খেলাধুলা ও লাইফস্টাইল ডেস্ক
সর্বশেষ আপডেট: ১৭ জুলাই, ২০২৬
বিশ্ব ফুটবলের সর্বকালের অন্যতম সেরা মহাতারকা লিওনেল মেসি শুধু মাঠের জাদুকরী পারফরম্যান্স দিয়েই নয়, মাঠের বাইরের দূরদর্শী ব্যবসায়িক সাফল্য দিয়েও নিজেকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছেন। রেকর্ড ভাঙা, শিরোপা জয় এবং অসংখ্য ব্যক্তিগত অর্জনের পাশাপাশি ইউরোপের পর্যটন শিল্পে বিলাসবহুল হোটেল ব্যবসা গড়ে তুলে একজন সফল উদ্যোক্তা হিসেবেও নিজের অবস্থান তৈরি করেছেন আর্জেন্টাইন এই কিংবদন্তি। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি (NDTV)-এর এক বিশেষ প্রতিবেদনে মেসির এই বিলিয়ন ডলারের হোটেল ব্যবসার আদ্যোপান্ত উঠে এসেছে।
বর্তমানে স্পেন ও অ্যান্ডোরাজুড়ে ছড়িয়ে থাকা ৬টি অতি-অভিজাত বুটিক হোটেলের একক মালিক লিওনেল মেসি। ‘এমআইএম হোটেলস’ (MiM Hotels) নামে পরিচালিত এই হোটেল চেইন এখন ইউরোপের জনপ্রিয় পর্যটন গন্তব্যগুলোর অন্যতম মূল আকর্ষণ। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা পর্যটক ও ফুটবলপ্রেমীরা শুধু ভ্রমণের জন্যই নয়, মেসির ক্যারিয়ার ও জীবনের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অনুভূতি পেতেও এসব হোটেলে চড়া মূল্যে অবস্থান করতে আগ্রহী হন।
মেসির মালিকানাধীন হোটেলগুলো এমন সব স্ট্র্যাটেজিক ও মনোরম স্থানে নির্মাণ করা হয়েছে, যেগুলো পর্যটকদের কাছে আগে থেকেই অত্যন্ত জনপ্রিয় ও ব্যয়বহুল।
মেসির ৬টি বুটিক হোটেলের অবস্থান ও বৈশিষ্ট্য:
১. এমআইএম সিটজেস (Sitges): বার্সেলোনার উপকূলীয় শহর; সমুদ্রের মনোমুগ্ধকর দৃশ্যসহ ৭৭টি আধুনিক কক্ষ।
২. এমআইএম ইবিজা (Ibiza): ভূমধ্যসাগরের বিখ্যাত দ্বীপে অবস্থিত; এক রাতের কক্ষভাড়া শুরু হয় প্রায় ৬০০ ইউরো (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৮০ হাজার টাকা) থেকে।
৩. এমআইএম মায়োর্কা (Mallorca): যারা সম্পূর্ণ নিরিবিলি পরিবেশে ছুটি কাটাতে চান, তাদের জন্য আদর্শ।
৪. এমআইএম বাকেইরা (Baqueira): স্পেনের পিরেনিজ পর্বতমালায় অবস্থিত; শীতকালীন স্কি মৌসুমে পর্যটকদের প্রধান আকর্ষণ।
৫. এমআইএম অ্যান্ডোরা (Andorra): অ্যান্ডোরার কার্লেমানি অ্যাভিনিউতে অবস্থিত পাঁচতারকা হোটেল; স্ক্যান্ডিনেভিয়ান ধাঁচের অভ্যন্তরীণ সাজসজ্জা।
৬. এমআইএম সোটোগ্রান্দে (Sotogrande): আন্দালুসিয়ার একটি বিশেষ নৌ-থিমভিত্তিক (Naval-themed) বুটিক হোটেল।
যদিও হোটেলগুলোর দৈনন্দিন পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছে স্পেনের বিশ্বখ্যাত চেইন প্রতিষ্ঠান ‘মেলিয়া হোটেলস ইন্টারন্যাশনাল’ (Meliá Hotels International), তবুও সবকটি হোটেলের মূল মালিকানা ও নিয়ন্ত্রণ রয়েছে লিওনেল মেসির নিজস্ব প্রতিষ্ঠানের হাতেই। ‘দ্য মেলিয়া কালেকশন’-এর অধীনে পরিচালিত এই হোটেলগুলো আন্তর্জাতিক মানের প্রিমিয়াম সেবা দিয়ে ইতোমধ্যেই বিশ্বজুড়ে পর্যটকদের আস্থা অর্জন করেছে।
ফুটবলপ্রেমীদের জন্য এমআইএম হোটেলসকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলেছে মেসির ব্যক্তিগত উপস্থিতির নানা ছাপ। কয়েকটি বিশেষ হোটেলে রয়েছে ‘লিও মেসি সুইট’, যেখানে অতিথিরা মেসির মাঠের ক্যারিয়ারের সঙ্গে সম্পৃক্ত নানা উপাদানের ছোঁয়া সরাসরি অনুভব করতে পারেন। এছাড়া হোটেলের লবি ও নির্দিষ্ট প্রদর্শনী এলাকায় অত্যন্ত সুরক্ষায় সাজিয়ে রাখা হয়েছে মেসির জেতা বিশ্বরেকর্ড আটটি ব্যালন ডি’অর (Ballon d'Or) ট্রফির প্রতিরূপ (Replica), যা দর্শনার্থীদের জন্য এক অবর্ণনীয় বাড়তি আকর্ষণ।
আবাসনের পাশাপাশি রসনাবিলাসীদের কথাও মাথায় রেখেছেন এলএমটেন। বাকেইরা, অ্যান্ডোরা ও সোটোগ্রান্দের হোটেলগুলোতে রয়েছে ‘হিনচা’ (Hincha) নামের বিশেষ সিগনেচার রেস্তোরাঁ।
মিশেলিন তারকার ছোঁয়া: মিশেলিন তারকাপ্রাপ্ত বিশ্ববিখ্যাত স্প্যানিশ শেফ নান্দু জুবানির প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় পরিচালিত এই রেস্তোরাঁয় পরিবেশন করা হয় আন্তর্জাতিক মানের সব রাজকীয় খাবার। এখানকার মেন্যুর সবচেয়ে আলোচিত ও জনপ্রিয় ডেজার্টের নাম রাখা হয়েছে খোদ ‘ব্যালন ডি’অর’, যা মেসির কিংবদন্তি ফুটবল ক্যারিয়ারের প্রতি সম্মান জানিয়ে হুবহু গোল্ডেন বলের আকৃতিতে তৈরি করা হয়েছে। এছাড়া বিশেষ অতিথিদের জন্য রয়েছে ব্যক্তিগত রুফটপ জাকুজি, আধুনিক ওয়েলনেস স্পা এবং উন্নতমানের আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্যসেবা সুবিধা।
হোটেল ব্যবসার বাইরেও মেসি নিজের অর্থনৈতিক বিনিয়োগের পরিধি ক্রমাগত বাড়িয়ে চলেছেন। ফুটবল ক্যারিয়ারের শেষ অধ্যায়ে এসে তিনি নিজেকে সাস্টেইনেবল রাখতে রিয়েল এস্টেট, বিভিন্ন বৈশ্বিক ক্রীড়া প্রতিষ্ঠানে অংশীদারত্ব, আন্তর্জাতিক মিডিয়া, ফিনটেক বা প্রযুক্তি খাত, নিজস্ব পোশাক ব্র্যান্ড (The Messi Store) এবং প্রমিজিং ভোগ্যপণ্যের ব্যবসাতেও বড় অঙ্কের বিনিয়োগ করেছেন।
ক্রীড়া ও অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মাঠে যেভাবে মেসি নিখুঁত ধৈর্য, নিখুঁত পরিকল্পনা ও ক্ষুরধার দূরদর্শিতার সমন্বয় ঘটিয়েছেন, ব্যবসার ময়দানেও তিনি সেই একই স্কিল কাজে লাগাচ্ছেন। ফলে লিওনেল মেসি এখন শুধু একজন কিংবদন্তি ফুটবলার নন, বরং একজন বিলিয়নিয়ার সফল ব্যবসায়ী হিসেবেও বিশ্বজুড়ে নিজের অবস্থান আরও শক্ত ও সুসংহত করে তুলছেন।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |