আন্তর্জাতিক ডেস্ক | বাংলাদেশ প্রতিদিন
প্রকাশিত: ৪ জুলাই, ২০২৬
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের রণাঙ্গনে এক বড় ধরনের কৌশলগত পরিবর্তনের আভাস দিয়ে রাশিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর সেন্ট পিটার্সবার্গের একটি অন্যতম প্রধান তেল টার্মিনালে রাতভর নজিরবিহীন ও ভয়াবহ দূরপাল্লার ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইউক্রেন। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি নিজে এই সফল ও বিধ্বংসী হামলার তথ্য নিশ্চিত করে জানিয়েছেন—আক্রান্ত এই জ্বালানি স্থাপনাটি মূলত রাশিয়ার যুদ্ধ তহবিলের (War Fund) রাজস্ব জোগানোর অন্যতম প্রধান বৈশ্বিক উৎস ছিল।
একই সঙ্গে ওই অঞ্চলের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ রুশ নৌঘাঁটিতেও সফলভাবে আঘাত হানা হয়েছে বলে দাবি করেছে ইউক্রেনীয় সামরিক বাহিনী। সেন্ট পিটার্সবার্গের গভর্নর আলেকসান্ডার বেগলভ শহরে একটি ব্যাপক ড্রোন হামলার কথা অনানুষ্ঠানিক স্বীকার করেছেন এবং তেল টার্মিনালে বিস্ফোরণের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তবে এই ঘটনায় তাৎক্ষণিকভাবে কোনো বেসামরিক বা সামরিক হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
ইউক্রেনের সামরিক গোয়েন্দা বিভাগের মতে, আক্রান্ত এই তেল টার্মিনালটি রাশিয়ার অন্যতম বৃহত্তম ও আধুনিক, যেটির বার্ষিক ১২.৫ মিলিয়ন টন পেট্রোলিয়াম পণ্য প্রক্রিয়াজাত ও উৎপাদনের সক্ষমতা রয়েছে। এর পাশাপাশি ক্রনশতাঁতে অবস্থিত রাশিয়ার বাল্টিক নৌবহরের (Baltic Fleet) একটি কৌশলগতভাবে সংবেদনশীল নৌঘাঁটিও এই হামলার শিকার হয়েছে বলে কিয়েভ দাবি করেছে। তবে ক্রেমলিন বা রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এই নৌঘাঁটিতে হামলার বিষয়ে এখনো প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করেনি।
গভর্নর বেগলভ জানিয়েছেন, সেন্ট পিটার্সবার্গ এবং লেনিনগ্রাদ অঞ্চলজুড়ে অন্তত ৭২টি ইউক্রেনীয় ড্রোন আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে ভূপাতিত করা হয়েছে। তবে হামলার ভয়াবহতার পর তিনি শহরের পঞ্চাশ লাখের বেশি বাসিন্দাকে জরুরি প্রয়োজন ছাড়া ঘরের ভেতরে থাকার পরামর্শ দেন এবং ড্রোন সিগন্যাল জ্যামিংয়ের কারণে স্থানীয় মোবাইল ইন্টারনেট পরিষেবা সাময়িকভাবে ব্যাহত হতে পারে বলে সতর্ক করেন।
প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি শনিবার (৪ জুলাই) সকালে বিশ্ববাসীকে জানান, সেন্ট পিটার্সবার্গ ও এর আশপাশের যেসব রুশ লক্ষ্যবস্তুতে সুনির্দিষ্টভাবে আঘাত হানা হয়েছে, সেগুলো ইউক্রেন সীমান্ত থেকে প্রায় ৮৫০ কিলোমিটার ভেতরে অবস্থিত। অর্থাৎ, কিয়েভ এখন রাশিয়ার গভীর অভ্যন্তরে নিখুঁত আঘাত হানতে সক্ষম। হামলার সুনির্দিষ্ট আর্থিক ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ তাৎক্ষণিকভাবে স্পষ্ট না হলেও, জেলেনস্কির শেয়ার করা একটি এক্সক্লুসিভ ভিডিওতে দেখা গেছে—লক্ষ্যবস্তুর দিকে একের পর এক ড্রোন উড়ে যাচ্ছে এবং পরবর্তীতে ওই তেল ডিপো থেকে বিশাল কালো ধোঁয়ার কুণ্ডলী আকাশে ফুটছে, যা পরবর্তীতে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম বিবিসি (BBC) ফরেনসিকভাবে নিশ্চিত করেছে।
রাশিয়ার অভ্যন্তরীণ সংকট: সাম্প্রতিক সময়ে ইউক্রেন রাশিয়ার প্রধান প্রধান জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে দূরপাল্লার ড্রোন হামলা বহুগুণ জোরদার করেছে, যার ফলে স্বয়ং রাশিয়ার ভেতরেই এখন ব্যাপক অভ্যন্তরীণ জ্বালানি ও পেট্রোল সংকট তৈরি হয়েছে। কিয়েভের দাবি, এই ধারাবাহিক হামলার কারণে রাশিয়ার মূল তেল শোধনাগার ক্ষমতার (Oil Refining Capacity) প্রায় ৪৩ শতাংশ ইতিমধ্যে সম্পূর্ণ অচল হয়ে পড়েছে।
গত সপ্তাহে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনও ইউক্রেনীয় হামলার কারণে দেশের ভেতরে এই তীব্র জ্বালানি সংকটের কথা বিরলভাবে প্রকাশ্যে স্বীকার করেছিলেন। এরই ধারাবাহিকতায় আজ শনিবার তিনি অভ্যন্তরীণ বাজারে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ন্ত্রণ ও বাড়াতে এবং রফতানি কমাতে একটি নতুন জরুরি বিলে স্বাক্ষর করেছেন।
এদিকে, মূল ফ্রন্টলাইনের আরেকটি তীব্র উত্তেজনাকর ঘটনায় ইউক্রেনের সামরিক বাহিনী পূর্ব ইউক্রেনের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ শহর কোস্তিয়ান্তিনিভকা রাশিয়ার পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে চলে যাওয়ার দাবি সশব্দে প্রত্যাখ্যান করেছে। ইউক্রেনীয় সামরিক মুখপাত্র মেজর আন্দ্রি কোবালিভ জানিয়েছেন, শহরটি এখনো ইউক্রেনীয় বীর প্রতিরক্ষা বাহিনীর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণেই রয়েছে। তবে তিনি যুদ্ধের মাঠের কঠিন বাস্তবতা স্বীকার করে বলেন, রুশ পদাতিক বাহিনীর ছোট ছোট দল ইউক্রেনের মূল প্রতিরক্ষা লাইনের গভীরে অনুপ্রবেশের আপ্রাণ চেষ্টা করেছিল, যাদের চিহ্নিত করে ড্রোন ও গোলন্দাজ বাহিনী দিয়ে ধ্বংস করা হচ্ছে।
এর আগে পুতিন দাবি করেছিলেন যে, গত জুনেই কোস্তিয়ান্তিনিভকা শহরটি রাশিয়ার নিয়ন্ত্রণে এসেছে। তবে তিনি এর পক্ষে কোনো প্রমাণ দেননি। পুতিনের এই দাবির পরিপ্রেক্ষিতে প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি তীব্র কটাক্ষ ও উপহাস করে নিজের অফিশিয়াল টেলিগ্রামে লিখেছেন:
"কোস্তিয়ান্তিনিভকা যদি সত্যিই রাশিয়ার নিয়ন্ত্রণে থাকে, তবে পুতিন নিশ্চয়ই সেখানে এসে আমার সাথে সরাসরি দেখা করতে এবং যুদ্ধ শেষ করার প্রকৃত কূটনৈতিক সমাধান খুঁজতে কোনো সমস্যা বোধ করবেন না। কিন্তু বাস্তবতা হলো পুতিন কখনোই তার নিরাপদ বাঙ্কার ছেড়ে ফ্রন্ট লাইন অতিক্রম করবেন না, কারণ সত্য পুতিনের মুখের কথার চেয়ে অনেক আলাদা।"
অন্যদিকে, রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় তাদের সর্বশেষ যুদ্ধকালীন বুলেটিনে জানিয়েছে যে তারা রাতভর এবং সকালে আকাশসীমায় ইউক্রেনের ছোঁড়া ৫০০টিরও বেশি ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র সফলভাবে ভূপাতিত করেছে। রুশ মন্ত্রণালয়ের দাবি, গত ২ জুলাই ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে রাশিয়ার চালানো ভয়াবহ ও প্রাণঘাতী ক্ষেপণাস্ত্র হামলার বিশাল ক্ষয়ক্ষতি এবং কোস্তিয়ান্তিনিভকাতে ইউক্রেনীয় বাহিনীর ‘বিপর্যয়কর ব্যর্থতা’ থেকে দেশের সাধারণ জনগণ ও বিদেশি মার্কিন দাতাদের মনোযোগ অন্যদিকে সরিয়ে নিতেই জেলেনস্কি সেন্ট পিটার্সবার্গে এই হামলার নাটক ও অপপ্রচার করছেন। রাশিয়ার বেসামরিক ও জ্বালানি স্থাপনায় ইউক্রেনের এই কাপুরুষোচিত হামলা কখনোই অনুত্তরিত থাকবে না বলেও কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে মস্কো।
টার্গেট এলাকা: ইউক্রেন সীমান্ত থেকে ৮৫০ কিলোমিটার দূরে সেন্ট পিটার্সবার্গের তেল টার্মিনাল।
নৌঘাঁটিতে আঘাত: রাশিয়ার ক্রনশতাঁতে অবস্থিত বাল্টিক নৌবহরের ঘাঁটিতেও ইউক্রেনীয় ড্রোন স্ট্রাইক।
জ্বালানি বিপর্যয়: কিয়েভের দাবি—ধারাবাহিক হামলায় রাশিয়ার ৪৩% তেল শোধনাগার ক্ষমতা অচল।
পুতিনের স্বীকারোক্তি: জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় ক্রেমলিনে নতুন অভ্যন্তরীণ সরবরাহ বিলে পুতিনের স্বাক্ষর।
কূটনৈতিক যুদ্ধ: কোস্তিয়ান্তিনিভকা শহরের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে পুতিনকে ফ্রন্টলাইনে আসার সরাসরি চ্যালেঞ্জ জেলেনস্কির।
আন্তর্জাতিক ডেস্ক | রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ ও ভূরাজনীতি সেল
রাশিয়ার বাল্টিক নৌবহরের ক্রনশতাঁ ঘাঁটির উপগ্রহ চিত্র (Satellite Images) ও ক্ষয়ক্ষতির লাইভ বিশ্লেষণ, পূর্ব ইউক্রেনের কোস্তিয়ান্তিনিভকা থিয়েটারের লাইভ ব্যাটলগ্রাউন্ড ম্যাপ, মার্কিন পেন্টাগন কর্তৃক ইউক্রেনের জন্য নতুন দূরপাল্লার ‘প্যাট্রিয়ট’ মিসাইল ও ড্রোন সহায়তার ঘোষণা এবং চলমান বৈশ্বিক যুদ্ধ খাতের সব এক্সক্লুসিভ ব্রেকিং নিউজের দ্রুত আপডেটের জন্য নিয়মিত ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |