| বঙ্গাব্দ

গোপনীয়তা ও নাটকীয়তায় ঘেরা: ৫ আগস্ট যেভাবে দেশ ছেড়েছিলেন শেখ হাসিনা

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 05-08-2026 ইং
  • 8241 বার পঠিত
গোপনীয়তা ও নাটকীয়তায় ঘেরা: ৫ আগস্ট যেভাবে দেশ ছেড়েছিলেন শেখ হাসিনা
ছবির ক্যাপশন: শেখ হাসিনা

গণ-অভ্যুত্থানের চূড়ান্ত মুহূর্ত: হেলিকপ্টার থেকে সামরিক বিমান—যেভাবে সম্পন্ন হয়েছিল হাসিনার পলায়ন পর্ব

বিশেষ অনুসন্ধান ও জাতীয় সংবাদ

৫ আগস্ট, ২০২৬

গণ-অভ্যুত্থানের মুখে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশত্যাগের ঘটনা ছিল নানা গোপনীয়তা ও নাটকীয়তায় ভরপুর। ঐতিহাসিক সেই পটপরিবর্তনের দুই বছর পর সামরিক ও নিরাপত্তা গোয়েন্দা সূত্রের বরাতে চাঞ্চল্যকর ও অজানা অনেক তথ্য প্রকাশ করেছে দৈনিক যুগান্তর

ওই দিন ভরদুপুরে দেশের আকাশসীমা ছাড়ার আগের মুহূর্ত, হেলিকপ্টার ও বিমান বহরের পাইলটদের পরিচয়, ভারতের হিন্দন ঘাঁটিতে অবতরণ এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বর্তমান অবস্থান নিয়ে তৈরি হয়েছে এই বিশেষ অনুসন্ধান।

স্মার্ট সারসংক্ষেপ (Quick Takeaways)

  • সময়সীমা ও আলটিমেটাম: ৫ আগস্ট দুপুর হওয়ার আগেই অবস্থা বেগতিক দেখে হাসিনাকে মাত্র ৩০ মিনিট সময় বেঁধে দিয়ে দ্রুত গণভবন ছাড়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।

  • হেলিকপ্টার মিশন: গণভবন থেকে উদ্ধারকারী এমআই-১৭ হেলিকপ্টারের পাইলট ছিলেন এয়ার কমোডর আব্বাস এবং কো-পাইলট গ্রুপ ক্যাপ্টেন রায়হান কবির।

  • সি-১৩০ ফ্লাইট ও গন্তব্য: কুর্মিটোলা এয়ার বেইজে আগে থেকেই চালু রাখা সি-১৩০ জুলিয়েট বিমানে করে ৫ আগস্ট বিকাল ৬টা ১৫ মিনিটে দিল্লির হিন্দন বিমানঘাঁটিতে পৌঁছান হাসিনা।

  • নিরাপত্তা কৌশল: রাডারে যেন ট্র্যাক করা না যায়, সেজন্য উড্ডয়নের সময় বিমানের ট্রান্সপন্ডার বন্ধ রাখা হয়েছিল।

  • আইনি দৃষ্টিভঙ্গি: সাবেক সেনা কর্মকর্তাদের মতে, এসএসএফ ও সামরিক কর্মকর্তারা তৎকালীন আইনি ও পেশাগত দায়িত্ব পালন করলেও গণঅভ্যুত্থানের স্পিরিট অনুযায়ী তাকে আইনের হাতে সোপর্দ করা যেত।

গণভবন থেকে কুর্মিটোলা: রেসকিউ মিশনের প্রথম ভাগ

৫ আগস্ট সকাল ১০টার দিকে লাখো ছাত্র-জনতা রাজধানীর বিভিন্ন পয়েন্ট দিয়ে ঢাকার দিকে ও গণভবনের অভিমুখে এগোতে শুরু করে। পরিস্থিতি দ্রুত অবনতি হলে দুপুরের আগেই নিরাপত্তা কর্মকর্তারা হাসিনাকে মাত্র ৩০ মিনিট সময় দেন। এরপর বাণিজ্যমেলার কাছাকাছি এলাকায় বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর একটি এমআই-১৭ হেলিকপ্টার অবতরণ করে। সেখানে শেখ হাসিনা ও তার ছোট বোন শেখ রেহানাকে তোলা হয়।

বিকাল ৩টার দিকে কুর্মিটোলা এয়ার বেইজে হেলিকপ্টারটি অবতরণ করে। তেজগাঁও বিমানবন্দরে কর্তব্যরত উইং কমান্ডার কানিজ ফাতেমা সংক্ষিপ্ত বেতার বার্তায় ট্রাফিক কন্ট্রোলকে বিষয়টি জানান। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, এই পুরো মিশনটি সমন্বয় করেছিলেন বিমানবাহিনীর তৎকালীন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা গ্রুপ ক্যাপ্টেন আবু সালেহ মান্নাফি।

সি-১৩০ বিমানে দিল্লি যাত্রা এবং ট্রান্সপন্ডার বন্ধ রাখার কৌশল

কুর্মিটোলা এয়ার বেইজে আগে থেকেই ইঞ্জিন চালু অবস্থায় একটি সি-১৩০ জুলিয়েট পরিবহন বিমান প্রস্তুত রাখা হয়েছিল। বিমানে আগেই অবস্থান করছিলেন হাসিনার নিরাপত্তা উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) তারিক আহমেদ সিদ্দিকী ও তার পরিবার (যদিও তারিক সিদ্দিকী শেষ মুহূর্তে বিমানে ওঠেননি এবং পরবর্তীতে নৌপথে দেশত্যাগ করেন বলে সূত্র জানায়)।

শেখ হাসিনার পলায়ন ও যাত্রাপথের রুট:
┌─────────────────────────────────────────────────────────────────────────────┐
│ • পলায়নের মাধ্যম ১: এমআই-১৭ হেলিকপ্টার (গণভবন থেকে কুর্মিটোলা)।             │
│ • পলায়নের মাধ্যম ২: সি-১৩০ জুলিয়েট সামরিক বিমান (ঢাকা থেকে দিল্লি)।         │
│ • পাইলট দল       : এয়ার কমোডর শামীম রেজা ও উইং কমান্ডার মাহফুজ।          │
│ • অবতরণস্থল       : ভারতের দিল্লির উপকণ্ঠে হিন্দন বিমানঘাঁটি (বিকাল ৬টা ১৫ মিনিট)।│
│ • বিশেষ কৌশল     : রাডার এড়াতে উড্ডয়নের সময় বিমানের ট্রান্সপন্ডার বন্ধ রাখা।│
└─────────────────────────────────────────────────────────────────────────────┘

বিমানটির ককপিটে পাইলট হিসেবে ছিলেন এয়ার কমোডর শামীম রেজা এবং কো-পাইলট ছিলেন উইং কমান্ডার মাহফুজ। সর্বোচ্চ গোপনীয়তা ও নিরাপত্তা বজায় রাখতে ফ্লাইট চলাকালীন বিমানের ট্রান্সপন্ডার বন্ধ রাখা হয় এবং নির্ধারিত প্রচলিত রুট পরিবর্তন করে কিছুটা ঘুরে দিল্লির পথে যাত্রা করা হয়। ভারতের আকাশসীমায় প্রবেশের পর কলকাতার এটিসির সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। বিকেলে হিন্দন ঘাঁটিতে অবতরণের পর ভারতের তৎকালীন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভালসহ উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা তাকে অভ্যর্থনা জানান।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বর্তমান অবস্থা

গোয়েন্দা ও সামরিক সূত্র জানিয়েছে, এই অভিযানের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত পাইলট ও কর্মকর্তাদের পরবর্তীতে বিভিন্ন দায়িত্বে স্থানান্তর করা হয়। হেলিকপ্টার পাইলট এয়ার কমোডর আব্বাসকে প্রথমে পাকিস্তানে প্রশিক্ষণ কোর্সে পাঠানো হলেও বর্তমানে তিনি বিমানবাহিনী সদর দপ্তরে এয়ার হেডকোয়ার্টার ইউনিটের অধিনায়ক হিসেবে কর্মরত আছেন। কো-পাইলট গ্রুপ ক্যাপ্টেন রায়হান কবির বাশার এয়ার বেইজের ওসি (অ্যাডমিন) হিসেবে এবং সি-১৩০ এর পাইলট এয়ার কমোডর শামীম রেজাকে ফিলিপাইনে দীর্ঘমেয়াদি কোর্সে পাঠানো হয়েছিল। এছাড়া কো-পাইলট উইং কমান্ডার মাহফুজ বর্তমানে বিমানবাহিনীর গোয়েন্দা পরিদপ্তরে কর্মরত।

প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency