| বঙ্গাব্দ

টেস্ট ফ্লাইটের একঘেয়েমিতে আকাশে ‘আমি বিরক্ত’ লিখলেন পাইলট!

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 14-07-2026 ইং
  • 27025 বার পঠিত
টেস্ট ফ্লাইটের একঘেয়েমিতে আকাশে ‘আমি বিরক্ত’ লিখলেন পাইলট!
ছবির ক্যাপশন: আমি বিরক্ত

টেস্ট ফ্লাইটের একঘেয়েমিতে আকাশে কসরত ২০ বছরের ইনস্ট্রাক্টরের; পাইলটের নিখুঁত আঁকিবুঁকিতে মুগ্ধ নেটদুনিয়া

আন্তর্জাতিক ও বিনোদন ডেস্ক | গার্ডিয়ান

সর্বশেষ আপডেট: ১৪ জুলাই, ২০২৬

আকাশে সাধারণত মেঘের ভেলা কিংবা রংধনুর দেখা মেলে। কিন্তু এবার ইংল্যান্ড ও ওয়েলস সীমান্তের আকাশে ছোট একটি সাধারণ উড়োজাহাজ দিয়ে আস্ত একটি বাক্য—‘আমি বিরক্ত’ (I'm Bored) লিখে বিশ্বজুড়ে নেটনাগরিকদের মাঝে তুমুল আলোচনার জন্ম দিয়েছেন এক তরুণ ব্রিটিশ বিমানচালক। ফ্লাইট ট্র্যাকিং অ্যাপে তাঁর এই ব্যতিক্রমী ও মজার কসরতের ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ব্যাপক কৌতূহল তৈরি হয়েছে।

বিশ্বের জনপ্রিয় বিমান চলাচল পর্যবেক্ষণকারী ওয়েবসাইট ফ্লাইটরাডার২৪ (Flightradar24)-এর অফিশিয়াল ডেটা অনুযায়ী, গত শনিবার সকাল ১১টা ২৫ মিনিটে সেসনা বা ওই ক্যাটাগরির ছোট একটি উড়োজাহাজ ইংল্যান্ডের লিভারপুল বিমানবন্দর থেকে উড্ডয়ন করে। প্রায় দুই ঘণ্টার একটি রুটিন পরীক্ষামূলক (Test Flight) ফ্লাইটে বিমানটি উইরাল, চেশায়ার, উত্তর ওয়েলস এবং ডি মোহনার ওপর দিয়ে উড়ে যায়। এর মধ্যে ডি মোহনার (Dee Estuary) আকাশেই একঘেয়েমি কাটাতে প্রায় ২০ মিনিট ধরে নিখুঁতভাবে চক্কর কেটে কেটে ‘আমি বিরক্ত’ বাক্যটি তৈরি করেন ওই পাইলট।

৩৩৫ মিটার উচ্চতায় ১০০ নট গতিতে নিখুঁত টাইপোগ্রাফি

জনপ্রিয় আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং ব্লগার অ্যারন রেইন্স ঘটনাটি দেখে বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন, "ফ্লাইট ট্র্যাকিংয়ের ইতিহাসে এর আগে কখনো কোনো পাইলটকে আকাশে আক্ষরিক অর্থেই ‘আমি বিরক্ত’ লিখে নিজের ভেতরের একঘেয়েমির অনুভূতি প্রকাশ করতে দেখিনি। এটি একাধারে যেমন হাস্যকর, তেমনই বিস্ময়কর।"

✈️ আকাশের ক্যানভাসে পাইলটের কসরত:
• উচ্চতা: প্রায় ৩৩৫ মিটার (১,১০০ ফুট)
• বিমানের গতি: ঘণ্টায় ১০০ নটেরও কম
• কসরতের সময়কাল: প্রায় ২০ মিনিট

ফ্লাইটরাডার-এর তথ্য অনুযায়ী, পাইলট মাটি থেকে মাত্র ৩৩৫ মিটার (১,১০০ ফুট) উচ্চতায় এবং ঘণ্টায় প্রায় ১০০ নটের কম গতিতে অত্যন্ত ধীরস্থিরভাবে উড়োজাহাজ চালিয়ে নিখুঁতভাবে প্রতিটি ইংরেজি অক্ষরের লাইন তৈরি করেন, যা রাডার ট্র্যাকিংয়ে স্পষ্ট ফুটে ওঠে।

শাস্তি নয়, দক্ষতার জন্য মিলল প্রশংসা

উড়োজাহাজ পরিচালনাকারী মূল বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান রেভেনএয়ার (Ravenair) জানিয়েছে, ওই কৌতুকপ্রিয় পাইলটের বয়স বিশের কোঠায় এবং তিনি প্রতিষ্ঠানটির একজন পেশাদার ফ্লাইং ইনস্ট্রাক্টর (Flying Instructor)। সম্প্রতি ওই বিশেষ উড়োজাহাজটির একটি গুরুত্বপূর্ণ মেকানিক্যাল যন্ত্রাংশ পরিবর্তন করা হয়েছিল। প্রকৌশলীদের কাজ শেষে সেই পার্টসটি আকাশে ঠিকভাবে কাজ করছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পরীক্ষামূলক ফ্লাইটের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল তাঁকে।

রেভেনএয়ার-এর অপারেশন ম্যানেজার ওয়েন ব্যারেট এই মজার কাণ্ড নিয়ে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ‘গার্ডিয়ান’-কে বলেন:

"এটি ছিল স্রেফ একটি টেস্ট ফ্লাইট, আকাশে দীর্ঘক্ষণ একা চক্কর কাটার কারণে পাইলট হয়তো কিছুটা একঘেয়েমি বা বিরক্ত বোধ করেছিলেন। আর সেই বিরক্তিতেই তিনি রাডার স্ক্রিনে এমন কাণ্ড ঘটিয়েছেন। তবে তিনি আকাশ আইন মেনে অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে উড়োজাহাজটি পরিচালনা করেছেন। এ জন্য তাঁকে কোনো প্রকার বিভাগীয় শাস্তির মুখোমুখি হতে হচ্ছে না।"

ব্যারেট আরও পরিষ্কার করেন যে, যদিও উড়োজাহাজটির নির্ধারিত মূল উড্ডয়ন রুটে এই ধরনের কসরত বা অতিরিক্ত চক্কর কাটার পূর্ব অনুমোদন ছিল না, তবুও ফ্লাইটের মূল প্রযুক্তিগত উদ্দেশ্য সফল হয়েছে। পরিবর্তিত যন্ত্রাংশটি আকাশে শতভাগ নিখুঁতভাবে কাজ করেছে। ব্যারেটের ভাষায়, "তিনি হয়তো মনে মনে বিরক্ত ছিলেন, কিন্তু আকাশে এত নিখুঁতভাবে শব্দ লিখতে হলে সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব ও মনোযোগের প্রয়োজন হয়। তাই কসরত করার সময় তিনি মোটেও অমনোযোগী ছিলেন না, বরং তাঁর দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন।"

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency