আন্তর্জাতিক ও দক্ষিণ এশিয়া ডেস্ক
সর্বশেষ আপডেট: ২১ জুলাই, ২০২৬
ভারতের কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ এবং সমগ্র শিক্ষা ব্যবস্থায় আমূল সংস্কার নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার নতুন ও কঠোর ঘোষণা দিয়েছে উদীয়মান রাজনৈতিক-সামাজিক শক্তি ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। রাজধানী নয়াদিল্লিতে বিক্ষোভকারী শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপের পরদিন, মঙ্গলবার (২১ জুলাই, ২০২৬) সংগঠনটির পক্ষ থেকে আন্দোলন অব্যাহত রাখার এই শক্ত অবস্থান জানানো হয়।
এর আগে গত সোমবার (২০ জুলাই) পরীক্ষা ব্যবস্থায় অনিয়ম ও প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রতিবাদে হাজার হাজার শিক্ষার্থী দিল্লির রাজপথে নেমে আসেন। বিক্ষোভকারীরা ভারতের সংসদ ভবন অভিমুখে মিছিল নিয়ে এগোনোর চেষ্টা করলে পুলিশ চড়াও হয়। লাঠিচার্জ, টিয়ারগ্যাস ও দফায় দফায় সংঘর্ষে পুলিশ ও শিক্ষার্থী সহ অন্তত ১৮০ জন আহত হন, যা গত পাঁচ বছরের মধ্যে দিল্লির অন্যতম বড় এবং সহিংস সড়ক বিক্ষোভে রূপ নেয়।
চলতি ২০২৬ সালের মে মাসে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমকে কেন্দ্র করে একটি ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে যাত্রা শুরু করেছিল এই ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (CJP)। তবে মাত্র দুই মাসের ব্যবধানে সংগঠনটি ভারতের কোটি কোটি তরুণ ও শিক্ষার্থীর অভূতপূর্ব সমর্থন লাভ করেছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির টানা তৃতীয় মেয়াদের শাসনকালে এটিই সবচেয়ে শক্তিশালী ও ভয়াবহ সর্বজনীন রাজনৈতিক ও সামাজিক আন্দোলনে পরিণত হয়েছে।
✊ সিজেপি আন্দোলনের মূল পটভূমি ও বর্তমান অবস্থা:
• আন্দোলনের মূল দাবি: কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের তাৎক্ষণিক পদত্যাগ এবং এনইইটি (NEET) সহ সকল ভর্তি ও নিয়োগ পরীক্ষার দুর্নীতি বন্ধে আইনি ব্যবস্থা।
• যন্তর-মন্তরে অবস্থান: দমন-পীড়নের তোয়াক্কা না করে মঙ্গলবার থেকে আবারও দিল্লির যন্তর-মন্তরে হাজারো আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেছেন।
• রাজনৈতিক বৈঠক নিষ্ফল: সোমবার বিকেলে নরেন্দ্র মোদি সরকারের কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জে পি নাড্ডার সঙ্গে সিজেপি নেতাদের আনুষ্ঠানিক বৈঠক হলেও কোনো সুনির্দিষ্ট সমাধান আসেনি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক ভিডিও বার্তায় এবং আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা এএফপি-কে (AFP) দেওয়া সাক্ষাৎকারে সিজেপি নেতা আশুতোষ রাঙ্কা বলেন:
“ভারতের গণতন্ত্র ও শিক্ষা ব্যবস্থার ইতিহাসে সোমবারের দিনটি ছিল একটি চরম লজ্জাজনক অধ্যায়। ন্যায্য দাবিতে শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে আসা সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর দিল্লি পুলিশ বর্বর ও নির্মম অত্যাচার চালিয়েছে। তবে এই দমন-পীড়ন চালিয়ে আমাদের দমন করা যাবে না। আমরা একচুলও পিছিয়ে আসব না—শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে পদত্যাগ করতেই হবে।”
ভারতে দীর্ঘদিন ধরে পরীক্ষা সংক্রান্ত অনিয়ম এবং প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় দেশের সামগ্রিক শিক্ষা ব্যবস্থার ওপর সাধারণ মানুষের আস্থা শূন্যের কোঠায় পৌঁছেছে। সম্প্রতি মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা (NEET) ফাঁস হওয়ায় তা বাতিল করে নতুন করে ২২ লাখ শিক্ষার্থীর জন্য পুনরায় কঠোর নিরাপত্তায় পরীক্ষা আয়োজন করতে হয়েছিল। এর পাশাপাশি উচ্চমাধ্যমিকের প্রায় ২০ লাখ শিক্ষার্থীর মূল্যায়ন প্রক্রিয়া নিয়ে অনিয়ম ধরা পড়ায় ভারতের ছাত্রসমাজ ব্যাপকভাবে ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছে।
এদিকে, প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেসের শীর্ষ নেতা রাহুল গান্ধীও এই ঘটনায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে দেশবাসীর কাছে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |