আন্তর্জাতিক ও বিজ্ঞান-প্রযুক্তি ডেস্ক | মেহের নিউজ এজেন্সি
সর্বশেষ আপডেট: ১৫ জুলাই, ২০২৬
পশ্চিমা বিশ্বের শত নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে মহাকাশ প্রযুক্তিতে আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল মধ্যপ্রাচ্যের দেশ ইরান। খুব শিগগিরই ইরানের প্রথম সম্পূর্ণ নিজস্ব বা দেশীয় প্রযুক্তিতে নির্মিত রাডার স্যাটেলাইট ‘রাদ-১’ (Raad-1) মহাকাশে উন্মোচন করা হবে বলে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেছেন দেশটির মহাকাশ সংস্থার (ISA) চেয়ারম্যান হাসান সালারিয়েহ।
প্রযুক্তিগত কিছু জটিলতার কারণে পূর্বনির্ধারিত সময়সূচিতে সামান্য বিলম্ব হলেও প্রকল্পটির সামগ্রিক প্রস্তুতি এখন একদম চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে বলে তিনি নিশ্চিত করেছেন। ইরানের আধা-সরকারি গণমাধ্যম ‘মেহের নিউজ এজেন্সি’ এক প্রতিবেদনে এই খবর প্রকাশ করেছে।
বুধবার (১৫ জুলাই, ২০২৬) ইরানের মহাকাশ কর্মসূচির অগ্রগতি ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সালারিয়েহ বলেন, “‘রাদ-১’ হলো ইরানের আধুনিক মহাকাশ বিজ্ঞান ইতিহাসের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল প্রকল্পগুলোর একটি। এটি মূলত ইরানের মাটি ও বিজ্ঞানীদের মেধা দিয়ে তৈরি প্রথম সম্পূর্ণ দেশীয় রাডার স্যাটেলাইট (Synthetic Aperture Radar - SAR Satellite)।”
তিনি স্পষ্ট করেন যে, স্যাটেলাইটটি ২০২৬ সালের শুরুর দিকেই মহাকাশে পাঠানোর চূড়ান্ত পরিকল্পনা ছিল। তবে মহাকাশ বিজ্ঞানের মতো অত্যন্ত জটিল ও স্পর্শকাতর প্রজেক্টগুলোতে সাধারণত যেসব কারিগরি ও প্রযুক্তিগত চ্যালেঞ্জ দেখা দেয়, ঠিক তেমনি কিছু কারণে এর উৎক্ষেপণের সময়সূচি কিছুটা পিছিয়ে যায়। তবে বর্তমানে সব ধরনের ত্রুটি দূর করে এটি উৎক্ষেপণের জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত করা হয়েছে।
মহাকাশ সংস্থার চেয়ারম্যান হাসান সালারিয়েহর মতে, ‘রাদ-১’-এর সফল উন্মোচন ইরানের জাতীয় মহাকাশ শিল্পের জন্য একটি যুগান্তকারী মাইলফলক হয়ে থাকবে। এটি বহির্বিশ্বের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে ইরানের নিজস্ব স্যাটেলাইট প্রযুক্তি উন্নয়নের সক্ষমতাকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে।
একই সঙ্গে ইরান যে এখানেই থেমে থাকছে না, তার ইঙ্গিত দিয়ে তিনি আরও জানান, বর্তমানে ‘রাদ-২’ (Raad-2) নামে আরও একটি অত্যন্ত উন্নত ও শক্তিশালী রাডার স্যাটেলাইটের নকশা এবং নির্মাণকাজ দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছে। নতুন এই সংস্করণটি ‘রাদ-১’-এর তুলনায় অনেক বেশি নিখুঁত, সূক্ষ্ম এবং অতি উচ্চমানের ভূ-চিত্র ধারণ করতে সক্ষম হবে।
🛰️ ইরানের মহাকাশ রোডম্যাপ ২০২৬ (এক নজরে):
• রাদ-১ (Raad-1): দেশের প্রথম সম্পূর্ণ নিজস্ব প্রযুক্তির রাডার স্যাটেলাইট। কারিগরি জটিলতা কাটিয়ে এখন উৎক্ষেপণের অপেক্ষায়।
• রাদ-২ (Raad-2): অধিক নিখুঁত ও উচ্চমানের থার্মাল ও রাডার চিত্র ধারণ ক্ষমতাসম্পন্ন পরবর্তী প্রজন্মের স্যাটেলাইট (নির্মাণাধীন)।
• ভবিষ্যৎ লক্ষ্য: মহাকাশ গবেষণায় ন্যানো ও মাইক্রো স্যাটেলাইটের ব্যবহার এবং বেসরকারি খাতের বিনিয়োগ বৃদ্ধি।
ইরানের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের উপমন্ত্রী হিসেবেও অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করা হাসান সালারিয়েহ বলেন, “ইরানের সামগ্রিক স্যাটেলাইট ও মহাকাশ গবেষণা কার্যক্রমে আমরা এখন দেশীয় বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণ বৃদ্ধির ওপর বিশেষ জোর দিচ্ছি। ভবিষ্যতে বেসরকারি খাতের হাত ধরে দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি মাইক্রো ও ন্যানো স্যাটেলাইটগুলোর ক্যামেরার চিত্র ধারণ ক্ষমতা ও ডেটা অ্যানালিটিকস আরও আন্তর্জাতিক মানের হবে।”
তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় বর্তমানে মহাকাশ থেকে প্রাপ্ত স্যাটেলাইট তথ্য ও চিত্রভিত্তিক সেবাকে দেশের কৃষি, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, আবহাওয়া এবং খনিজ সম্পদ অনুসন্ধানের মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতগুলোতে ব্যবহারে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |