আন্তর্জাতিক ডেস্ক | বাংলাদেশ প্রতিদিন
প্রকাশিত: ৩ জুলাই, ২০২৬
আঞ্চলিক ভূরাজনীতিতে নিজেদের সামরিক বাহিনীকে আরও আধুনিক, ক্ষিপ্র ও শক্তিশালী করতে এক বিশাল এবং যুগান্তকারী পদক্ষেপ নিয়েছে ভারত। দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় সর্বমোট ৫৪৬ কোটি মার্কিন ডলার (ভারতীয় মুদ্রায় যা প্রায় ৫২০ বিলিয়ন রুপি) মূল্যের বিভিন্ন ধরনের অত্যাধুনিক সামরিক সরঞ্জাম ও যুদ্ধাস্ত্র ক্রয়ের নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে। এই মেগা চুক্তির আওতায় মূলত চালকবিহীন যুদ্ধবিমান (ড্রোন), সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম ক্ষেপণাস্ত্র, কামিকাজে ড্রোন, অত্যাধুনিক ড্রোন বিধ্বংসী ব্যবস্থা এবং ইলেকট্রনিক যুদ্ধ (Electronic Warfare) সরঞ্জাম সংগ্রহ করা হবে।
ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রীর সভাপতিত্বে এবং দেশটির তিন বাহিনীর শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে গঠিত সর্বোচ্চ ফোরাম ‘ডিফেন্স অ্যাকুইজিশন কাউন্সিল’ (DAC)-এর বিশেষ বৈঠকে এই ক্রয়ের নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়। ভারত সরকারের পক্ষ থেকে প্রকাশিত এক অফিশিয়াল বিবৃতিতে বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়েছে।
তবে উচ্চপ্রযুক্তির এই আধুনিক সামরিক সরঞ্জামগুলো ঠিক কতদিনের মধ্যে সামরিক বহরে যুক্ত করা হবে কিংবা এগুলো বিদেশ থেকে সরাসরি আমদানি করা হবে নাকি ভারতের অভ্যন্তরীণ বাজারেই (Make in India) তৈরি করা হবে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা বা বিস্তারিত তথ্য কৌশলগত কারণে প্রকাশ করা হয়নি।
সরকারি বিবৃতিতে জানানো হয়, ভারতীয় সেনাবাহিনীর আধুনিকায়নের জন্য এই বিশাল চুক্তির আওতায় ড্রোন বিধ্বংসী ও ইলেকট্রনিক যুদ্ধ ব্যবস্থা, মাঝারি পাল্লার ভূপৃষ্ঠ থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র (MRSAM), জওয়ানদের বহনযোগ্য অ্যান্টি-ট্যাংক ক্ষেপণাস্ত্র এবং একটি অত্যন্ত ক্ষিপ্র ও অত্যাধুনিক জেট-ভিত্তিক কামিকাজে ড্রোন সিস্টেম (Kamikaze Drone) কেনা হবে।
সেনাবাহিনীর পাশাপাশি ভারত মহাসাগরে নৌবাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং সমুদ্রসীমার নজরদারি জোরদার করতে নতুন প্রযুক্তির নৌ-মাইন ও যুদ্ধজাহাজে ব্যবহারযোগ্য বিশেষ ড্রোন ক্রয়ের অনুমোদন দিয়েছে ডিএসি। এছাড়া দেশটির বিমানবাহিনীর (IAF) গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ, আকাশসীমা পাহারা এবং রিমোট সেন্সিংয়ের জটিল কাজের জন্য একটি উচ্চ-উচ্চতার চালকবিহীন বিমান (High-Altitude UAV) প্ল্যাটফর্ম কেনার পরিকল্পনাও রয়েছে এই তালিকায়।
কূটনৈতিক কৌশলে বদল: বিগত এক দশক ধরে ভারত তার ঐতিহ্যবাহী ও প্রধান সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহকারী দেশ রাশিয়ার ওপর একক নির্ভরতা ধাপে ধাপে কমিয়ে আনার চেষ্টা করছে। ইউক্রেন যুদ্ধের পর এই প্রক্রিয়া আরও গতি পেয়েছে। এর অংশ হিসেবে নয়াদিল্লি একদিকে যেমন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ফ্রান্সের মতো পশ্চিমা দেশগুলোর সঙ্গে প্রতিরক্ষা সম্পর্ক ও সামরিক প্রযুক্তি ভাগাভাগি বাড়াচ্ছে, অন্যদিকে নিজস্ব দেশীয় প্রতিরক্ষা উৎপাদন (Indigenous Production) বাড়াতে ব্যাপক জোর দিচ্ছে।
বর্তমানে ভারতের বার্ষিক প্রতিরক্ষা বাজেট প্রায় ৮৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। এই বিশাল বাজেটের একটি বড় অংশ ব্যয় হচ্ছে দেশটির নৌবাহিনীর ব্যাপক আধুনিকায়নে। তারই ধারাবাহিকতায় গত ডিসেম্বরে ভারত অন্তত ৭৫টি অত্যাধুনিক যুদ্ধজাহাজ ও সাবমেরিনের (ডুবোজাহাজ) অর্ডার দেওয়া শুরু করে, যার বেশিরভাগই দেশীয় প্রযুক্তিতে ভারতের নিজস্ব শিপইয়ার্ডে তৈরি করা হচ্ছে। এর আগে চলতি বছরের শুরুর দিকে প্রতিরক্ষা শীর্ষ কর্মকর্তারা ফরাসি রাফাল (Rafale) যুদ্ধবিমানসহ ৩৯ বিলিয়ন ডলার মূল্যের প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম ক্রয়ের বড় অনুমোদন দিয়েছিলেন।
মোট বাজেট: ভারতের প্রতিরক্ষা অ্যাকুইজিশন কাউন্সিল কর্তৃক ৫৪৬ কোটি ডলার (৫২০ বিলিয়ন রুপি) অনুমোদন।
মূল যুদ্ধাস্ত্র: কেনা হবে ক্ষেপণাস্ত্র, কামিকাজে ড্রোন, ড্রোন বিধ্বংসী ব্যবস্থা এবং ইলেকট্রনিক যুদ্ধ সরঞ্জাম।
নৌ ও বিমানবাহিনী: সমুদ্র নজরদারিতে নৌ-মাইন, জাহাজের ড্রোন এবং বিমানবাহিনীর জন্য উচ্চ-উচ্চতার চালকবিহীন বিমান।
কূটনৈতিক সমীকরণ: মার্কিন ও ফ্রান্সের সাথে সম্পর্ক বাড়িয়ে রাশিয়ার ওপর সামরিক নির্ভরতা কমাচ্ছে ভারত।
নৌ আধুনিকায়ন: ৮৫ বিলিয়ন ডলারের প্রতিরক্ষা বাজেটের অংশ হিসেবে অর্ডার দেওয়া হয়েছে ৭৫টি যুদ্ধজাহাজ ও সাবমেরিন।
আন্তর্জাতিক ডেস্ক | দক্ষিণ এশিয়া ও প্রতিরক্ষা কৌশল বিভাগ
ভারত-চীন লাদাখ সীমান্ত এবং ভারত-পাকিস্তান নিয়ন্ত্রণ রেখায় (LoC) ভারতীয় সেনাবাহিনীর নতুন ড্রোন স্কোয়াডের লাইভ মোতায়েন পরিস্থিতি, ফরাসি রাফাল-মেরিন যুদ্ধবিমান চুক্তির সর্বশেষ অগ্রগতি, দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি ভারতের প্রথম পরমাণু সাবমেরিনের ট্রায়াল এবং বৈশ্বিক প্রতিরক্ষা খাতের সব এক্সক্লুসিভ ব্রেকিং নিউজের দ্রুত আপডেটের জন্য নিয়মিত ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |