রংপুর ব্যুরো | বাংলাদেশ প্রতিদিন
প্রকাশিত: ১১ জুলাই, ২০২৬
গণভোট বাস্তবায়নের এক দফা দাবি থেকে সরে না যাওয়ার এবং রক্তভেজা রংপুরের মাটিতে দাঁড়িয়ে অনড় থাকার ঘোষণা দিয়েছেন জাতীয় সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, “গণভোট বাস্তবায়নের মূল দাবি থেকে আমাদের সরিয়ে দিতে বিভিন্ন মহল থেকে অনেক কথা বলা হচ্ছে। কিন্তু আমরা এই জাতিকে কথা দিয়েছি— লড়াই আমরা শেষ পর্যন্ত করে যাব। আমাদের পরিষ্কার কথা, আমরা কোনোভাবেই জাতির সঙ্গে বেইমানি করতে পারব না। গণভোট বাস্তবায়নের দাবি থেকে একচুল পরিমাণও আমরা সরব না।”
আজ শনিবার (১১ জুলাই) বিকালে রংপুর জিলা স্কুল মাঠে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন, গণভোটের রায় বাস্তবায়নে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ, সীমান্ত হত্যা ও পুশইন বন্ধ এবং জনদুর্ভোগ নিরসনের চার দফা দাবিতে ১১ দলীয় ঐক্যের রংপুর বিভাগীয় বিশাল সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
বিগত জাতীয় নির্বাচন প্রসঙ্গে ডা. শফিকুর রহমান তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “সব দুর্নীতিবাজরা এক হয়ে পর্দার আড়ালে ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং করে আমাদের সুনিশ্চিত বিজয়ে হারিয়ে দিয়েছে। তবে ঘুঘু তুমি ধান খাও বারবার, ধরা পড়বা একবার। আগামী দিনে দুর্নীতিবাজদের এমন সুযোগ আর এ দেশের সাধারণ জনগণ দেবে না। তখন ইনসাফ ও ন্যায়ের ভিত্তিতে এই ১১ দলীয় ঐক্যই দেশে সরকার গঠন করবে— ইনশাআল্লাহ।”
জুলাই অভ্যুত্থানের চেতনা, দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি প্রসঙ্গে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “যে বৈষম্য দূর করে বাংলাদেশের পচা ও নোংরা রাজনীতিকে বিদায় জানিয়ে একটি নতুন বাংলাদেশ গড়ার জন্য আমাদের সন্তানরা রাজপথে বুকের তাজা রক্ত ঢেলে লড়াই করেছিল, সেই নতুন বাংলাদেশ গড়ার জন্যই সংবিধান সংস্কারের উদ্দেশে গণভোট অনুষ্ঠিত হয়েছে।”
তিনি বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর পূর্বের বক্তব্যের সমালোচনা করে বলেন:
“বাংলাদেশের একটা জায়গায় দাঁড়িয়ে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী (তারেক রহমান) নিজে মুখে বলেছিলেন— আপনারা ভোট দেবেন দুটো। একটি আমার দলকে, আরেকটি গণভোটে ‘হ্যাঁ’ সূচক বাক্সে। তিনি ও তাঁর দল ক্ষমতার এসে প্রথম ওয়াদা রক্ষা করেছেন, কিন্তু জনগণের দ্বিতীয় ওয়াদা তথা গণভোটের রায়কে তিনি রক্ষা বা বাস্তবায়ন করেননি।”
সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম পলাতক সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশে ফেরার ঘোষণা নিয়ে তীব্র কটাক্ষ ও হুঁশিয়ারি দেন। তিনি বলেন:
“শুনতে পাচ্ছি, আগামী ডিসেম্বরে নাকি কেউ একজন (শেখ হাসিনা) অবৈধভাবে দেশে আসার পরিকল্পনা করছেন। কিন্তু আমরাও তাঁর জন্য ফাঁসির দড়ি একদম রেডি করে অপেক্ষা করছি। তিনি ডিসেম্বরেই আসুন আর যখনই আসুন, এই বাংলার মাটিতে ফাঁসির দড়িতে আপনাকে ঝুলতেই হবে।”
নাহিদ ইসলাম আরও যোগ করেন, “ইতিহাস সাক্ষী, বাংলাদেশ থেকে স্বৈরাচার হিসেবে যিনি একবার পালিয়ে যান, তিনি আর কখনো সশরীরে বাংলাদেশে ফিরে আসতে পারেন না। পাকিস্তানিরাও এর থেকে সম্মানজনকভাবে বিদায় নিয়েছিল, ইংরেজরাও সম্মানজনকভাবে বিদায় নিয়েছিল। কিন্তু শেখ হাসিনা এবং আওয়ামী লীগ কাপুরুষোচিতভাবে দেশ ও দেশের মানুষকে বিপদে ফেলে পালিয়ে গিয়ে ভারতের কোলে আশ্রয় নিয়েছে। এ দেশে মাথা উঁচু করে আসার মতো সৎ সাহস তিনি আর কখনো রাখবেন না।”
তিনি বলেন, শেখ হাসিনা আসবে কি আসবে না, এটা দিল্লির সঙ্গে ঢাকাকে আনুষ্ঠানিকভাবে নির্ধারণ করতে হবে। দিল্লিতে বসে হাসিনা বাংলাদেশে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির চক্রান্ত করছেন এবং দেশের ভেতরে থাকা ফ্যাসিস্ট মিডিয়ার কিছু দোসররা সেই সব বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার করছে, যা জাগ্রত জনগণ মেনে নেবে না।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাম্প্রতিক চীন সফর নিয়ে সংসদের এই চিফ হুইপ বলেন, “কিছু দিন আগে প্রধানমন্ত্রী চীন সফরে যান। আমরা বিরোধী দলের পক্ষ থেকে সৌজন্যতাবশত সংসদে তাঁকে ধন্যবাদ জানিয়েছি। কিন্তু আজ এখানে দাঁড়িয়ে বলতে বাধ্য হচ্ছি— সেই চীন সফরের প্রকৃত অর্জন আসলে কোথায়? চীন সফরের প্রকৃত অর্জন হচ্ছে বড় একটা শূন্য! কারণ, চীন সফরে তিস্তা মহাপরিকল্পনা নিয়ে কোনো সুনির্দিষ্ট প্রতিশ্রুতি মেলেনি, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন নিয়েও বেইজিং কোনো প্রতিশ্রুতি দেয়নি। দেশে জাতীয় ঐক্য না থাকলে তারেক রহমান পৃথিবীর কোনো পরাশক্তি থেকে কোনো সাহায্য পাবেন না। এরই মধ্যে আইএমএফ (IMF) বলে দিয়েছে, তারা আমাদের কোনো নতুন ঋণ দেবে না।”
ঐতিহাসিক এই বিভাগীয় সমাবেশে অন্যান্যের মধ্যে আরও বক্তব্য দেন— লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) সভাপতি কর্নেল (অব.) ড. অলি আহমদ, আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি পার্টি) সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) সহসভাপতি রাশেদ প্রধান, জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য মাওলানা মমতাজ উদ্দিন, এনসিপির সদস্য সচিব ও রংপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য আখতার হোসেন, রংপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য মাহবুবুর রহমান বেলাল, রংপুর-৫ আসনের সংসদ সদস্য গোলাম রব্বানী, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব মাওলানা জালাল উদ্দিন, নেজামে ইসলাম পার্টির ভারপ্রাপ্ত আমির আল্লামা আবদুল কাইয়ুম সুবহানী এবং বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরানসহ ১১ দলীয় জোটের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ।
গণভোটের দাবিতে অনড়: রংপুর জিলা স্কুলের মঞ্চ থেকে সরকারকে গণভোটের রায় বাস্তবায়নে বাধ্য করার ঘোষণা ডা. শফিকুরের।
ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের অভিযোগ: বিগত নির্বাচনে দুর্নীতিবাজরা এক হয়ে জোটকে হারিয়েছে বলে জামাত আমিরের দাবি।
হাসিনার ফাঁসির দড়ি রেডি: ডিসেম্বরে শেখ হাসিনা দেশে ফেরার ছক আঁকলেও তাঁকে ফাঁসির দড়িতে ঝোলানো হবে বললেন নাহিদ ইসলাম।
তারেক রহমানের চীন সফর ‘শূন্য’: প্রধানমন্ত্রীর চীন সফর থেকে তিস্তা মহাপরিকল্পনা ও রোহিঙ্গা ইস্যুতে কোনো অর্জন আসেনি বলে চিফ হুইপের কটাক্ষ।
১১ দলের হেভিওয়েট জমায়েত: সমাবেশে অলি আহমদ, ব্যারিস্টার ফুয়াদ ও রাশেদ প্রধানসহ জোটের শীর্ষ এমপি ও নেতারা অংশ নেন।
জাতীয় ডেস্ক | ডা. শফিকুর রহমান জামায়াত ২০২৬, চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম এনসিপি, ১১ দলীয় ঐক্য রংপুর সমাবেশ, তিস্তা মহাপরিকল্পনা ও গণভোট রায় সেল
১১ দলীয় ঐক্যের এই আলটিমেটামের জবাবে সরকারের পক্ষ থেকে বা জাতীয় সংসদে সরকারি দল কোনো প্রতিক্রিয়া দেখাল কিনা, তিস্তা মহাপরিকল্পনা নিয়ে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের নতুন অবস্থান এবং দেশের সমসাময়িক রাজনীতি ও ৪ দফা দাবির প্রতি মুহূর্তের লাইভ ব্রেকিং নিউজের দ্রুত আপডেটের জন্য নিয়মিত ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |