলোতে তাবলিগের দুই পক্ষের কেউ যেন অন্য পক্ষের দাওয়াত ও কার্যক্রমে বাধা দিতে না পারে, সে বিষয়ে সরকারি নির্দেশনা চেয়েছে তারা।

তাবলিগের দুই পক্ষকে টঙ্গী ময়দানে পৃথকভাবে ইজতেমা করার সুযোগ দেওয়ার প্রস্তাবও দিয়েছে সাদপন্থিরা। তাদের দাবি, গত কয়েক বছর নিজামুদ্দিন অনুসারীরা দ্বিতীয় ধাপে ইজতেমা করায় এবার তাদের প্রথম ধাপে ইজতেমা আয়োজনের সুযোগ দেওয়া উচিত।

সাত দফা দাবিতে যা রয়েছে

সংবাদ সম্মেলনে সাদপন্থিদের উত্থাপিত দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—

১. আগামী বিশ্ব ইজতেমার তারিখ দ্রুত ঘোষণা করা।
২. টঙ্গী ইজতেমা ময়দান সরকারের নিয়ন্ত্রণে নেওয়া।
৩. তাবলিগের দুই পক্ষকে ময়দান ব্যবহারে সমান সুযোগ দেওয়া।
৪. কাকরাইল মসজিদ তাদের বুঝিয়ে দেওয়া।
৫. দেশের সব মসজিদে বাধাহীনভাবে তাবলিগের কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ নিশ্চিত করা।
৬. অপপ্রচারকারীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া।
৭. তাবলিগের বিরোধকে কেন্দ্র করে সংঘটিত বিভিন্ন ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত করা।

এ ছাড়া ২০১৮ ও ২০২৪ সালের সংঘর্ষের ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলাগুলো নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রকৃত দোষীদের আইনের আওতায় আনার আহ্বান জানানো হয়।

সূত্র: সংবাদ সম্মেলনে দেওয়া লিখিত বক্তব্য

আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency