।১৯৪৭ সালের দেশভাগের প্রাক্কালে পাকিস্তানের স্থপতি মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ এক মরণব্যাধিতে আক্রান্ত ছিলেন, যা তৎকালীন অবিভক্ত ভারতের ইতিহাসে সবচেয়ে সুরক্ষিত গোপনীয় বিষয় হিসেবে রেখে দেওয়া হয়েছিল। জিন্নাহ দীর্ঘকাল ধরে ফুসফুসের যক্ষ্মা এবং এমফিসিমায় ভুগছিলেন। তবে তাঁর চিকিৎসক ডক্টর জল প্যাটেল ছাড়া এই তথ্য সাধারণ মানুষ, রাজনীতিবিদের পাশাপাশি তৎকালীন ব্রিটিশ ভাইসরয় লর্ড মাউন্টব্যাটেন এবং কংগ্রেস নেতাদের কাছে সম্পূর্ণ গোপন রাখা হয়। আশঙ্কা করা হয়েছিল, জিন্নাহর এই মারাত্মক অসুস্থতার খবর জানাজানি হলে তাঁর প্রতিপক্ষ রাজনৈতিক দলগুলো পাকিস্তান গঠনের প্রক্রিয়া পিছিয়ে দিত, যা হয়তো ইতিহাসকেই ভিন্ন রূপ দিতে পারত।
মেডিকেল রিপোর্টে লুকানো ইতিহাস
১৯৪০-এর দশকের শুরুর দিকেই জিন্নাহর শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে থাকে। কিন্তু বোম্বাইয়ের (বর্তমান মুম্বাই) বিখ্যাত চিকিৎসক ডক্টর জল প্যাটেলের সিন্দুক বা সেফে একটি এক্স-রে এবং রিপোর্টের ফাইলে তালাবদ্ধ ছিল জিন্নাহর এই গোপন সত্য।
যক্ষ্মা তৎকালীন সময়ে একটি প্রায় অসাধ্য ও মারাত্মক রোগ হিসেবে গণ্য হতো। জিন্নাহ জানতেন, তাঁর শারীরিক দুর্বলতার খবর প্রকাশ পেলে নিখিল ভারত মুসলিম লীগের নেতৃত্বে পরিচালিত পাকিস্তান আন্দোলন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
মাউন্টব্যাটেনের প্রতিক্রিয়া ও ইতিহাসের মোড়
পরবর্তীকালে বিভিন্ন ইতিহাসবিদ এবং স্বয়ং লর্ড মাউন্টব্যাটেন স্বীকার করেছেন যে, জিন্নাহর যক্ষ্মায় আক্রান্ত হওয়ার খবর যদি তারা আগে জানতে পারতেন, তবে ভারতের ইতিহাস ভিন্ন হতো। মাউন্টব্যাটেন পরবর্তীতে এক সাক্ষাৎকারে উল্লেখ করেছিলেন, জিন্নাহর দ্রুত ঘনিয়ে আসা মৃত্যুর কথা জানা থাকলে ব্রিটিশরা হয়তো জিন্নাহর মৃত্যু পর্যন্ত অপেক্ষা করত এবং দেশভাগ এড়ানোর চেষ্টা করত।
কারণ মুসলিম লীগের অভ্যন্তরে জিন্নাহর সমকক্ষ বা বিকল্প এমন কোনো প্রভাবশালী নেতা ছিলেন না, যিনি একই দৃঢ়তায় পৃথক রাষ্ট্রের দাবি আদায় করতে পারতেন।
কঠোর গোপনীয়তা ও চূড়ান্ত পরিণতি
জিন্নাহ অত্যন্ত কঠোরভাবে তাঁর শারীরিক কফ, জ্বর ও ওজন কমে যাওয়ার মতো উপসর্গগুলো গোপন রাখতেন। জনসমক্ষে নিজেকে সবসময় শক্ত ও সতেজ হিসেবে উপস্থাপন করতেন।
১৯৪৭ সালের ১৪ আগস্ট পাকিস্তান স্বাধীন হওয়ার মাত্র এক বছর পর, ১৯৪৮ সালের ১১ সেপ্টেম্বর জিন্নাহ করাচিতে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তাঁর মৃত্যুর পর এই ঐতিহাসিক সত্য উন্মোচিত হয় যে, মূলত জিন্নাহর ইচ্ছাশক্তি এবং চিকিৎসক প্যাটেলের পেশাগত গোপনীয়তার ওপর ভিত্তি করেই ১৯৪৭ সালের মানচিত্র নির্ধারিত হয়েছিল।
জিন্নাহর শারীরিক অবস্থা গোপন রাখার ঘটনাটি রাজনীতিতে তথ্য নিয়ন্ত্রণের অন্যতম বড় উদাহরণ। যদি এই গোপন তথ্যটি তৎকালীন সময়ে প্রকাশ পেত, তবে ১৯৪৭ সালে উপমহাদেশের রাজনৈতিক মানচিত্র কি অন্যরকম হতে পারত?
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |