| বঙ্গাব্দ

অরুণাচলে আদিবাসীদের জমি দখল করে চীনের সামরিক ক্যাম্প নির্মাণ

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 30-06-2026 ইং
  • 4010 বার পঠিত
অরুণাচলে আদিবাসীদের জমি দখল করে চীনের সামরিক ক্যাম্প নির্মাণ
ছবির ক্যাপশন: ক্যাম্প নির্মাণ

পূর্বপুরুষদের কৃষিজমিতে এখন চীনের সামরিক ক্যাম্প ও রাস্তা; নাকাপ নালোর গভীর উদ্বেগের মাঝে মাতৃভূমি হারানোর আতঙ্কে আদিবাসীরা

আন্তর্জাতিক ও দক্ষিণ এশিয়া ভূ-রাজনীতি ডেস্ক | বাংলাদেশ প্রতিদিন

প্রকাশিত: ৩০ জুন, ২০২৬

ভারতের অরুণাচল প্রদেশের আপার সুবানসিরি (Upper Subansiri) জেলার আন্তর্জাতিক সীমান্ত বরাবর চীনা সেনাবাহিনীর (PLA) কথিত অনুপ্রবেশ এবং আদিবাসীদের পৈতৃক জমি দখল নিয়ে গভীর উদ্বেগ ও তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে স্থানীয় ‘নাহ’ আদিবাসী সম্প্রদায়। সম্প্রতি জেলা প্রশাসনের কাছে জমা দেওয়া এক জরুরি ও আনুষ্ঠানিক স্মারকলিপিতে ‘নাহ ওয়েলফেয়ার সোসাইটি’ (Nah Welfare Society) দাবি করেছে, বিগত কয়েক বছর ধরে চীনের পিপলস লিবারেশন আর্মি (পিএলএ) তাদের পূর্বপুরুষদের ঐতিহ্যবাহী চারণভূমি, শিকার অঞ্চল এবং কৃষিজমির একটি বড় অংশ জোরপূর্বক নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নিয়েছে।

ভারতের প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম ‘টাইমস অব ইন্ডিয়া’ (Times of India) এবং ‘আনন্দবাজার পত্রিকা’ এই ভূ-রাজনৈতিক খবরটি নিশ্চিত করেছে।

পবিত্র তীর্থস্থানে চীনের সামরিক ক্যাম্প ও রাস্তা

আদিবাসী সংগঠনের তথ্য অনুযায়ী, ভারত-চীন প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখা (LAC) সংলগ্ন তাকসিং রেভিনিউ সার্কেলের অধীনে থাকা ওয়িং, পানিয়ার, মারপান, পোটরাং এবং তিন্দিংতাং—এই পাঁচটি সুনির্দিষ্ট এলাকায় ব্যাপক চীনা তৎপরতা ও অনুপ্রবেশের ঘটনা ঘটেছে। এই অঞ্চলগুলোর মধ্যে বেশ কয়েকটি স্থান স্থানীয় আদিবাসীদের কাছে অত্যন্ত পবিত্র তীর্থস্থান ও ধর্মীয় প্রতীক হিসেবে পরিচিত।

স্মারকলিপিতে আক্ষেপ করে বলা হয়েছে, ২০২০ সালের মে মাস (গালওয়ান উপত্যকা সংঘর্ষের সময়কাল) পর্যন্ত যে সমস্ত দুর্গম এলাকায় স্থানীয় ভারতীয় আদিবাসীরা সম্পূর্ণ অবাধে যাতায়াত করতেন এবং নিজেদের গবাদি পশু (ইয়াক ও মিথুন) চরাতেন, সেখানে এখন চীনা সেনারা স্থায়ী সামরিক ক্যাম্প, ওয়াচ টাওয়ার এবং পাকা রাস্তাও নির্মাণ করে ফেলেছে। যার ফলে ভারতীয়রা এখন নিজেদের জমিতেই প্রবেশাধিকার হারিয়েছেন।

জাতীয় নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উৎকণ্ঠা

বিধায়কের বক্তব্য: স্থানীয় নাচোর (Nacho) এলাকার বিধায়ক নাকাপ নালো (Nakap Nalo) এই স্পর্শকাতর বিষয়টিকে ভারতের জাতীয় নিরাপত্তার সাথে জড়িত একটি অত্যন্ত গুরুতর ইস্যু হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করে গণমাধ্যমকে বলেন, এটি যেহেতু সরাসরি একটি জাতীয় সার্বভৌমত্বের বিষয়, তাই স্থানীয় সীমান্তবাসী জনগণের মাঝে স্বাভাবিকভাবেই গভীর উৎকণ্ঠা ও আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। পুরো অভিযোগটির প্রশাসনিক এবং কেন্দ্রীয় সরকারি স্তরে পুঙ্খানুপুঙ্খ যাচাইকরণ বা উচ্চপর্যায়ের তদন্ত প্রয়োজন।

আদিবাসী নেতারা জানিয়েছেন, তাঁরা সীমান্ত সুরক্ষায় নিয়োজিত ভারতীয় সেনাবাহিনীর (Indian Army) ওপর পূর্ণ আস্থা রাখলেও চীনের বর্তমান আগ্রাসী মনোভাব, দ্রুত বাঙ্কার নির্মাণ এবং কাজের গতি নিয়ে অত্যন্ত আশঙ্কাজনক পরিস্থিতিতে রয়েছেন। এর ফলে তাঁরা দিন দিন নিজেদের মাতৃভূমি হারাচ্ছেন বলে আক্ষেপ প্রকাশ করেছেন।

তবে আন্তর্জাতিক সীমান্তসংক্রান্ত এই অত্যন্ত সংবেদনশীল এবং গুরুতর অভিযোগের প্রেক্ষিতে এখন পর্যন্ত আপার সুবানসিরি জেলা প্রশাসন, অরুণাচল প্রদেশ রাজ্য সরকার কিংবা নয়াদিল্লির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া বা বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এক নজরে অরুণাচল সীমান্তে চীনা অনুপ্রবেশের বিবরণ (জুন, ২০২৬)

  • মূল অভিযোগ: অরুণাচল প্রদেশের আপার সুবানসিরি জেলার ৫টি এলাকা দখল করেছে চীন

  • ক্ষতিগ্রস্ত সম্প্রদায়: পৈতৃক চারণভূমি ও কৃষিজমি হারিয়েছে স্থানীয় ‘নাহ’ আদিবাসী সম্প্রদায়

  • অবকাঠামো নির্মাণ: ২০২০ সালের পর আদিবাসীদের পবিত্র তীর্থস্থানে চীনা সামরিক ক্যাম্প ও রাস্তা নির্মাণ করা হয়েছে।

  • রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া: স্থানীয় বিধায়ক নাকাপ নালো একে জাতীয় নিরাপত্তার বড় হুমকি হিসেবে উল্লেখ করে তদন্ত চেয়েছেন।

  • বর্তমান অবস্থা: আদিবাসীরা মাতৃভূমি হারানোর আতঙ্কে থাকলেও প্রশাসন এখনো নীরব রয়েছে

স্টাফ রিপোর্টার | আন্তর্জাতিক ও দক্ষিণ এশিয়া বিভাগ

ভারত-চীন প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখার (LAC) অরুণাচল ও লাদাখ সীমান্তের লাইভ সিকিউরিটি আপডেট, নয়াদিল্লির সাউথ ব্লকের কূটনৈতিক প্রতিক্রিয়া, ভারতীয় সেনাবাহিনীর অতিরিক্ত সেনা মোতায়েনের খবর এবং আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনীতির সব এক্সক্লুসিভ ব্রেকিং নিউজের দ্রুত আপডেটের জন্য নিয়মিত ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency