ইসরায়েলি প্রতিরক্ষামন্ত্রী গাজায় ভূমি দখল করতে আইডিএফকে নির্দেশ দিয়েছেন
ইসরায়েলি প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ গাজায় আরও ভূমি দখল করতে দেশটির সামরিক বাহিনী (আইডিএফ)-কে নির্দেশ দিয়েছেন। তার এই নির্দেশে তিনি সতর্ক করেছেন যে, যদি হামাস বাকি বন্দিদের মুক্ত না করে, তবে আইডিএফ গাজার বেশ কিছু অংশ নিজেদের অন্তর্ভুক্ত করবে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি নিউজ তাদের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।
গত কয়েক মাসে গাজার পরিস্থিতি অত্যন্ত উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে এবং এতে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। ইসরায়েল এবং হামাসের মধ্যে চলমান সংঘর্ষের কারণে গাজার জনগণ বিপুল ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে। এই নতুন পদক্ষেপের পর, আরও বড় আকারে সংঘাত ও বিভাজন সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুদ্ধবিরতি চুক্তি লঙ্ঘন করে গত বৃহস্পতিবার (২০ মার্চ) গাজায় পুনরায় হামলা চালায় ইসরায়েল। এই হামলার পর, ইসরায়েলের স্থল বাহিনী গাজার নেজারিম করিডোর দখল করে এবং উত্তর গাজার বেইত লাহিয়া ও দক্ষিণ গাজার রাফাহ শহরের দিকে অগ্রসর হতে থাকে। এর ফলে গাজায় নতুন করে অবরোধ আরোপ করা হয় এবং গাজা পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে বিশ্বের অন্যান্য অংশ থেকে।
হামাসের পক্ষ থেকে এটি একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা যেতে পারে, কারণ এর মাধ্যমে গাজার আরও একটি বড় অংশ ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে চলে যেতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে এবং তারা মানবাধিকার এবং যুদ্ধবিরতির প্রতি আরও বেশি মনোযোগ দিতে আহ্বান জানাচ্ছে।
ইসরায়েলি প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ এক বিবৃতিতে বলেন, “আইডিএফকে গাজায় আরও ভূমি দখল করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। হামাস যত বেশি সময় ধরে বন্দিদের আটকে রাখবে, তত বেশি ভূমি হারাবে এবং সেই ভূমি ইসরায়েলের দখলে চলে যাবে।” এর মাধ্যমে তিনি ইসরায়েলের পক্ষ থেকে এই সংকটকে আরও জোরালোভাবে মোকাবেলা করার ইঙ্গিত দিয়েছেন।
কাটজ আরও বলেন, “ইসরায়েলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গাজার চারপাশে একটি বাফার জোন তৈরি করা হবে, যা স্থায়ীভাবে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে থাকবে।” তিনি দাবি করেছেন যে, এই বাফার জোন গাজার সীমান্তে নিরাপত্তা বৃদ্ধি করবে এবং দীর্ঘমেয়াদে গাজার উপরে ইসরায়েলের রাজনৈতিক এবং সামরিক নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করবে।
এই সব ঘটনা গাজার সাধারণ মানুষের জন্য আরো বড় সংকটের ইঙ্গিত দেয়। গাজায় অনেক মানুষ এখনো যুদ্ধবিরতি চুক্তির জন্য অপেক্ষা করছে, কিন্তু এর বিপরীতে ইসরায়েলের স্থল বাহিনীর অগ্রসর হওয়া এবং ভূমি দখলের নির্দেশ আরও উত্তেজনা বাড়িয়ে দিয়েছে। ইসরায়েলের নতুন পদক্ষেপের ফলে গাজার মানুষকে আরও বেশি সংকটের মধ্যে পড়তে হতে পারে, যেখানে খাদ্য, চিকিৎসা এবং মৌলিক প্রয়োজনীয়তা পৌঁছানোর জন্য বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি হবে।
এই পরিস্থিতি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নজরেও এসেছে। বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা এবং রাষ্ট্রপুঞ্জ ইসরায়েল এবং হামাসের প্রতি শান্তি প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানিয়েছে এবং গাজা থেকে বেসামরিক মানুষদের জীবন রক্ষা করতে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে বলেছে। তবে, গাজার এই নতুন পরিস্থিতি ইসরায়েল এবং ফিলিস্তিনিদের মধ্যে একটি দীর্ঘস্থায়ী শান্তির সম্ভাবনাকে আরও কঠিন করে তুলেছে।
গাজার নিরাপত্তা এবং ভৌগলিক অবস্থানের উপর নতুন করে ইসরায়েলের নির্ভরশীলতা এবং এই ভূমি দখলের পরিকল্পনা গাজার ভেতরে এবং বাইরের শক্তিগুলির মধ্যে এক নতুন ধরনের রাজনৈতিক টানাপোড়েন সৃষ্টি করতে পারে। ইসরায়েলি সরকারের এই পদক্ষেপ তাদের দীর্ঘমেয়াদী সামরিক কৌশল ও ভূখণ্ড দখল সংক্রান্ত লক্ষ্যকে সামনে রেখে গ্রহণ করা হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
এই সিদ্ধান্তের ফলে ইসরায়েল এবং হামাসের মধ্যে বিরোধের পরিধি আরও বিস্তৃত হতে পারে এবং এতে বৈশ্বিক শান্তির ক্ষেত্রে আরও সংকট তৈরি হতে পারে। গাজার জনগণের জন্য এই পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে উঠতে পারে, যেখানে তাদের জীবনযাত্রা এবং নিরাপত্তা চরমভাবে ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |