আন্তর্জাতিক ডেস্ক | বাংলাদেশ প্রতিদিন
প্রকাশিত: ৪ জুলাই, ২০২৬
পাকিস্তানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় অশান্ত বেলুচিস্তান প্রদেশে পাকিস্তান কোস্ট গার্ডের (Pakistan Coast Guard) একটি কৌশলগত ক্যাম্পে ভয়াবহ ও রক্তক্ষয়ী আত্মঘাতী হামলার ঘটনা ঘটেছে। এই হামলার দায় স্বীকার করেছে আন্তর্জাতিকভাবে নিষিদ্ধ ও বেলুচ বিচ্ছিন্নতাবাদী সশস্ত্র সংগঠন ‘বেলুচ লিবারেশন আর্মি’ (BLA)।
সংগঠনটির দাবি, এই সমন্বিত কমান্ডো হামলায় পাকিস্তানের অন্তত ৩০ জন নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য নিহত হয়েছেন এবং আরও বহু সদস্য গুরুতর আহত হয়েছেন। তবে হামলার দুই দিন পার হতে চললেও এর সত্যতা বা সুনির্দিষ্ট হতাহতের সংখ্যা নিয়ে এখন পর্যন্ত পাকিস্তান সরকার বা দেশটির শক্তিশালী সামরিক বাহিনীর আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (ISPR) কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেয়নি।
বিএলএ-এর মিডিয়া উইং থেকে প্রকাশিত এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে জানানো হয়, গত বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) সন্ধ্যা ৬টা ৩২ মিনিটে তাদের অত্যন্ত বিপজ্জনক ও বিশেষায়িত সুইসাইড স্কোয়াড ‘মাজিদ ব্রিগেড’ (Majeed Brigade)-এর এক ফিদায়ী সদস্য বিস্ফোরক বোঝাই একটি বড় মাজদা গাড়ি নিয়ে কোস্ট গার্ডের ওই প্রধান ক্যাম্পের ভেতরে ঢুকে পড়ে আত্মঘাতী বিস্ফোরণ ঘটান। সংগঠনটির ভাষ্য অনুযায়ী, এই শক্তিশালী বিস্ফোরণে ক্যাম্পের ভেতরের একটি বড় অংশ সম্পূর্ণ ধসে ও ধ্বংস হয়ে যায়।
বিবৃতিতে বিএলএ আরও দাবি করে, আত্মঘাতী গাড়ি বোমা বিস্ফোরণের পরপরই তাদের আরেকটি বিশেষায়িত কমান্ডো ইউনিট ‘ফতেহ স্কোয়াড’ (Fateh Squad)-এর ভারী অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত সদস্যরা ঝটিকা গতিতে ক্যাম্পের ভেতরে প্রবেশ করে। তারা ধ্বংসস্তূপের চারপাশ থেকে ভয়ার্ত ও অপ্রস্তুত নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের লক্ষ্য করে এলোপাথাড়ি আধুনিক ও স্বয়ংক্রিয় অস্ত্র দিয়ে হামলা চালায়। বিএলএ-এর ধারণা, ক্যাম্পের মূল স্থাপনা ধসে পড়ার কারণে ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও অনেক পাকিস্তানি সেনা সদস্য আটকে আছেন, ফলে তাদের নিহতের প্রকৃত সংখ্যা আরও অনেক বাড়তে পারে।
বেলুচিস্তানভিত্তিক ও প্রথম সারির স্বাধীন সংবাদমাধ্যম ‘দ্য বেলুচিস্তান পোস্ট’ (The Balochistan Post) তাদের বিশেষ প্রতিবেদনে জানিয়েছে, বেলুচিস্তানের ইরান সীমান্তবর্তী ও কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উপকূলীয় শহর জিওয়ানির পানওয়ান এলাকায় অবস্থিত পাকিস্তান কোস্ট গার্ডের এই ক্যাম্পটিকে লক্ষ্য করে হামলাটি চালানো হয়। এলাকাটি মূলত চীন-পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডোর বা সিপেক (CPEC) প্রকল্পের গোয়াদর গভীর সমুদ্রবন্দরের কাছাকাছি হওয়ায় সামরিকভাবে অত্যন্ত সংবেদনশীল।
বিএলএ-এর প্রধান মুখপাত্র জিয়ান্দ বেলুচের নামে গণমাধ্যমে পাঠানো ওই বিবৃতিতে এই হামলাকে একটি ‘সফল আত্মঘাতী কমান্ডো অপারেশন’ হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে।
স্বাধীনভাবে যাচাই অসম্ভব: সশস্ত্র গোষ্ঠীটি ৩০ জনের বেশি পাকিস্তানি সেনা ও কোস্ট গার্ড সদস্য নিহত হওয়ার দাবি করলেও পাকিস্তানের বেসামরিক প্রশাসন সম্পূর্ণ নীরব রয়েছে। পাকিস্তানের কোয়েটা বা ইসলামাবাদ থেকে কোনো তথ্য প্রকাশ না করায় এবং ওই এলাকায় কঠোর সামরিক ব্ল্যাকআউট বা সেন্সরশিপ জারি থাকায় স্বাধীন কোনো আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের পক্ষে ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত পরিমাণ নিরপেক্ষভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
বিবৃতিতে বিএলএ স্পষ্ট করে জানিয়েছে, বেলুচিস্তানের স্বাধীনতা এবং প্রাকৃতিক সম্পদের ওপর নিজেদের অধিকার আদায়ের লক্ষ্যে পাকিস্তানের নিরাপত্তা বাহিনীর বিরুদ্ধে তাদের চলমান ‘গেরিলা অভিযানের’ অংশ হিসেবেই এই বড় হামলা চালানো হয়েছে। উল্লেখ্য, দীর্ঘদিন ধরেই সংগঠনটি প্রদেশটির বিভিন্ন সামরিক ঘাঁটি, আধাসামরিক বাহিনী (এফসি), পুলিশ ও চীনা কর্মকর্তাদের লক্ষ্য করে ধারাবাহিক ও বড় ধরনের আত্মঘাতী হামলা চালিয়ে আসছে।
টার্গেট এলাকা: গোয়াদর জেলার উপকূলীয় শহর জিওয়ানির পানওয়ান কোস্ট গার্ড ক্যাম্প।
হামলার ধরন: বিস্ফোরক বোঝাই মাজদা গাড়ি নিয়ে আত্মঘাতী হামলা ও পরে ফতেহ স্কোয়াডের গুলিবর্ষণ।
বিএলএ-এর দাবি: হামলায় পাকিস্তানের কমপক্ষে ৩০ জন নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য নিহত ও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি।
হামলাকারী ইউনিট: বিএলএ-এর কুখ্যাত সুইসাইড উইং ‘মাজিদ ব্রিগেড’ ও ‘ফতেহ স্কোয়াড’ যৌথভাবে এটি পরিচালনা করে।
পাকিস্তান সরকারের অবস্থান: হামলার বিষয়ে এখনো সম্পূর্ণ নীরব রয়েছে রাওয়ালপিন্ডি ও ইসলামাবাদ।
আন্তর্জাতিক ডেস্ক | দক্ষিণ এশিয়া ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা সেল
বেলুচিস্তানের জিওয়ানি কোস্ট গার্ড ক্যাম্পে হামলার পর পাকিস্তান সেনাবাহিনীর কোয়েটা কোরের চিরুনি অভিযান ও কাউন্টার-টেররিজম ডিপার্টমেন্টের (CTD) বিশেষ সতর্কতা, ইরানের চাবাহার বন্দর সংলগ্ন সীমান্তে পাকিস্তানি সেনাদের নতুন বাঙ্কার নির্মাণ, গোয়াদরে চীনা নাগরিকদের সুরক্ষায় অতিরিক্ত আইআরজিসি বা পাকিস্তানের এলিট ফোর্সের নতুন ড্রোন মোতায়েন এবং আন্তর্জাতিক সব এক্সক্লুসিভ খবরের দ্রুত আপডেটের জন্য নিয়মিত ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |