উচ্চ শিক্ষা, নিরাপদ ভবিষ্যৎ কিংবা লোভনীয় বেতনের প্রলোভনে পড়ে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের চরম উত্তেজনাকর পরিস্থিতিতে রাশিয়ার হয়ে সরাসরি যুদ্ধক্ষেত্রে যুক্ত হচ্ছেন একদল বাংলাদেশি তরুণ। সাম্প্রতিক বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম, স্থানীয় রিপোর্ট ও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের তথ্যানুযায়ী, ২০২৪ থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে রাশিয়ায় পড়তে যাওয়া শিক্ষার্থী, নির্মাণশ্রমিক এবং অবৈধ অভিবাসীদের একটি অংশ এই প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হয়েছে। মূলত অর্থনৈতিক স্বচ্ছলতার আশা, নাগরিকত্ব পাওয়ার লোভ এবং আন্তর্জাতিক প্রতারক চক্রের মধ্যস্থতায় তারা রাশিয়ার সামরিক বাহিনীর সাথে চুক্তিবদ্ধ হয়ে ফ্রন্টলাইনে চলে যাচ্ছেন।
কেন এই ঝুঁকিপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন তরুণরা?
বাংলাদেশি তরুণরা প্রধানত দুটি ক্ষেত্র থেকে এই প্রক্রিয়ায় যুক্ত হচ্ছেন—শিক্ষার্থী ভিসা নিয়ে রাশিয়ায় অবস্থানরত তরুণ এবং কাজের খোঁজে মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপগামী অভিবাসী। যুদ্ধে অংশ নেওয়ার পেছনে মূল অনুঘটক হিসেবে কাজ করছে কয়েকটি বিষয়:
বিপুল আর্থিক প্রতিশ্রুতি: রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে যুদ্ধের চুক্তিতে স্বাক্ষরকারীদের জন্য প্রতি মাসে প্রায় ২ থেকে ২.৫ লাখ রুপি সমপরিমাণ অর্থ (২০-২৫ লাখ রুপি বা বিপুল পরিমাণ মার্কিন ডলারের প্যাকেজ) দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়, যা বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক প্রেক্ষাপটে অনেক তরুণের কাছে বিশাল প্রলোভন।
রাশিয়ার দ্রুত নাগরিকত্ব: সামরিক চুক্তিতে স্বাক্ষর করলে এক বছরের মধ্যে রাশিয়ান পাসপোর্ট ও স্থায়ী নাগরিকত্ব দেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে, যা ইউক্রেন যুদ্ধের পর নতুন আইনে অনুমোদন পায়।
প্রতারক মানবপাচারকারী চক্র: ইউরোপে পাঠানোর কথা বলে অনেক তরুণকে প্রথমে রাশিয়ায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে পৌঁছানোর পর চুক্তিপত্রের ভাষা বুঝতে না পারার সুযোগ নিয়ে তাদের সামরিক চুক্তিপত্রে স্বাক্ষর করিয়ে নেওয়া হয়।
কীভাবে যুক্ত হচ্ছেন যুদ্ধের মাঠে?
রাশিয়ান সেনাবাহিনীতে যোগ দেওয়ার প্রক্রিয়াটি আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় বিভিন্ন দালাল চক্রের সমন্বয়ে সংঘটিত হয়:
শিক্ষার্থী ও কাজের ভিসা: প্রথমে স্টুডেন্ট ভিসা বা ট্রানজিট ভিসার মাধ্যমে তরুণরা মস্কোসহ বিভিন্ন শহরে পৌঁছান। ভিসা নবায়নে সমস্যা বা আর্থিক সংকট তৈরি হলে স্থানীয় এজেন্সির মাধ্যমে তাদেরকে 'সহজ কাজের' প্রলোভন দেওয়া হয়।
আইনি ও ভাষা বিভ্রান্তি: সামরিক চুক্তিগুলো সম্পূর্ণ রুশ ভাষায় লিখিত থাকায় সাধারণ তরুণরা না বুঝেই চুক্তিপত্রে সই করেন। অনেক ক্ষেত্রে তাদের বলা হয় তারা নন-কমব্যাট বা পেছনের সারির (যেমন: রান্না, সরঞ্জাম বহন বা লজিস্টিকস) কাজে যোগ দিচ্ছেন।
সংক্ষিপ্ত সামরিক প্রশিক্ষণ: চুক্তিবদ্ধ করার পরপরই তাদেরকে ১ থেকে ৩ সপ্তাহের একটি সংক্ষিপ্ত সামরিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে পাঠানো হয়। এরপর সরাসরি ইউক্রেনের ডনেৎস্ক বা লুহানস্কের ফ্রন্টলাইনে মোতায়েন করা হয়।
আইনি প্রেক্ষাপট ও বাংলাদেশ সরকারের অবস্থান
বাংলাদেশের বিদ্যমান আইন অনুযায়ী, সরকারি অনুমতি ছাড়া অন্য কোনো দেশের সশস্ত্র বাহিনীতে যোগ দেওয়া বা ভাড়াটে যোদ্ধা হিসেবে যুদ্ধে অংশ নেওয়া সম্পূর্ণ বেআইনি। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এ ধরনের দালাল চক্রের বিষয়ে সতর্কতা জারি করেছে এবং ভুক্তভোগীদের উদ্ধারে কূটনৈতিক তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে।
এই চরম অনিশ্চিত পরিস্থিতিতে কোনো ধরনের বিভ্রান্তিকর প্রলোভনে পা না দিয়ে বিদেশে যাওয়ার ক্ষেত্রে সঠিক আইনি পথ অবলম্বন এবং চুক্তির ভাষা যাচাই করা জরুরি।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |