নিজস্ব প্রতিবেদক | বগুড়া
সর্বশেষ আপডেট: ১৫ জুলাই, ২০২৬
শিক্ষার্থীদের চলমান আন্দোলন দমনে লাঠিচার্জ ও টিয়ারশেল নিক্ষেপের তীব্র নিন্দা জানিয়ে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেছেন, “আর একটি শিক্ষার্থীর গায়েও যেন লাঠি বা বুটের আঘাত না পড়ে। কাউকে যেন গ্রেপ্তার না করা হয়।” তিনি সরকারকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “সরকারের উচিত অহংকারী মনোভাব ও গোঁয়ার্তুমি বাদ দিয়ে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে দ্রুত সংলাপে বসে সমস্যার সমাধান করা। তা না হলে এই শিক্ষার্থীদের হাত ধরেই সরকারের পতন ত্বরান্বিত হবে।”
বুধবার (১৫ জুলাই, ২০২৬) দুপুরে বগুড়া মহানগরীর নামাজগড় আঞ্জুমান-ই-গোরস্থানে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের শহীদ রাতুল, সিয়াম শুভ ও শিমুলের কবর জিয়ারত শেষে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী এসব কথা বলেন।
সারাদেশে শিক্ষার্থীদের চলমান আন্দোলন ও শিক্ষা সংস্কারের যৌক্তিক দাবি প্রসঙ্গে এনসিপি’র মুখ্য সমন্বয়ক বলেন:
“কতটুকু কষ্টে থাকলে পরীক্ষার হল ছেড়ে একজন শিক্ষার্থী রাজপথে চলে যায়! ২০১৮ বা ২০২৪ সালের আন্দোলন ছিল মূলত কর্মসংস্থানের (কোটা সংস্কার) জন্য, আর এখনকার আন্দোলন হচ্ছে সম্পূর্ণ ‘শিক্ষা সংস্কার’-এর জন্য। একে নিছক ছোটখাটো সাধারণ আন্দোলন হিসেবে না দেখে বৃহত্তর শিক্ষা সংস্কার আন্দোলন হিসেবে দেখতে হবে। এই বিষয়ে সংশ্লিষ্ট শিক্ষা মন্ত্রীর ব্যর্থতা থাকলে তাঁকে অবিলম্বে পদত্যাগ করিয়ে ছাত্রসমাজের কাছে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে হবে।”
ভারতের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্কের চরম ঘাটতির কথা উল্লেখ করে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, “বর্তমান সরকার ভারতের সঙ্গে সেই ধরনের ডিপ্লোমেসির (কূটনীতি) সক্ষমতা পুরোপুরি হারিয়েছে। যার কারণে শেখ হাসিনাকে ফিরিয়ে এনে বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করাতে পারছে না। আমরা অতীতে দ্বিপাক্ষিক চুক্তির মাধ্যমে ভারতের বিচ্ছিন্নতাবাদীদের ফেরত দিয়েছি। তাহলে বাংলাদেশ থেকে পালিয়ে যাওয়া সন্ত্রাসীদের ভারত কেন ফেরত দিচ্ছে না? মূলত সরকার ভারতের সঙ্গে এক ধরনের আপস বা সমঝোতা করার কারণেই শেখ হাসিনাকে আনতে পারছে না এবং এ জায়গায় বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার চরমভাবে ব্যর্থ হয়েছে।”
তিনি আরও যোগ করেন, “ইনশাআল্লাহ, আমরা আগামীতে ক্ষমতায় আরোহণ করে শেখ হাসিনাকে বাংলার মাটিতে এনে শতভাগ সুষ্ঠু বিচার করব।”
কবর জিয়ারত কর্মসূচিতে উপস্থিত এনসিপির কেন্দ্রীয় মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলম বিএনপির কঠোর সমালোচনা করে বলেন:
“আমরা বর্তমান বিএনপি সরকারকে দেখছি যে, সংসদে দাঁড়িয়ে তারা গণভোটের রায়ের বিপক্ষে সাফাই গাইছে; জুলাই সনদের সরাসরি বিপক্ষে কথা বলছে। অথচ তাদের নিজেদের নির্বাচনী ৩১ দফাতেই কিন্তু সংবিধান ও দেশের গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন বিষয় সংস্কারের সুস্পষ্ট অঙ্গীকার ছিল। এখন তারা সংসদে দাঁড়িয়ে কিসের স্বার্থে ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদ’ নিয়ে প্রশ্ন তুলছে? আমরা পরিষ্কার মনে করি, এটি জুলাইয়ের বিপ্লবী আকাঙ্ক্ষা এবং আমার শহীদ ভাইদের চরম ত্যাগের সঙ্গে স্পষ্ট গাদ্দারি ও বেইমানি ছাড়া আর কিছুই নয়।”
সারজিস আলম আরও হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “এ ধরনের প্রতারণা ও দ্বিচারিতা করে বাংলাদেশের রাজনীতিতে কেউ আগামীতে কোনোদিন প্রাসঙ্গিক বা টিকে থাকতে পারবে না। বিএনপি ও তাদের অঙ্গসংগঠনগুলো আমাদের ঐতিহাসিক গণ-অভ্যুত্থানের রাজপথের সহযোদ্ধা ছিল। আমরা আশা করি তারা যেন ইনসাফ ও ন্যায়ের পক্ষে থাকে। তারা যদি নিজেদের পথ থেকে বিচ্যুত হয়, তবে আমরা আমাদের চূড়ান্ত লড়াই শেষপর্যন্ত চালিয়ে যাব।”
🚨 খুনিদের আশ্রয় দেওয়ার অভিযোগ:
সারজিস আলম অভিযোগ করেন, বিএনপির অঙ্গসংগঠনগুলো আমাদের বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মিছিল করছে, অবাঞ্ছিত ঘোষণা করছে। অথচ জুলাইয়ের খুনি আবু সাইদ খানকে গ্রেফতারের দাবি একবারও মুখে উচ্চারণ করেনি। উল্টো খুনি আবু সাইদ একটি ভয়েস মেসেজ দিয়ে শিমুল বিশ্বাসকে নিরপরাধ দাবি করছে। এই গোপন লিংকটা কোথায়, তা দেশের সাধারণ জনগণ খুব ভালো করেই বোঝে। পেছন থেকে যেই খুনিদের শেল্টার দিক না কেন, আমরা তাদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধভাবে কথা বলব।
কবর জিয়ারত ও দোয়া অনুষ্ঠানে জাতীয় নাগরিক পার্টির কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় জেলা অঙ্গ-সংগঠনের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী অংশ নেন। এ সময় দেশের স্বাধীনতা ও স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে শহীদ হওয়া ওসমান হাদীসহ সব শহীদের আত্মত্যাগকে গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করে দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।
অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন—এনসিপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্য সচিব সাইফ মোস্তাফিজ, যুগ্ম মুখ্য সংগঠক সাকিব মাহদী, যুগ্ম সদস্য সচিব গাজী সালাহউদ্দিন তানভীর, রাজশাহী বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক ইমরান ইমন, এনসিপি বগুড়া জেলা আহ্বায়ক ইঞ্জিনিয়ার এমএসএ মাহমুদ, সদস্য সচিব সুলতান মাহমুদ, যুগ্ম সদস্য সচিব আব্দুস সবুর সুমন, জাতীয় ছাত্রশক্তি বগুড়া জেলা শাখার আহ্বায়ক এএমজেড শাহরিয়ার জুহিন ও সদস্য সচিব সৈকত আলীসহ বগুড়া জেলা ও বিভিন্ন ইউনিটের নেতৃবৃন্দ।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |