হরমুজ প্রণালিকে ইরান যেভাবে রাজনৈতিক ও সামরিক অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছে, তার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। তবে গণহত্যার দায়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত কর্তৃক ওয়ারেন্টভুক্ত এই আসামি মনে করেন, অদূর ভবিষ্যতে বিশ্ব বাণিজ্যে এই প্রণালির গুরুত্ব আর আগের মতো থাকবে না।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম এবিসি নিউজকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে নেতানিয়াহু দাবি করেন, অল্টারনেটিভ বা বিকল্প পাইপলাইনের মাধ্যমে বিশ্ব এই গুরুত্বপূর্ণ চোকপয়েন্ট (Chokepoint) থেকে বেরিয়ে আসতে পারবে।
সাক্ষাৎকারে নেতানিয়াহু স্বীকার করেন, ইরান যে শেষ পর্যন্ত এই নৌপথ বন্ধ বা অবরুদ্ধ করে দেওয়ার মতো পদক্ষেপ নেবে, তা আগে থেকে সম্পূর্ণ নিশ্চিতভাবে ধারণা করা সম্ভব ছিল না। তিনি বলেন, "কেউই নির্ভুলভাবে বলতে পারত না, ইরান শেষ পর্যন্ত কী করতে যাচ্ছে।"
তিনি আরও দাবি করেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে আজ বিশ্ববাসী অনুধাবন করতে পারছে যে, সামগ্রিক বিশ্বশান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্য ইরান কতটা বড় হুমকি।
হরমুজ প্রণালির ভবিষ্যৎ কৌশলগত গুরুত্ব নিয়ে নিজের দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেন ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী। তিনি জানান, বিশ্ব জ্বালানি পরিবহনের মূল রুট ধীরে ধীরে বদলে ফেলা হবে।
নেতানিয়াহুর পরিকল্পনা অনুযায়ী:
জ্বালানি পরিবহনের রুট হরমুজ প্রণালি এড়িয়ে প্রথমে লোহিত সাগরে নেওয়া হবে।
লোহিত সাগর থেকে সংযোগ স্থাপন করা হবে ইসরাইলে।
সেখান থেকে সরাসরি জ্বালানি পৌঁছে যাবে ভূমধ্যসাগরমুখী রুটে।
নেতানিয়াহু দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন, "মানুষ জ্বালানি পাইপলাইন হরমুজ এড়িয়ে লোহিত সাগরে, সেখান থেকে ইসরাইল হয়ে ভূমধ্যসাগরে স্থানান্তর করবে। আমরা এই চোকপয়েন্টের ওপর নির্ভরতা ভেঙে দিতে পারব, এবং আমরা তা করব।"
বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ কৌশলগত ও গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ হলো এই হরমুজ প্রণালি। পারস্য উপসাগরের মুখে অবস্থিত এই সংকীর্ণ জলপথ দিয়ে প্রতিদিন বিশ্বজুড়ে পরিবাহিত মোট জ্বালানি তেলের এক-পঞ্চমাংশ এবং বিপুল পরিমাণ তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (LNG) বহনকারী জাহাজ চলাচল করে।
ফলে এই জলপথে কোনো ধরনের সামরিক উত্তেজনা বা অবরোধ তৈরি হলে মুহূর্তে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে মারাত্মক প্রভাব পড়ে এবং বিশ্ব অর্থনীতি বড় ধরনের সংকটে পড়ে।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |