শিক্ষা ও জাতীয় সংবাদ
১১ আগস্ট, ২০২৬
দীর্ঘ ১৫ বছর পর দেশের মাধ্যমিক স্তরের সবচেয়ে বড় পাবলিক পরীক্ষা এসএসসিতে পাসের হার ও জিপিএ-৫ এ বড় পতন ঘটেছে। সোমবার প্রকাশিত ২০২৬ সালের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল অনুযায়ী, এ বছর সামগ্রিক পাসের হার ৬২.২৫ শতাংশ এবং মোট জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ লাখ ১৬ হাজার ৬৭৬ জন শিক্ষার্থী। গত বছরের তুলনায় এ বছর পাসের হার ৬.২০ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ কমেছে ২২ হাজার ৩৫৬ জন।
সার্বিক ফলাফল: ২০২৬ সালের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় মোট ১৮ লাখ ২৯ হাজার ৪৮৫ জন শিক্ষার্থী অংশ নিয়ে পাস করেছে ১১ লাখ ৩৮ হাজার ৮৭৭ জন। পাসের হার ৬২.২৫%।
পাসের হার ও জিপিএ-৫ হ্রাস: গত বছরের তুলনায় পাসের হার ৬.২০% এবং জিপিএ-৫ কমেছে ২২ হাজার ৩৫৬ জন। মোট জিপিএ-৫ পেয়েছে ১,১৬,৬৭৬ জন।
ফলাফল খারাপের মূল কারণ: ইংরেজি ও গণিত বিষয়ে শিক্ষার্থীদের দুর্বল ফল, বিশেষ করে মানবিক বিভাগের শিক্ষার্থীদের পিছিয়ে পড়া এবং খাতা মূল্যায়নে কোনো 'ওভারমার্কিং' না করা।
শূন্য পাস প্রতিষ্ঠান: এ বছর দেশের ৩১২টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে কোনো শিক্ষার্থী পাস করতে পারেনি, যার মধ্যে ২২৬টিই মাদরাসা।
ছাত্রীদের সাফল্য: বরাবরের মতো এবারও ছেলেদের তুলনায় মেয়েরা পাসের হার (৬৬.৬৮%) ও জিপিএ-৫ প্রাপ্তিতে এগিয়ে রয়েছে।
ফল পুনর্নিরীক্ষায় আবেদন: ১১ থেকে ১৭ আগস্ট পর্যন্ত টেলিটকের মাধ্যমে ফল পুনর্নিরীক্ষার আবেদন করা যাবে (প্রতি পত্র ১৫০ টাকা)।
শিক্ষাবিদ ও শিক্ষা বোর্ড কর্মকর্তাদের মতে, এবারের ফলাফলের এই পতনের পেছনে একাধিক কারণ রয়েছে। করোনা মহামারির সময়ে শিখন ঘাটতি, নবম শ্রেণীতে উঠার পর নতুন শিক্ষাক্রম ও পরবর্তীতে আবার পুরোনো কারিকুলামে ফিরে যাওয়ার ফলে শিক্ষার্থীদের মধ্যে তৈরি হওয়া অস্থিরতা ইংরেজি ও গণিতের মতো বিষয়ে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। এছাড়া শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কঠোর নির্দেশনায় কেন্দ্রগুলোতে নকলের সুযোগ না থাকা এবং পরীক্ষকরা খাতা দেখে বুঝে নম্বর দেওয়ায় (কোনো প্রকার ওভারমার্কিং না করায়) প্রকৃত ফলাফল উঠে এসেছে বলে জানিয়েছে বোর্ড কর্তৃপক্ষ।
সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, পরীক্ষার ফল খারাপ হয়নি, বরং এটাই প্রকৃত ফল। কোনো রকম মনগড়া বা অতিরিক্ত নম্বর দেওয়া হয়নি।
এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা ২০২৬ একনজরে:
┌─────────────────────────────────────────────────────────────────────────────┐
│ • মোট পরীক্ষার্থী : ১৮,২৯,৪৮৫ জন। │
│ • পাস করেছে : ১১,৩৮,৮৭৭ জন। │
│ • পাসের হার : ৬২.২৫% (গত বছরের চেয়ে ৬.২০% কম)। │
│ • জিপিএ-৫ প্রাপ্ত : ১,১৬,৬৭৬ জন। │
│ • শূন্য পাস প্রতিষ্ঠান: ৩১২টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। │
└─────────────────────────────────────────────────────────────────────────────┘
এবারের ফলাফলে বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীরা তুলনামূলক ভালো করলেও মানবিক বিভাগে পাসের হার বেশ কম হয়েছে।
বিজ্ঞান বিভাগ: পাস করেছে ৪,৫৭,১৮৮ জন, পাসের হার ৮০.৬৪%।
মানবিক বিভাগ: পাস করেছে ৩,০১,১৭৪ জন, পাসের হার ৪৮.৭৪%।
ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগ: পাস করেছে ১,৪১,২৪৮ জন, পাসের হার ৬৪.২৯%।
বোর্ডভিত্তিক পাসের হারে শীর্ষে রয়েছে ঢাকা শিক্ষা বোর্ড (৭১.৬৩%) এবং সর্বনিম্ন সিলেট শিক্ষা বোর্ড (৫৮.৩৩%) ও দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ড (৫৮.০৫%)। কড়াকড়ির কারণে মাদরাসা বোর্ডেও পাসের হার কমে দাঁড়িয়েছে ৫৫.৪৯%-এ।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |