আন্তর্জাতিক ও সংবাদ ডেস্ক
সর্বশেষ আপডেট: ২৪ জুলাই, ২০২৬
ভারতের শিক্ষা খাতের প্রশ্নফাঁস কেলেঙ্কারি ও শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশি চড়াওয়ের ঘটনায় কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে সুর আরও চড়িয়েছেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, বিতর্কিত কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে পদ থেকে বরখাস্ত না করা পর্যন্ত বিরোধী দলগুলো মোদি সরকারের সঙ্গে কোনো ধরনের রাজনৈতিক আলোচনায় বসবে না।
শুক্রবার (২৪ জুলাই, ২০২৬) লোকসভায় বক্তব্য রাখতে না দেওয়ার ক্ষোভ প্রকাশ করে সংসদ ভবনের বাইরে সাংবাদিকদের কাছে তিনি বিরোধী জোটে গৃহীত এই অবস্থান তুলে ধরেন।
বিরোধীদের ৩ দফা দাবি: দুর্নীতিগ্রস্ত শিক্ষামন্ত্রীকে বরখাস্তকরণ, আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের ওপর হামলায় জড়িতদের শাস্তি এবং প্রধানমন্ত্রীর প্রকাশ্য ক্ষমা প্রার্থনা।
সংসদে বাক-স্বাধীনতা হরণ: সংসদবিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজুর বক্তব্যের পর বিরোধী দলনেতাকে কথা বলতে না দেওয়ার অভিযোগ।
মাঠের আন্দোলন: যন্তর মন্তরে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি অভিজিৎ দীপকের নেতৃত্বে অনির্দিষ্টকালের ধর্না অব্যাহত।
শুক্রবার লোকসভা অধিবেশন চলাকালে বিরোধীরা শিক্ষা খাতের অনিয়ম নিয়ে আলোচনার দাবি জানালে সংসদ উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীর অভিযোগ, সংসদবিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজু বক্তব্য শেষ করার পর তাঁকেও অধিবেশনে কথা বলতে দেওয়া হয়নি।
সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে রাহুল গান্ধী বলেন:
“শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ যুক্তিযুক্ত এবং তাদের পক্ষে বিরোধীদের অবস্থান একেবারেই পরিষ্কার। যতক্ষণ না পর্যন্ত দুর্নীতিগ্রস্ত শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে বরখাস্ত করা হচ্ছে, আমরা সরকারের সঙ্গে কোনো প্রকার আলোচনাতেই যাব না। এটাই আমাদের একমাত্র ও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত।”
📋 আন্দোলনকারীদের উত্থাপিত মূল ৩ দফা দাবি:
১. বরখাস্তকরণ: অবিলম্বে বিতর্কিত শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের অপসারণ।
২. আইনগত ব্যবস্থা: আন্দোলনরত সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার সঙ্গে যুক্তদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি।
৩. রাষ্ট্রীয় ক্ষমা: শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ ও শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে তৈরি হওয়া সংকটের জন্য প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ক্ষমা প্রার্থনা।
এদিকে, রাজপথের আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়া ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি অভিজিৎ দীপকে সংবাদ সংস্থা এএনআই-কে জানান, পরিবেশবিদ সোনম ওয়াংচুকের ২৬ দিনের দীর্ঘ অনশন প্রত্যাহারে দেশ স্বস্তি পেলেও তাদের আন্দোলন থামছে না। শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ ছাড়া অন্য কোনো মধ্যস্থতা মানবে না সিজেপি।
তবে উদ্ভূত সংকট সমাধানে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কেন্দ্রীয় সরকারের প্রতিনিধি দল সিজেপি ও শিক্ষার্থী প্রতিনিধিদের সঙ্গে দিল্লির কনস্টিটিউশন ক্লাবে বিশেষ বৈঠকে বসছে বলে জানা গেছে।
┌─────────────────────────────────────────────────────────────────────────┐
│ সংসদীয় অচলাবস্থা ও ভারতের রাজনৈতিক সমীকরণ │
├─────────────────────────────────────────────────────────────────────────┤
│ • বিরোধী জোটের ঐক্যবদ্ধ চাপ: সর্বভারতীয় স্তরে ছাত্র আন্দোলনকে সামনে এনে │
│ সংসদের ভেতরে ও বাইরে মোদি সরকারকে কোণঠাসা করার কৌশল। │
│ • শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ ইস্যু: পদত্যাগ মেনে নিলে তা সরকারের নীতিগত │
│ পরাজয় হিসেবে পরিগণিত হবে, যা এড়াতে চাইছে বিজেপি নেতৃত্ব। │
└─────────────────────────────────────────────────────────────────────────┘
রাহুল গান্ধীর এই ঘোষণা আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের নতুন রাজনৈতিক অস্ত্র জুগিয়েছে। শিক্ষা খাতের এই কেলেঙ্কারিকে বিরোধীরা এখন আর সাধারণ প্রাতিষ্ঠানিক ব্যর্থতা হিসেবে দেখছেন না; বরং এটিকে পুরো মোদি প্রশাসনের রাজনৈতিক ও নৈতিক দেউলিয়াত্ব হিসেবে উপস্থাপন করছেন।
সংসদবিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজুর বক্তব্যের পরই বিরোধী দলনেতার মাইক বন্ধ করা বা কথা বলতে না দেওয়ার অভিযোগ ভারতের সংসদীয় গণতন্ত্রের ধারাবাহিক সংঘাতকে স্পষ্ট করে। সরকার আলোচনার মাধ্যমে অচলাবস্থা কাটাতে চাইলেও, মন্ত্রীকে বরখাস্ত করার বিরোধী শর্ত মেনে নেওয়া কেন্দ্রের জন্য কৌশলগতভাবে কঠিন চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |