| বঙ্গাব্দ

সংসদে জুয়া প্রতিরোধ বিল পাস, ম্যাচ ফিক্সিংয়ে ৭ বছরের জেল ও ৫ কোটি জরিমানা

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 30-06-2026 ইং
  • 3799 বার পঠিত
সংসদে জুয়া প্রতিরোধ বিল পাস, ম্যাচ ফিক্সিংয়ে ৭ বছরের জেল ও ৫ কোটি জরিমানা
ছবির ক্যাপশন: সংসদে জুয়া প্রতিরোধ বিল পাস

ডিজিটাল জুয়া ও ক্রিপ্টোকারেন্সি রুখতে সংসদে কঠোর আইন পাস; অপরাধ হবে ‘আমলযোগ্য’ ও ‘অজামিনযোগ্য’

সংসদ গ্যালারি রিপোর্টার | বাংলাদেশ প্রতিদিন

প্রকাশিত: ৩০ জুন, ২০২৬

ডিজিটাল যুগের আধুনিক অনলাইন জুয়া, স্পোর্টস বেটিং, ভার্চুয়াল ক্যাসিনো এবং ক্রিপ্টোকারেন্সি-ভিত্তিক জুয়ার মরণছোবল থেকে তরুণ সমাজকে রক্ষা করতে জাতীয় সংসদে সর্বসম্মতিতে ‘জুয়া প্রতিরোধ বিল, ২০২৬’ পাস হয়েছে। এই নতুন আইনে ক্রিকেট বা যেকোনো খেলায় ম্যাচ ফিক্সিং ও স্পট ফিক্সিং করলে সর্বোচ্চ সাত বছরের জেলের পাশাপাশি পাঁচ কোটি টাকা জরিমানার এক ঐতিহাসিক ও কঠোর বিধান রাখা হয়েছে।

মঙ্গলবার (৩০ জুন) বিকেলে স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ অধিবেশনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বিলটি পাসের জন্য উপস্থাপন করলে তা কণ্ঠভোটে সর্বসম্মতভাবে পাস হয়। এর মাধ্যমে ব্রিটিশ আমলের ১৫৯ বছরের পুরোনো ‘প্রকাশ্য জুয়া আইন, ১৮৬৭’ (Public Gambling Act, 1867) আনুষ্ঠানিকভাবে বাতিল হয়ে গেল।

৫ দিনেই স্থায়ী কমিটির সবুজ সংকেত

সংসদীয় সচিবালয় সূত্র জানায়, গত ২৩ জুন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জাতীয় সংসদে এই যুগোপযোগী বিলটি প্রথম উত্থাপন করেছিলেন। পরে বিলটি পুঙ্খানুপুঙ্খ পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে মাত্র পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে সংসদে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য আইন, বিচার ও সংসদীয় বিষয়ক মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো হয়। স্থায়ী কমিটির ইতিবাচক সুপারিশ ও যাচাইবাছাই শেষে মঙ্গলবার এটি পাসের জন্য তোলা হলে সংসদ সদস্যরা টেবিল চাপড়ে বিলটি পাস করেন।

নতুন পাস হওয়া এই আধুনিক আইনে জুয়া, জুয়ার নির্দিষ্ট স্থান, জুয়ার আধুনিক সামগ্রী, ডিজিটাল সম্পদ (Digital Assets), ডিজিটাল জুয়া, অনলাইন প্ল্যাটফর্ম, ডিজিটাল ওয়ালেট, টোটালাইজেটর, অনলাইন ও দূরবর্তী জুয়া, বাজি বা পণ্য, বাজিকর এবং ম্যাচ ফিক্সিংসহ মোট ২৪ ধরনের সমসাময়িক বিষয়কে আইনিভাবে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে। অপরাধের গভীরতা ও প্রকৃতিভেদে এতে মোট ১৪ ধরনের ভিন্ন ভিন্ন কঠোর সাজার বিধান রাখা হয়েছে।

ভিপিএন, ক্রিপ্টো ও ভুয়া এমএফএস-এর ওপর কঠোর নজরদারি

পাস হওয়া আইনটির উদ্দেশ্য ও কারণ সম্বলিত বিবৃতিতে বলা হয়েছে, দেড়শতাধিক বছরেরও পুরোনো ১৮৬৭ সালের প্রকাশ্য জুয়া আইনটি বর্তমান বাস্তবতায় সম্পূর্ণ অকার্যকর ও অপর্যাপ্ত হয়ে পড়েছিল।

বর্তমানে দেশে এবং দেশের বাইরে থেকে পরিচালিত অনলাইন বেটিং প্ল্যাটফর্ম, ক্ষতিকারক ভিপিএন (VPN), বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, অপরাধীদের ব্যবহৃত ‘ঘোস্ট সিম’ (Ghost SIM), ভুয়া মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস (MFS) অ্যাকাউন্ট এবং অবৈধ ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থার মাধ্যমে সংঘটিত জুয়া আন্তর্জাতিক অর্থপাচার (Money Laundering) ও সাইবার প্রতারণাকে উসকে দিচ্ছে। এটি বাংলাদেশের সামাজিক শৃঙ্খলা, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং বিশেষ করে তরুণ ও যুবসমাজের নৈতিক অবক্ষয়ের জন্য গুরুতর হুমকি সৃষ্টি করছে।

আইনের কঠোর নিষেধাজ্ঞা: নতুন আইনে স্পষ্ট বলা হয়েছে—জুয়ার উদ্দেশ্যে ডিজিটাল মাধ্যমে অর্থ জমা, উত্তোলন বা এক অ্যাকাউন্ট থেকে অন্য অ্যাকাউন্টে স্থানান্তর করা, বিদেশি কোনো অনলাইন জুয়া প্ল্যাটফর্মের দেশীয় প্রতিনিধি বা আন্ডারগ্রাউন্ড এজেন্ট হিসেবে কাজ করা এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জুয়ার পেজ, গ্রুপ বা চ্যাট চ্যানেল পরিচালনা করা সম্পূর্ণ শাস্তিযোগ্য ফৌজদারি অপরাধ।

এছাড়া জুয়ার সরঞ্জামাদি বা ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম সরবরাহ করা, গণমাধ্যম বা অনলাইনে জুয়ার অ্যাপের বিজ্ঞাপন প্রচার এবং যেকোনো খেলা বা ইভেন্টে জুয়াড়িদের স্পনসরশিপ গ্রহণের ক্ষেত্রেও কঠোর কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডের বিধান নিশ্চিত করা হয়েছে।

সর্বোচ্চ ১০ বছরের জেল, বিচার হবে সাইবার ট্রাইব্যুনালে

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, এই আইনের অধীনে সংঘটিত বিভিন্ন বড় অপরাধের জন্য সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ড এবং সর্বোচ্চ পাঁচ কোটি টাকা জরিমানা বা উভয়দণ্ডে দণ্ডিত করার শক্তিশালী আইনি ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এই আইনের অধীনে সংঘটিত সমস্ত অপরাধকে ‘আমলযোগ্য’ (Cognizable) এবং ‘অজামিনযোগ্য’ (Non-bailable) হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে।

নতুন এই ‘জুয়া প্রতিরোধ আইন, ২০২৬’-এর আওতায় অপরাধীদের দ্রুত ও দৃষ্টান্তমূলক বিচার নিশ্চিত করতে মামলাগুলো দেশের বিশেষায়িত সাইবার ট্রাইব্যুনালে (Cyber Tribunal) পরিচালিত হবে। এছাড়া তাৎক্ষণিক অপরাধ দমনে ক্ষেত্রবিশেষে সরকারের বিশেষ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের মাধ্যমে ভ্রাম্যমাণ আদালতেও (Mobile Court) এর বিচারিক কার্যক্রম পরিচালনা করা যাবে।

এক নজরে নতুন ‘জুয়া প্রতিরোধ আইন, ২০২৬’

  • আইনি সংস্কার: বাতিল হলো ১৫৯ বছরের পুরোনো ব্রিটিশ আমলের ‘প্রকাশ্য জুয়া আইন, ১৮৬৭’

  • ফিক্সিংয়ের শাস্তি: ম্যাচ ও স্পট ফিক্সিংয়ের অপরাধে ৭ বছরের জেল এবং ৫ কোটি টাকা জরিমানা

  • সর্বোচ্চ সাজা: ডিজিটাল জুয়া ও অর্থপাচারে জড়িত থাকলে সর্বোচ্চ ১০ বছরের কঠোর কারাদণ্ড

  • আইনের আওতা: অনলাইন ক্যাসিনো, স্পোর্টস বেটিং, ক্রিপ্টোকারেন্সি এবং ভুয়া বিকাশ-নগদ অ্যাকাউন্ট জুয়াড়ির আওতাভুক্ত

  • মামলার বিচার: এই আইনের সব অপরাধ অজামিনযোগ্য এবং এর বিচার হবে সরাসরি সাইবার ট্রাইব্যুনালে

সংসদ গ্যালারি রিপোর্টার | জাতীয় রাজনীতি ও আইন বিভাগ

পাস হওয়া জুয়া প্রতিরোধ আইনের পূর্ণাঙ্গ গেজেট নোটিফিকেশন, সিআইডি (CID) সাইবার ক্রাইম ইউনিটের অনলাইন জুয়া বিরোধী চলমান অভিযান, অবৈধ বেটিং সাইট ব্লক করার বিষয়ে বিটিআরসি (BTRC) এর নতুন তালিকা এবং দেশের সব এক্সক্লুসিভ ব্রেকিং নিউজের দ্রুত আপডেটের জন্য নিয়মিত ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency