আন্তর্জাতিক ও মধ্যপ্রাচ্য বিষায়ক পর্যবেক্ষণ ডেস্ক
৩১ জুলাই, ২০২৬
ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় চলমান সংঘাত নিরসনে এক বড় ধরনের অগ্রগতি অর্জিত হয়েছে। গাজায় হামাসসহ অন্যান্য সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর সম্পূর্ণ নিরস্ত্রীকরণ এবং একই সাথে উপত্যকাটি থেকে ইসরাইলি সেনা প্রত্যাহারের বিষয়ে একটি সার্বিক চুক্তিতে পৌঁছেছে 'বোর্ড অব পিস' (Board of Peace)। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আনুষ্ঠানিকভাবে এই ঐতিহাসিক চুক্তি অর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এটিকে গাজা সংকটের চূড়ান্ত সমাধানের এক অত্যন্ত সংকটপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে অভিহিত করে জানান, এর মাধ্যমে অবশেষে গাজায় একটি নতুন ও স্বাধীন ফিলিস্তিনি সরকার গঠনের রাজপথ উন্মুক্ত হলো।
চুক্তির মূল শর্ত: হামাস ও অন্যান্য প্রতিরোধ যোদ্ধা দলের সম্পূর্ণ নিরস্ত্রীকরণ এবং গাজা ভূখণ্ড থেকে ইসরাইলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর (IDF) পূর্ণাঙ্গ প্রত্যাহার।
হামাসের অবস্থান: বিবিসিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে হামাসের আলোচনার প্রতিনিধি জানান, সংগৃহীত অস্ত্রের তালিকা বা নিয়ন্ত্রণ কোনোভাবেই ইসরাইলের হাতে যাবে না; তা থাকবে ফিলিস্তিনি তদারকি কমিটির অধীনে।
যুক্তরাষ্ট্রের কড়া বার্তা: চুক্তির শর্ত মেনে ইসরাইল যদি সেনা প্রত্যাহার না করে, তবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ‘চরম হতাশ’ হবেন বলে জানিয়েছেন এক মার্কিন কর্মকর্তা।
আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া: চুক্তিটিকে স্বাগত জানিয়েছে যুক্তরাজ্য। অন্যদিকে বোর্ড অব পিসের কর্মকর্তা নিকোলাই ম্লাদেনভ একে বাস্তবে রূপ দেওয়ার ওপর জোর দিয়েছেন।
শুক্রবার (৩১ জুলাই) বিবিসির সাথে আলাপকালে হামাসের একজন সিনিয়র কর্মকর্তা ও মূল আলোচনা দলের প্রতিনিধি জানান যে, এই চুক্তিতে পৌঁছানোর পথ মোটেই সহজ ছিল না।
তিনি জানান, হামাস আলোচনার মূল টেবিলে এটি সুনির্দিষ্টভাবে নিশ্চিত করেছে যে, তাদের নিকট থাকা অস্ত্রশস্ত্রের ইনভেন্টরি বা তালিকা তৈরি করা এবং তা সংরক্ষণের দায়িত্বে কোনোভাবেই ইসরাইল হস্তক্ষেপ করতে পারবে না। এসব প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ স্বাধীন ফিলিস্তিনি তদারকি কর্তৃপক্ষের অধীনে পরিচালিত হতে হবে।
বোর্ড অব পিস চুক্তির প্রধান ২ মূল স্তম্ভ:
┌─────────────────────────────────────────────────────────────────────────┐
│ ১. সামরিক নিরস্ত্রীকরণ : হামাস ও আঞ্চলিক বাহিনীর অস্ত্র ফিলিস্তিনি কমিটির সংসংগ্রহে রাখা।│
│ ২. ভূখণ্ড খালি করা : সম্পূর্ণ গাজা উপত্যকা থেকে ইসরাইলি সেনা প্রত্যাহার করা। │
└─────────────────────────────────────────────────────────────────────────┘
বোর্ড অব পিসের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা নিকোলাই ম্লাদেনভ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে সতর্ক বার্তা দিয়ে লিখেছেন:
নিকোলাই ম্লাদেনভ (কর্মকর্তা, বোর্ড অব পিস):
"চুক্তিটিতে কাগজের কলমে কী লেখা হয়েছে তা যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তার চেয়ে বহুগুণ বেশি গুরুত্বপূর্ণ হলো পরবর্তীতে বাস্তবে উভয় পক্ষ কী পদক্ষেপ গ্রহণ করছে।"
যুক্তরাজ্যের মন্ত্রিসভার জ্যেষ্ঠ মন্ত্রী লুই হেগ শান্তি আলোচনা ও হামাসের এই নিরস্ত্রীকরণের অগ্রগতিকে ‘অত্যন্ত স্বাগত জানানোর মতো পদক্ষেপ’ বলে আখ্যা দিয়েছেন।
এদিকে, চুক্তিটি প্রকাশ্যে আসার পর থেকে ইসরাইল সরকারের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেওয়া হয়নি। তবে ওয়াশিংটনে মার্কিন প্রশাসনের এক উর্ধতন কর্মকর্তা সাংবাদিকদের স্পষ্ট জানান, চুক্তির ধারাবাহিকতায় ইসরাইল যদি এখন গাজা থেকে সেনা সরাতে গড়িমসি করে, তবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এতে মারাত্মকভাবে ক্ষুব্ধ ও হতাশ হবেন।
গাজার ভবিষ্যৎ ও ট্রাম্পের শান্তিনীতি
নতুন ফিলিস্তিনি সরকার গঠনের সুযোগ: গাজায় দীর্ঘ লড়াইয়ের পর একটি টেকসই রাজনৈতিক সমাধানের জন্য নিরস্ত্রীকরণ ও সেনা প্রত্যাহার—উভয় শর্তই অত্যাবশ্যকীয়। এর ফলে হামাসমুক্ত অথবা হামাসের রাজনৈতিক রূপান্তরের মাধ্যমে একটি যৌথ ফিলিস্তিনি বেসামরিক প্রশাসন গড়ে ওঠার ভিত্তি তৈরি হলো।
ইসরাইলি অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে চাপ: তেল আবিব ও প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ওপর ট্রাম্প প্রশাসনের কূটনৈতিক চাপ এখন চরমে। গাজা থেকে সেনা প্রত্যাহার ইসরাইলের কট্টরপন্থীদের জন্য রাজনৈতিকভাবে চ্যালেঞ্জিং হলেও মার্কিন ক্ষোভ এড়াতে তা মানতে বাধ্য হতে পারে তারা।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |