আন্তর্জাতিক ডেস্ক | বাংলাদেশ প্রতিদিন
প্রকাশিত: ১২ জুলাই, ২০২৬
দীর্ঘস্থায়ী ও তীব্র খরার কারণে ফসল সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে পূর্ব আফ্রিকার দেশ উগান্ডার উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় কারামোজা (Karamoja) উপ-অঞ্চলে অনাহারে অন্তত ১৬ জন মানুষের মৃত্যু হয়েছে। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে এই মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে বলে দেশটির প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় (OPM) থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়েছে। প্রলয়ঙ্করী এই খরার কারণে অঞ্চলের হাজার হাজার পরিবার তীব্র তীব্র খাদ্যসংকটে পড়েছে এবং পরিস্থিতি মোকাবিলায় ইতোমধ্যে দুর্গত এলাকাগুলোতে জরুরি খাদ্য সহায়তা বিতরণ শুরু করেছে দেশটির সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
উগান্ডার প্রধানমন্ত্রী রবিনাহ নাব্বানজা জানিয়েছেন, খরা পরিস্থিতি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করা হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় অতিরিক্ত খাদ্য সরবরাহ নিশ্চিত করতে তাঁর কার্যালয় আগামী সোমবার (১৩ জুলাই) বিশেষ মন্ত্রিসভার জরুরি অনুমোদন চাইবে। মন্ত্রিসভার ইতিবাচক অনুমোদন মিললে আরও বিপুল পরিমাণ খাদ্যশস্য ও ত্রাণসামগ্রী কেনা হবে এবং দুর্গত এলাকাগুলোতে তা দ্রুত বিতরণের ব্যবস্থা করা হবে।
কারামোজা অঞ্চলের স্থানীয় কৃষকদের ভাষ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের এপ্রিল মাস থেকে— যা সাধারণত ওই অঞ্চলের প্রধান বপন মৌসুমের শুরু— বিস্তীর্ণ ফসলের মাঠে খুবই সামান্য অথবা একেবারেই বৃষ্টি হয়নি। দীর্ঘদিনের বৃষ্টির অভাবে ভুট্টা, জোয়ার ও সয়াবিনের মাইলের পর মাইল বিস্তৃত সবুজ ক্ষেত শুকিয়ে সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে গেছে। এতে চলতি মৌসুমে ভালো ফলনের যে আশা ছিল কৃষকদের, তা পুরোপুরি ভেঙে পড়েছে। কৃষিজ উৎপাদন আকস্মিক কমে যাওয়ায় আগামী দিনগুলোতে এই খাদ্য সংকট আরও তীব্র থেকে তীব্রতর হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
জলবায়ু বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, কারামোজা অঞ্চলে বারবার দেখা দেওয়া এই মানবিক ও খাদ্যসংকটের পেছনে বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তন (Climate Change), অনিয়মিত বৃষ্টিপাত, নির্বিচারে বন উজাড়, অতিরিক্ত পশুচারণ এবং ফসলের ক্ষতিকারক রোগবালাই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। এই সব কারণে স্থানীয় প্রান্তিক জনগোষ্ঠী প্রতিবছরই এক ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ ও চরম অপুষ্টির ঝুঁকিতে পড়ছে।
সরকার ইতোমধ্যে আপদকালীন ব্যবস্থা হিসেবে দুর্গতদের মাঝে ২২ টন জরুরি খাদ্য সহায়তা বিতরণ শুরু করেছে। তবে কৃষি বিশেষজ্ঞরা কেবল সাময়িক ত্রাণ না দিয়ে আবহাওয়ার আরও নির্ভুল ও আধুনিক পূর্বাভাস ব্যবস্থা, সেচব্যবস্থায় টেকসই বিনিয়োগ এবং খরা-সহনশীল ফসলের জাত উদ্ভাবন ও চাষ সম্প্রসারণের ওপর জোর দিয়েছেন।
উল্লেখ্য, উগান্ডার আধা-শুষ্ক এই উত্তর-পূর্বাঞ্চল অতীতেও একাধিকবার ভয়াবহ ও প্রাণঘাতী খাদ্যসংকটের মুখোমুখি হয়েছে। দেশটির সরকারি মানবাধিকার সংস্থার এক খতিয়ান অনুযায়ী, ২০২২ সালে উত্তর-পূর্ব উগান্ডায় তীব্র অনাহার ও অনাহারজনিত বিভিন্ন রোগে ২ হাজার ২০০ জনেরও বেশি মানুষের করুণ মৃত্যু হয়েছিল।
সে সময় তৎকালীন উগান্ডার পররাষ্ট্রমন্ত্রী হেনরি ওকেলো ওরিয়েম অনাহারে মৃত ব্যক্তিদের ‘বোকা’ (Idiotic) বলে অসংবেদনশীল মন্তব্য করে বিশ্বজুড়ে ব্যাপক নিন্দার ঝড়ে পড়েন। তিনি দাবি করেছিলেন যে, উগান্ডার উর্বর জমি ও অনুকূল আবহাওয়ায় মানুষ একটু পরিশ্রম করলেই নিজেদের খাদ্য নিজেরা উৎপাদন করতে পারে, তাই অনাহারে মরার কোনো কারণ নেই। তাঁর ওই চরম অমানবিক মন্তব্য সে সময় দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভ ও রাজনৈতিক বিতর্কের জন্ম দিয়েছিল।
অনাহারে ১৬ জনের মৃত্যু: উগান্ডার উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় আধা-শুষ্ক কারামোজা অঞ্চলে অনাহারে ১৬ জন মারা গেছেন।
এপ্রিল থেকে অনাবৃষ্টি: বপন মৌসুমের শুরু থেকে বৃষ্টি না হওয়ায় ভুট্টা, জোয়ার ও সয়াবিন ক্ষেত শুকিয়ে গেছে।
সোমবার মন্ত্রিসভার বৈঠক: দুর্গতদের জন্য আরও খাদ্য কিনতে সোমবার মন্ত্রিসভার বিশেষ অনুমোদন চাইবেন প্রধানমন্ত্রী।
২২ টনের জরুরি ত্রাণ: পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সাময়িকভাবে Kaabong জেলাসহ উপদ্রুত এলাকায় ২২ টন খাদ্য বিতরণ শুরু।
পুরনো ক্ষোভের পুনরুত্থান: ২০২২ সালের দুর্ভিক্ষে ২২০০ জনের মৃত্যুর পর পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ‘বোকা’ সম্বোধনের বিতর্ক আবার আলোচনায়।
আন্তর্জাতিক ডেস্ক | উগান্ডা খরা ও দুর্ভিক্ষ ২০েনে ২০২৬, কারামোজা অনাহার পরিস্থিতি, আফ্রিকা জলবায়ু পরিবর্তন খরা, প্রধানমন্ত্রী রবিনাহ নাব্বানজা ও বিবিসি বিশ্ব সংবাদ সেল
উগান্ডা সরকারের সোমবারের মন্ত্রিসভার বৈঠকে কারামোজা অঞ্চলের জন্য কত মিলিয়ন ডলারের বিশেষ বাজেট পাস হলো, জাতিসংঘ বা বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (WFP) এই দুর্ভিক্ষ মোকাবিলায় নতুন কোনো সাহায্য পাঠাচ্ছে কিনা এবং আন্তর্জাতিক ও আফ্রিকার প্রাকৃতিক দুর্যোগের প্রতি মুহূর্তের লাইভ ব্রেকিং নিউজের দ্রুত আপডেটের জন্য নিয়মিত ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |