আদালত প্রতিবেদক: দেশজুড়ে বহুল আলোচিত সাংবাদিক দম্পতি সাগর সরওয়ার ও মেহেরুন রুনি হত্যা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের তারিখ আবারও পিছিয়েছে। এই নিয়ে মামলাটির তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের তারিখ রেকর্ড ১২৭ বারের মতো পেছালো। আদালত আগামী ২২ জুলাই তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নতুন তারিখ নির্ধারণ করেছে।
বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) দুপুরে শুনানি শেষে ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুল ইসলামের আদালত এই দিন ঠিক করেন। আজ মামলাটির তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের দিন ধার্য থাকলেও বর্তমান তদন্ত সংস্থা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) নেতৃত্বাধীন টাস্কফোর্স তা দাখিল করতে না পারায় বিচারক নতুন এই তারিখ ঘোষণা করেন। ঢাকা মহানগর পুলিশের প্রসিকিউশন বিভাগের উপপরিদর্শক রফিকুল ইসলাম এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
২০১২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর পশ্চিম রাজাবাজারের ভাড়া করা বাসায় নির্মমভাবে খুন হন মাছরাঙা টেলিভিশনের বার্তা সম্পাদক সাগর সরওয়ার ও এটিএন বাংলার জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক মেহেরুন রুনি। নির্মম এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনার পর থেকে দীর্ঘ ১৪ বছর পেরিয়ে গেলেও এখনো কোনো কূলকিনারা করতে পারেনি তদন্ত সংস্থাগুলো।
হত্যাকাণ্ডের পর থেকে তদন্তভারের হাতবদল যেভাবে হয়েছে:
শেরেবাংলা নগর থানা পুলিশ: মামলাটি প্রথম দায়েরের পর তদন্ত শুরু করে স্থানীয় থানা পুলিশ।
ডিবি পুলিশ: থানা পুলিশ ব্যর্থ হওয়ার পর মামলার তদন্তভার ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের (ডিবি) কাছে হস্তান্তর করা হয়।
র্যাব: ডিবির পর দীর্ঘ সময় এই আলোচিত মামলার তদন্তের দায়িত্ব পালন করে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)।
উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন টাস্কফোর্স (পিবিআই): দীর্ঘ এক যুগেও তদন্ত শেষ না হওয়ায় গত বছরের ৩০ সেপ্টেম্বর হাইকোর্টের নির্দেশে র্যাব থেকে দায়িত্ব সরিয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে চার সদস্যের একটি উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন টাস্কফোর্স গঠন করা হয়, যার আহ্বায়ক করা হয় পিবিআই প্রধানকে।
হত্যাকাণ্ডের পর নিহত রুনির ভাই নওশের আলম রোমান বাদী হয়ে শেরেবাংলা নগর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছিলেন। ঘটনার সময় ওই বাসায় উপস্থিত ছিল তাদের সাড়ে চার বছরের একমাত্র শিশু সন্তান মাহির সরওয়ার মেঘ।
এই মামলায় মোট ৮ জনকে আসামি করা হয়েছে। আসামিরা হলেন— রফিকুল ইসলাম, বকুল মিয়া, মাসুম মিন্টু, কামরুল ইসলাম ওরফে অরুণ, আবু সাঈদ এবং সাগর-রুনির বাড়ির দুই নিরাপত্তাকর্মী পলাশ রুদ্র পাল ও এনায়েত আহমেদ। এছাড়াও তাদের তথাকথিত 'বন্ধু' তানভীর রহমান খানকেও এই মামলায় আসামি করা হয়। বর্তমান আইনি পরিস্থিতি অনুযায়ী, আসামিদের মধ্যে তানভীর ও পলাশ জামিনে মুক্ত রয়েছেন এবং বাকি আসামিরা কারাগারে আটক আছেন। তবে দীর্ঘ ১২৭ বার তারিখ পেছানোর ফলে এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের বিচার পাওয়া নিয়ে সাংবাদিক সমাজ ও নিহতের পরিবারের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করছে।
প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
তথ্যসূত্র: ঢাকা সিএমএম আদালত ও পিবিআই
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন:
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |