নিজস্ব প্রতিবেদক: বুলবুল আহমেদ
প্রকাশ: ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য নতুন বেতন কাঠামো অনুমোদনের প্রায় দুই সপ্তাহ পার হলেও এখনো এর প্রজ্ঞাপন বা গেজেট প্রকাশ হয়নি। এতে সরকারি চাকরিজীবীদের মধ্যে অপেক্ষা ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে গেজেট প্রকাশ না হওয়ায় কেউ কেউ প্রক্রিয়াটি নতুন কোনো জটিলতায় পড়েছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন।
এক সরকারি কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, অনুমোদনের পর দ্রুত গেজেট প্রকাশের কথা শোনা গেলেও দুই সপ্তাহ পেরিয়ে গেছে। এখনো দৃশ্যমান অগ্রগতি না থাকায় কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে এক ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
গত ৩১ আগস্ট নতুন জাতীয় বেতন কাঠামোর অনুমোদন দেয় সরকার। মন্ত্রিসভায় অনুমোদনের পর দ্রুত প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে বলে সংশ্লিষ্ট পর্যায় থেকে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছিল। তবে এখন পর্যন্ত গেজেট প্রকাশ না হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে আলোচনা চলছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, মন্ত্রিসভার অনুমোদনের পর সরাসরি গেজেট প্রকাশ করা হয় না। এর আগে বেতন কাঠামোর বিস্তারিত বাস্তবায়ন পদ্ধতি নির্ধারণসহ বেশ কিছু প্রশাসনিক ও আইনি কাজ সম্পন্ন করতে হয়।
নতুন কাঠামোতে বিভিন্ন গ্রেডের বেতন, ভাতা এবং অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা কীভাবে কার্যকর হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত নির্দেশনা প্রজ্ঞাপনে অন্তর্ভুক্ত করতে হয়। এ কারণে অনুমোদনের পর চূড়ান্ত নথি প্রস্তুত করতে সময় প্রয়োজন হয়।
সাবেক সচিব ড. মো. আনোয়ার উল্ল্যাহর বক্তব্য অনুযায়ী, শুধু বেসামরিক কর্মকর্তা-কর্মচারী নয়—সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনী, বিজিবি, পুলিশ, সরকারি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের ক্ষেত্রেও নতুন কাঠামো কীভাবে কার্যকর হবে, তা স্পষ্ট করা প্রয়োজন। ফলে পুরো প্রক্রিয়াটি বেশ বিস্তৃত।
খসড়া প্রস্তুতের পর আইন মন্ত্রণালয়ের ভেটিংয়ের প্রয়োজন হয়। সেখানে প্রস্তাবিত বিধান বিদ্যমান আইন ও সংবিধানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না, পাশাপাশি ব্যবহৃত আইনি ভাষা ও পরিভাষা যথাযথ কি না—এসব বিষয় যাচাই করা হয়।
বিভিন্ন প্রতিবেদনে খসড়া আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানোর কথা বলা হলেও সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, রোববার পর্যন্ত এটি সেখানে পৌঁছায়নি।
আইন মন্ত্রণালয়ের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, আগের সপ্তাহে খসড়াটি ভেটিংয়ের জন্য পাঠানোর কথা জানানো হয়েছিল। তবে রোববার পর্যন্ত মন্ত্রণালয়টি খসড়াটি পায়নি।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা অবশ্য বিষয়টিকে কোনো ধরনের স্থবিরতা হিসেবে দেখছেন না। তার ভাষ্য, গেজেট প্রকাশের আগে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি ও কারিগরি কাজ চলছে। বিভিন্ন শ্রেণির কর্মকর্তা-কর্মচারীর বেতন-ভাতা এবং অন্যান্য সুবিধা বাস্তবায়নের নির্দেশনা চূড়ান্ত করার কাজও চলছে। প্রস্তুতি শেষ হলে খসড়াটি আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে।
সরকারি চাকরিজীবীদের সর্বশেষ জাতীয় বেতন কাঠামো কার্যকর হয়েছিল ২০১৫ সালে। ওই সময় ৭ সেপ্টেম্বর অষ্টম জাতীয় পে-স্কেল মন্ত্রিসভায় অনুমোদিত হলেও চূড়ান্ত প্রজ্ঞাপন প্রকাশিত হয় ১৫ ডিসেম্বর। অর্থাৎ মন্ত্রিসভার অনুমোদন থেকে গেজেট প্রকাশ পর্যন্ত প্রায় সাড়ে তিন মাস সময় লেগেছিল।
সাবেক আমলাদের মতে, বর্তমান ক্ষেত্রেও প্রশাসনিক ও আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার কারণে কিছুটা সময় লাগা অস্বাভাবিক নয়।
প্রস্তাবিত নতুন বেতন কাঠামো অনুযায়ী সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন ১০০ থেকে ১৪২ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর কথা রয়েছে।
১ম থেকে ১১তম গ্রেডে সর্বোচ্চ বেতন বৃদ্ধির হার ১০০ শতাংশ পর্যন্ত।
২০তম গ্রেডে বেতন বৃদ্ধির হার প্রায় ১৪২ শতাংশ।
সর্বনিম্ন মূল বেতন নির্ধারণ করা হয়েছে ২০ হাজার টাকা।
সর্বোচ্চ মূল বেতন নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা।
সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, নতুন বেতন কাঠামো তিন ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে এবং এর কার্যকারিতা ধরা হবে ১ জুলাই ২০২৬ থেকে। প্রায় ২৪ লাখ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী এই কাঠামোর আওতায় আসবেন বলে জানানো হয়েছে। এটি বাস্তবায়নে সরকারের বছরে অতিরিক্ত প্রায় ১ লাখ ৫ হাজার কোটি টাকা ব্যয় হওয়ার হিসাব দেওয়া হয়েছে।
এর আগে জাতীয় বেতন কমিশন-২০২৫ সরকারি কর্মচারীদের বেতন ১০০ থেকে ১৪০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর সুপারিশ করেছিল। পরবর্তী পর্যালোচনা ও সংশ্লিষ্ট মতামতের ভিত্তিতে নতুন বেতন কাঠামো অনুমোদনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সূত্র: সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তা ও প্রকল্প-সংশ্লিষ্ট তথ্য
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |