| বঙ্গাব্দ

সীমান্ত বাণিজ্যে টাকার বদলে ইয়াবা-আইস, উদ্বেগে প্রশাসন

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 02-08-2026 ইং
  • 2133 বার পঠিত
সীমান্ত বাণিজ্যে টাকার বদলে ইয়াবা-আইস, উদ্বেগে প্রশাসন
ছবির ক্যাপশন: সীমান্ত বাণিজ্যে

সীমান্ত বাণিজ্যে বিপজ্জনক ‘নার্কো-কারেন্সি’: মিয়ানমার থেকে খাদ্যপণ্যের বদলে ঢুকছে মাদক

আন্তর্জাতিক ও সীমান্ত অপরাধ ডেস্ক

৩ আগস্ট, ২০২৬

ব্যাংকিং চ্যানেল বা নগদ টাকা নয়, বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তে পণ্য লেনদেনের প্রধান মাধ্যম হয়ে উঠেছে মানববিধ্বংসী সব মাদক। সংঘাতপূর্ণ মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের তীব্র সংকট দেখা দেওয়ায়, সেখানে সরবরাহ করা বাংলাদেশি নিত্যপণ্যের দাম পরিশোধ করা হচ্ছে ইয়াবা ও ক্রিস্টাল মেথ (আইস) দিয়ে।

আন্তর্জাতিক অপরাধ বিজ্ঞানের ভাষায় অবৈধ এই বিনিময় প্রথাকে বলা হচ্ছে ‘নার্কো-কারেন্সি’ (Narco-currency) বা মাদক-মুদ্রা। এক সাম্প্রতিক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে টেকনাফ ও কক্সবাজার সীমান্ত বাণিজ্যের এই ভয়াল চিত্র সামনে এসেছে।

স্মার্ট সারসংক্ষেপ (Quick Takeaways)

  • লেনদেন মাধ্যম: টাকার বদলে চাল, ডাল, তেল ও সিমেন্টের বিনিময়ে সরাসরি আসছে ইয়াবা ও আইসের চালান।

  • মূল কারণ: রাখাইনে আরাকান আর্মির দখলের পর মিয়ানমার জান্তা সরকারের খাদ্য ও সরবরাহ অবরোধ।

  • উদ্ধারের পরিসংখ্যান: ২০২৫ সালে দেশে ৪ কোটি ৩৫ লাখেরও বেশি ইয়াবা ও আইস উদ্ধার করা হয়েছে, যা পূর্ববর্তী বছরের চেয়ে ৯০% বেশি

  • প্রভাব: সরাসরি দেশে মাদক তৈরি না হলেও সীমান্ত পার হয়ে আসা এসব প্রাণঘাতী মাদকে আসক্ত দেশের প্রায় ৮২ লাখ মানুষ।

সংঘাতের সুযোগে ‘নার্কো-কারেন্সি’র প্রসার

২০২৩ সালের নভেম্বরের পর থেকে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের প্রায় ৮০ শতাংশ এলাকা বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান আর্মি দখল করে নেয়। জবাবে মিয়ানমার সেনাবাহিনী রাখাইনে খাবার, ওষুধ ও জ্বালানি সরবরাহ পুরোপুরি অবরুদ্ধ করে ফেলে।

রাখাইনে চাল, তেল, আদা ও গৃহনির্মাণ সামগ্রীর বাজারে চরম হাহাকার তৈরি হলে বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের আন্তর্জাতিক চোরাচালান চক্র সক্রিয় হয়ে ওঠে। তারা চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের গোপন নৌপথ ব্যবহার করে পণ্য পাঠাচ্ছে এবং বিনিময়ে গ্রহণ করছে উচ্চ মূল্যের মাদক।

 সীমান্ত বাণিজ্যে ‘নার্কো-কারেন্সি’ নেটওয়ার্ক:
┌─────────────────────────────────────────────────────────────────────────────┐
│ • বাংলাদেশ থেকে রফতানি  : চাল, ডাল, তেল, পেঁয়াজ, সিমেন্ট ও দরকারি ওষুধ।   
│ • মিয়ানমার থেকে আসছে  : ইয়াবা ট্যাবলেট ও ক্রিস্টাল মেথ (আইস)।            
│ • পরিবহনের মাধ্যম     : বঙ্গোপসাগরের গভীর ও গোপন নৌপথ।                     
│ • নতুন ঝুঁকি           : হুন্ডি প্রথার পরিবর্তে সরাসরি মাদক দিয়ে মূল্য পরিশোধ।   
└─────────────────────────────────────────────────────────────────────────────┘

আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও মৎস্য কর্মকর্তাদের উদ্বেগ

কক্সবাজার মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের (ডিএনসি) উপ-পরিচালক সোমেন মণ্ডল ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, আগে সীমান্তে হুন্ডি চক্রের বড় লেনদেন থাকলেও এখন নিত্যপণ্যের বদলেই সরাসরি বিপুল পরিমাণ মাদক দেশে প্রবেশ করছে।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মতে, বঙ্গোপসাগরের বিস্তীর্ণ নৌপথ ব্যবহার করে এই ত্রিস্তরীয় মাদক পাচার রোখা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ভেতরে মাদকের চাহিদা কমানো এবং সীমান্তে কড়া নজরদারি না বাড়ালে এই ‘নার্কো-কারেন্সি’ বড় ধরনের নিরাপত্তাহীনতা তৈরি করবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency