রোহিঙ্গা সংকট নিরসনে বিশ্ব সম্প্রদায়ের জোরালো ভূমিকা ও সহযোগিতা চান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
মিয়ানমার থেকে বাস্তুচ্যুত হয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও দ্রুত প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে বিশ্ব সম্প্রদায়ের জোরালো ভূমিকা ও সক্রিয় আন্তর্জাতিক সহযোগিতা চেয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থা ও বিশ্বনেতাদের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে আয়োজিত এক উচ্চপর্যায়ের দ্বিপক্ষীয় বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা জানান। কক্সবাজার ও ভাসানচরের ওপর অতিরিক্ত আর্থ-সামাজিক ও পরিবেশগত চাপ লাঘব এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা বজায় রাখার তাগিদ থেকেই তিনি এ আহ্বান জানান।
সংবাদের মূল কিছু পয়েন্ট
মূল দাবি: দ্রুত ও নিরাপদ রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সমন্বিত উদ্যোগ।
স্থান ও সময়: স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, ঢাকা; সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬)।
প্রধান প্রতিপাদ্য: কক্সবাজারের নিরাপত্তা ঝুঁকি হ্রাস ও টেকসই সমাধান খোঁজা।
অংশগ্রহণকারী: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও জাতিসংঘের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল।
আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও সম্পদের সীমাবদ্ধতার চিত্র
বৈঠক শেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মানবিক কারণে বাংলাদেশ ১২ লাখের বেশি রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিলেও দীর্ঘমেয়াদে এই বিশাল জনগোষ্ঠীর দায়িত্ব বহন করা দেশের মতো সীমিত সম্পদের ভূখণ্ডের জন্য অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, ক্যাম্পগুলোতে ক্রমবিকাশমান অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড, মাদক চোরাচালান এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি কেবল বাংলাদেশের অভ্যন্তরে নয়, বরং সমগ্র দক্ষিণ এশীয় অঞ্চলের আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য চরম হুমকি হয়ে উঠছে।
প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করার আহ্বান
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে, ত্রাণ ও মানবিক সহায়তা সাময়িক স্বস্তি দিতে পারে, তবে একমাত্র টেকসই সমাধান হচ্ছে রোহিঙ্গাদের নিজ জন্মভূমি মিয়ানমারে সম্মানজনক প্রত্যাবর্তন।
এজন্য জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদসহ প্রভাবশালী আন্তর্জাতিক পরাশক্তিগুলোকে মিয়ানমার সরকারের ওপর কার্যকর রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক চাপ সৃষ্টির আহ্বান জানানো হয়। আন্তর্জাতিক মহল থেকে গঠনমূলক পদক্ষেপে গতি আনলে দ্রুতই প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া শুরু করা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।