ক্রীড়া ও ফুটবল ডেস্ক | আটলান্টা
সর্বশেষ আপডেট: ১৫ জুলাই, ২০২৬
ফুটবল বিশ্বকাপের ইতিহাসে আর্জেন্টিনা বনাম ইংল্যান্ডের দ্বৈরথ মানেই মাঠের ভেতরের এবং বাইরের সীমাহীন আবেগ, ঐতিহ্য ও ফুটবল শ্রেষ্ঠত্বের লড়াই। একদিকে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা, অন্যদিকে লড়াকু ইংল্যান্ড। লিওনেল মেসি বনাম জুড বেলিংহাম, হুলিয়ান আলভারেজ বনাম হ্যারি কেইন কিংবা ডাগআউটে লিওনেল স্কালোনি ও টমাস টুখেলের ক্ষুরধার কৌশলী মস্তিষ্ক—সব মিলিয়ে তারকাখচিত এই সেমিফাইনাল ঘিরে ফুটবল বিশ্বের উত্তেজনা এখন আকাশচুম্বী।
তবে মাঠের নামার আগে অতীতের রোমাঞ্চকর ইতিহাস বা বৈরিতার চেয়ে বর্তমানের চ্যালেঞ্জকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন ইংল্যান্ডের অধিনায়ক ও প্রাণভোমরা হ্যারি কেইন। তাঁর মতে, বিশ্বকাপের সেমিফাইনালের মঞ্চে এর চেয়ে বড় ম্যাচ আর হতে পারে না।
ব্রিটিশ ঐতিহ্যবাহী সম্প্রচারমাধ্যম আইটিভি (ITV)-কে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে হ্যারি কেইন রোমাঞ্চ প্রকাশ করে বলেন:
“কী দারুণ একটি ম্যাচ, কী অসাধারণ এক ফুটবলীয় উপলক্ষ! বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন এবং বিশ্বের অন্যতম সেরা একটি দলের বিপক্ষে আমরা বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল খেলতে নামছি। ছোটবেলায় যখন ফুটবল পায়ে খড়ি হয়েছিল, ঠিক এমন একটি ম্যাচ খেলার স্বপ্নই আমি দিনরাত দেখতাম।”
তিনি আরও যোগ করেন, “বিশ্বকাপের মঞ্চে এর চেয়ে বড় ম্যাচ আর কোনোটি হতেই পারে না। তাই এই ম্যাচের আগের সপ্তাহটি নিয়ে আমি ভীষণ রোমাঞ্চিত। ম্যাচটি অত্যন্ত বিশেষ কিছু হতে যাচ্ছে। কঠিনতম প্রতিপক্ষের মুখোমুখি হচ্ছি আমরা, তবে আশা করি এই চাপই মাঠের ভেতর আমাদের সেরা পারফরম্যান্স বের করে আনবে।”
আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ডের ম্যাচের পেছনে থাকা নানা ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট (যেমন ডিয়েগো ম্যারাডোনার ১৯৮৬ সালের ‘হ্যান্ড অব গড’ বা ১৯৯৮ সালের ডেভিড বেকহামের লাল কার্ড) নিয়ে প্রশ্ন করা হলে কেইন খুব পেশাদার ভঙ্গিতে তা এড়িয়ে যান।
তিনি সাফ জানিয়ে দেন, খেলোয়াড় হিসেবে তিনি ইতিহাস নিয়ে পড়ে না থেকে মাঠের ফুটবলে শতভাগ মনোযোগ দিতে চান। তিনি বলেন, “হ্যাঁ এবং না। ইতিহাস নিয়ে আমরা এই মুহূর্তে খুব বেশি ভাবতে চাই না। এগুলো নিয়ে আপনারা সংবাদকর্মী ও সমর্থকেরা চায়ের টেবিলে অন্তহীন আলোচনা করবেন, সেটাই স্বাভাবিক। কিন্তু খেলোয়াড় হিসেবে আমাদের মনোযোগ কেবল মাঠের ৯০ মিনিটের রণকৌশলের ওপর।”
ফিফা ফুটবল বিশ্বকাপ ২০২৬ (সেমিফাইনাল):
• ম্যাচ: আর্জেন্টিনা বনাম ইংল্যান্ড
• ভেন্যু: মার্সিডিজ-বেঞ্জ স্টেডিয়াম, আটলান্টা (মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র)
• বিজয়ী দলের প্রতিপক্ষ: ফাইনালে ইতিমধ্যেই উঠে যাওয়া পরাশক্তি 'স্পেন'
প্রতিপক্ষ আর্জেন্টিনার শক্তিমত্তা ও ম্যাচ রিডিংয়ের ক্ষমতা সম্পর্কে দারুণ শ্রদ্ধাশীল ইংলিশ অধিনায়ক। তিনি আর্জেন্টাইনদের ডিফেন্ডিং কৌশল ও আগ্রাসনের প্রশংসা করে বলেন:
“আমরা একটি অত্যন্ত অসাধারণ দলের বিপক্ষে খেলতে যাচ্ছি। তারা ভীষণ চতুর, কৌশলী এবং মাঠের ভেতর ম্যাচের গতিপথ কীভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে হয়, সেটা ভালোভাবেই জানে। তারা ফাউল আদায় করতে পারে, প্রয়োজনে গেমের গতি কমিয়ে দিয়ে প্রতিপক্ষকে ছিটকে দিতে পারে। পেশাদার ক্যারিয়ারে সেরা হতে হলে এমন বুদ্ধিদীপ্ত দলের বিপক্ষে আমাদের জয়ী হতেই হবে।”
সবশেষে কেইন দলের খেলোয়াড়দের নিজেদের ওপর পূর্ণ আত্মবিশ্বাস বজায় রাখার পরামর্শ দিয়ে বলেন, “এটি ইংল্যান্ড বনাম আর্জেন্টিনা—বিশ্ব ফুটবলের দুই পরাশক্তির ক্লাসিক লড়াই। বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে দুই জায়ান্ট মুখোমুখি হচ্ছে। এর বাইরে বাকি সবকিছুই গৌণ। আমাদের লক্ষ্য একটাই, কোচের দেওয়া পরিকল্পনা নিখুঁতভাবে বাস্তবায়ন করা এবং বিশ্বাস রাখা যে এই মঞ্চে আমরা সফল হতে পারব।”
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |