হিথ্রো বিমানবন্দরে বৈদ্যুতিক উপকেন্দ্রে অগ্নিকাণ্ড, বিমান চলাচল পুনরায় শুরু
লন্ডনের হিথ্রো বিমানবন্দরের নিকটবর্তী একটি বৈদ্যুতিক উপকেন্দ্রে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ফলে ‘নজিরবিহীন’ বিদ্যুৎ-বিভ্রাটের সৃষ্টি হয়, যার ফলে শুক্রবার (২১ মার্চ) দিনব্যাপী বিমান চলাচল বন্ধ হয়ে যায় এবং প্রায় ২ লাখ যাত্রী ক্ষতিগ্রস্ত হন। তবে, শনিবার পরিষেবা পুরোপুরি চালু হওয়ার আশা করা হচ্ছে এবং বিমান চলাচল পুনরায় শুরু হয়েছে। এই অগ্নিকাণ্ডের কারণে হিথ্রো বিমানবন্দরে একটি বিশাল বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়েছিল, যা একে ‘বিমানবন্দরের সবচেয়ে বড় দুর্ঘটনা’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে কর্তৃপক্ষ।
ঘটনাটি ঘটেছে বৃহস্পতিবার (২০ মার্চ) সন্ধ্যায়, যখন পশ্চিম লন্ডনের হেইস এলাকার নর্থ হাইড পাওয়ার প্ল্যান্টে অগ্নিকাণ্ড ঘটে। এর পরপরই হিথ্রো বিমানবন্দরের বৈদ্যুতিক সিস্টেম বিপর্যস্ত হয়ে যায়, যার ফলে বিমান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে বিমানবন্দরটি তার সমস্ত ফ্লাইট ইউরোপের অন্যান্য বিমানবন্দরে পাঠাতে বাধ্য হয়, যার ফলে হাজার হাজার যাত্রী চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন।
এই পরিস্থিতি সৃষ্টির পর, বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ দ্রুত যাত্রীদের জন্য বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণের চেষ্টা শুরু করে। তবে, দিনভর চলমান এই বিভ্রাটের কারণে যাত্রীদের অনেকেই বিমানবন্দরের বিভিন্ন অংশে আটকে পড়েন, ফলে বিশৃঙ্খলা আরও বৃদ্ধি পায়।
হিথ্রো বিমানবন্দরের প্রধান নির্বাহী থমাস ওল্ডবাই এ ঘটনার পর এক বিবৃতিতে আটকে পড়া যাত্রীদের কাছে গভীর দুঃখ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “এটি আমাদের বিমানবন্দরের জন্য সবচেয়ে বড় দুর্ঘটনা। আমরা জানি, যাত্রীদের সুবিধা শতভাগ নিশ্চিত করতে না পারা খুবই দুঃখজনক, এবং আমরা আন্তরিকভাবে দুঃখিত।” তিনি আরও বলেন, “আমরা যাত্রীদের নিরাপত্তা এবং সুবিধা নিশ্চিত করতে দ্রুত ব্যবস্থা নিয়েছি এবং যাদের ফ্লাইট বিলম্বিত হয়েছে তাদের জন্য সর্বোচ্চ সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে।”
অগ্নিকাণ্ডের পর থেকেই বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ অগ্নিকাণ্ডের কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত শুরু করে, এবং তার সাথে বিমান চলাচল স্বাভাবিক করার চেষ্টা অব্যাহত রাখে। এই ঘটনায় বিমানবন্দরটি তীব্র চাপের মধ্যে ছিল, এবং যাত্রীদের দুর্ভোগ লাঘবে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।
লন্ডন পুলিশ নিশ্চিত করেছে যে, আগুন লাগার ঘটনা সন্দেহজনক বলে মনে হচ্ছে না। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ জানিয়েছে, তারা ‘বৈদ্যুতিক ট্রান্সমিশন সরঞ্জামের’ ওপর নজর দিচ্ছে, এবং এই ঘটনা বৈদ্যুতিক উপকেন্দ্রের ত্রুটির কারণে হতে পারে বলে ধারণা করছে।
পুলিশ আরও জানিয়েছে যে, তারা ঘটনার প্রাথমিক তদন্তে অন্যান্য সব দিকও বিবেচনা করবে এবং আগুন লাগার কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হতে চাইছে। এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় কোনো ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি, তবে ফ্লাইট চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় যাত্রীদের জন্য একটি বিশাল অস্বস্তি সৃষ্টি হয়েছে।
ব্রিটিশ এয়ারওয়েজ ঘোষণা করেছে যে, শুক্রবার সন্ধ্যায় তাদের দূরপাল্লার আটটি ফ্লাইট হিথ্রো বিমানবন্দর থেকে ছেড়ে যাওয়ার অনুমতি পেয়েছে। বিমান সংস্থাটি গ্রাহকদের সঙ্গে জরুরি যোগাযোগ করছে এবং তাদের ফ্লাইট সম্পর্কিত আপডেট প্রদান করছে। এছাড়া, অন্যান্য এয়ারলাইন্সও, যেমন এয়ার কানাডা এবং ইউনাইটেড এয়ারলাইনস, হিথ্রো বিমানবন্দর থেকে এবং সেখানে নির্ধারিত ফ্লাইট পুনরায় চালু করার ঘোষণা দিয়েছে।
এই বিপর্যয়ের পর, ব্রিটিশ এয়ারওয়েজ এবং অন্যান্য বিমান সংস্থাগুলির পক্ষ থেকে যাত্রীদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে এবং যারা ফ্লাইটে বিলম্বিত হয়েছেন তাদের জন্য বিকল্প ফ্লাইট বা পুনরায় নির্ধারিত ফ্লাইটের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।
বিমান চলাচল পুনরায় শুরু হওয়ার পরেও, যাত্রীদের মধ্যে অনেকেই এখনও বিলম্বিত ফ্লাইটের জন্য অপেক্ষা করছেন। বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ তাদের জন্য অতিরিক্ত সুযোগ-সুবিধা প্রদান করে, যাতে তারা দীর্ঘ সময় বিমানবন্দরে অপেক্ষা না করে। তবে, এই বিপর্যয়ের ফলে যাত্রীদের মধ্যে অস্থিরতা এবং অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে, এবং অনেকেই তাদের ফ্লাইটে বিলম্বিত হওয়ার জন্য ক্ষতিপূরণ চাওয়ার দাবিতে সোচ্চার হয়েছেন।
এই বিদ্যুৎ-বিভ্রাটের ঘটনা বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ও সেবা ব্যবস্থায় একটি বড় শূন্যতার ইঙ্গিত দেয়। কর্তৃপক্ষ ইতোমধ্যে নিশ্চিত করেছে যে, ভবিষ্যতে এমন পরিস্থিতি এড়াতে তাদের অবকাঠামো ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন ঘটানো হবে। সেসময়, যাত্রীদের দুর্ভোগ কমানোর জন্য বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ এবং বিমান সংস্থাগুলি যৌথভাবে আরও কার্যকর পরিকল্পনা গ্রহণ করবে।
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |