বিশ্বের সবচেয়ে স্পর্শকাতর ও কৌশলগত জ্বালানি পরিবহন রুট 'হরমুজ প্রণালী'র স্থায়ী নিরাপত্তা ও নৌ-চলাচল সুরক্ষিত রাখতে এক বড় ধরণের কূটনৈতিক অগ্রগতি অর্জন করেছে মধ্যপ্রাচ্য। ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেছেন যে, হরমুজ প্রণালীতে বিদেশি সামরিক হস্তক্ষেপ রোধ এবং আঞ্চলিক বাণিজ্য স্বাভাবিক রাখতে আগামী সোমবার অঞ্চলের দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা এক ঐতিহাসিক ‘হরমুজ চুক্তি’ সই করতে যাচ্ছেন। ইরানের রাজধানী তেহরানে আরব বিশ্ব ও উপসাগরীয় দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের উপস্থিতিতে এই বহুপাক্ষিক যৌথ নিরাপত্তা চুক্তি চূড়ান্তভাবে বাস্তবায়িত হবে।
চুক্তি ও আঞ্চলিক নিরাপত্তার নতুন মেরুকরণ
বিশ্বের খনিজ তেলের মোট সমুদ্র পরিবহনের এক-পঞ্চমাংশ পরিবাহিত হয় এই সরু হরমুজ প্রণালী দিয়ে। দীর্ঘদিন ধরে ওয়াশিংটন ও পশ্চিমা নৌবাহিনীর উপস্থিতির বদলে আঞ্চলিক দেশগুলোর নিজস্ব তত্ত্বাবধানে এই রুটের নিরাপত্তা দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে আসছিল তেহরান।
প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান জানিয়েছেন, এই চুক্তির মূল ভিত্তি হলো ‘আঞ্চলিক দেশগুলোর মাধ্যমে আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ’। চুক্তির অধীনে উপসাগরীয় আরব দেশগুলো এবং ইরান যৌথভাবে সামুদ্রিক টহল, তথ্য আদান-প্রদান এবং পণ্যবাহী জাহাজে যে কোনো হামলা বা ছিনতাই রোধে কার্যকর সমন্বয় করবে।
‘হরমুজ চুক্তি’র প্রধান প্রধান দিকসমূহ
ইতিহাস সৃষ্টিকারী এই নিরাপত্তা সমঝোতার মূল নীতিসমূহ নিচে তুলে ধরা হলো:
আঞ্চলিক যৌথ নিরাপত্তা: পশ্চিমা কোনো সামরিক শক্তির সাহায্য ছাড়াই মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সম্মিলিত নিরাপত্তাবলয় তৈরি।
বিনাবাধায় জ্বালানি পরিবহন: কৌশলগত হরমুজ প্রণালী ও ওমান সাগরে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল সম্পূর্ণ নিরাপদ ও বাধারোধমুক্ত রাখা।
সংকট নিরসনে হটলাইন: সমুদ্রসীমানায় অনাকাঙ্ক্ষিত সামরিক উত্তেজনা এড়াতে ইরান ও আরব দেশগুলোর মধ্যে সরাসরি উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগ রক্ষা ব্যবস্থা।
এক নজরে ঐতিহাসিক ‘হরমুজ চুক্তি’
| বিষয় | বিবরণ |
| ঘোষণাকারী | মাসুদ পেজেশকিয়ান (ইরানের প্রেসিডেন্ট) |
| অনুষ্ঠানের দিন | আগামী সোমবার (স্থান: তেহরান, ইরান) |
| অংশগ্রহণকারী | ইরানের শীর্ষ নেতৃত্ব ও প্রধান আরব দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীগণ |
| মূল লক্ষ্য | হরমুজ প্রণালীতে নিজস্ব সুরক্ষাবলয় গঠন ও সামরিক সংঘাত নিরসন |
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |