অর্থনীতি ও প্রযুক্তি সংবাদ
৫ আগস্ট, ২০২৬
দীর্ঘদিন ধরে নানা অনিয়ম, আইন অমান্য এবং সরকারি প্রকল্পে বিতর্কিত সুবিধা ভোগ করে আসার পর এবার বড় ধরনের আইনি জটিলতায় পড়েছে আলোচিত তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান সিনেসিস আইটি লিমিটেড। বিটিআরসির কোনো ধরনের অনুমোদন না নিয়ে গোপনে মালিকানা ও শেয়ার মূলধন পরিবর্তনের অপরাধে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে আড়াই কোটি টাকারও বেশি ফি, চার্জ ও প্রশাসনিক জরিমানা আরোপ করেছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)।
তবে এক বছরের বেশি সময় ধরে সেই অর্থ পরিশোধ না করে নানা টালবাহানা ও মওকুফের আবেদন করে আসছে আওয়ামী লীগ ঘনিষ্ঠ এই প্রতিষ্ঠানটি। সবশেষ গত ২৯ জুন অনুষ্ঠিত কমিশন সভায় সিনেসিসের এই আবেদনকে সম্পূর্ণ বেআইনি ও অগ্রহণযোগ্য আখ্যা দিয়ে খারিজ করে দেওয়া হয়। একই সঙ্গে বকেয়া পুরো অর্থ কঠোরভাবে আদায়ের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
জরিমানার কারণ: বিটিআরসির পূর্বানুমোদন ছাড়াই গোপনে শেয়ার মূলধন ও মালিকানা পরিবর্তন করা।
অর্থের পরিমাণ: প্রশাসনিক জরিমানা বাবদ ১০ লাখ এবং ৫.৫% শেয়ার হস্তান্তর ফি, ভ্যাট ও বিলম্ব ফি বাবদ ২ কোটি ৪৪ লাখ ৭২ হাজার ৮৯৯ টাকা (মোট প্রায় আড়াই কোটি টাকা)।
বিটিআরসির অবস্থান: বিটিআরসির লিগ্যাল শাখা ও মহাপরিচালক স্পষ্ট জানিয়েছেন, আইন অনুযায়ী ফি মওকুফের কোনো সুযোগ নেই এবং বিষয়টি আদায়ের প্রক্রিয়া চলছে।
পুরোনো বিতর্ক: এনইআইআর (NEIR) প্রকল্প ও ডিপিএম পদ্ধতিতে কার্যাদেশ প্রাপ্তি নিয়ে অতীতেও সিনেসিস আইটি ও তৎকালীন রাজনৈতিক সিন্ডিকেট ব্যাপকভাবে সমালোচিত হয়েছিল।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ আইন, ২০০১-এর ৩৭(৩)(খ) ধারা লঙ্ঘন করে বিটিআরসির অনুমোদন ছাড়াই সিনেসিস আইটি তাদের শেয়ার গোপনে হস্তান্তর করে। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর বিটিআরসির ২৯৩তম কমিশন সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তাদের ওপর ওই আর্থিক জরিমানা ও ফি ধার্য করা হয়।
তবে জরিমানার অর্থ পরিশোধ না করে উল্টো ‘কল সেন্টার নির্দেশিকা’র দোহাই দিয়ে তা মওকুফের আবেদন করে প্রতিষ্ঠানটি। বিটিআরসির লিগ্যাল শাখা জানায়, অনুমতি ছাড়া মূলধন পরিবর্তন সম্পূর্ণ বেআইনি হওয়ায় তাদের আত্মপক্ষ সমর্থনের কোনো আইনি ভিত্তি নেই। ফলে গত জুনের কমিশন সভায় সর্বসম্মতিক্রমে তাদের আবেদন খারিজ করা হয়।
সিনেসিস আইটি কেলেঙ্কারি ও বিটিআরসির পদক্ষেপ:
┌─────────────────────────────────────────────────────────────────────────────┐
│ • অপরাধ : বিটিআরসিকে না জানিয়ে গোপনে শেয়ার ও মালিকানা হস্তান্তর। │
│ • বিটিআরসির শাস্তি: প্রায় ২ কোটি ৫৫ লাখ টাকার প্রশাসনিক জরিমানা ও ফি আরোপ। │
│ • বর্তমান পরিস্থিতি: মওকুফের আবেদন বাতিল; আইনি প্রক্রিয়ায় বকেয়া আদায়ের নির্দেশ।│
└─────────────────────────────────────────────────────────────────────────────┘
বিতর্কিত ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেন্টিটি রেজিস্টার (NEIR) প্রকল্পের সূরুম থেকেই সিনেসিস আইটির নেপথ্যে একটি শক্তিশালী রাজনৈতিক সিন্ডিকেট সক্রিয় ছিল। ২০২০ সালে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ২৯ কোটি ৮১ লাখ টাকায় এনইআইআর সরবরাহের কাজ বাগিয়ে নেয় প্রতিষ্ঠানটি। সে সময় ডাক ও টেলিযোগাযোগমন্ত্রী মোস্তাফা জব্বারের ঘনিষ্ঠ ‘র্যাডিসন ডিজিটাল টেকনোলজিস’ ও ‘কম্পিউটার ওয়ার্ল্ড’-কে যৌথভাবে যুক্ত করে কাজটি নেওয়া হয়েছিল।
পরবর্তীতে ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে উন্মুক্ত দরপত্র ছাড়াই সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে (DPM) ৫ কোটি ৬৪ লাখ টাকার রক্ষণাবেক্ষণের কাজ পেতে চেষ্টা চালালেও ‘বেসিস’-এর তীব্র প্রতিবাদের মুখে তা বাতিল হয়। এরপর সরকারি তহবিল বাদ দিয়ে মোবাইল হ্যান্ডসেট আমদানিকারকদের সংগঠন এমআইওবি (MIOB)-এর নির্দিষ্ট ৯টি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে ১০ কোটি (ভ্যাট-ট্যাক্সসহ ১১ কোটি ৪০ লাখ) টাকা তুলে বেসরকারি সিন্ডিকেটের অর্থে প্রজেক্ট চালানোর নতুন মডেল নিয়ে তথ্যপ্রযুক্তি খাতের বিশেষজ্ঞ ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |