আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ফ্রান্সে ১৫ থেকে ১৭ জুন অনুষ্ঠিত হয়ে গেল বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী সাতটি শিল্পোন্নত দেশের জোট ‘জি-৭’-এর ৫২তম সম্মেলন। আনুষ্ঠানিকভাবে এই জোটের সদস্য না হওয়া সত্ত্বেও, সাম্প্রতিক সময়ে প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বিশেষ আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে দেখা যাচ্ছে ভারতকে। এই নিয়ে মোট ১৩ বার এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি পরপর সাতবার জি-৭ বৈঠকে যোগ দিয়ে বিশ্বমঞ্চে ভারতের ক্রমবর্ধমান প্রভাবের জানান দিলেন।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি (NDTV)-র এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারতের এই অংশগ্রহণ এখন আর কেবল প্রতীকী নয়। এর আগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ড. মনমোহন সিংও ২০০৩ থেকে ২০০৯ সালের মধ্যে একাধিকবার জি-৭ ও সম্প্রসারিত জি-৮ সম্মেলনে অংশ নিয়েছিলেন। তবে বর্তমান ভূ-রাজনীতিতে ভারত এখন জি-৭ দেশের কাছে এক অপরিহার্য অংশীদার।
পশ্চিমা দেশগুলোর আধিপত্যের বাইরে গিয়ে ভারত যেভাবে বিশ্বমঞ্চে নিজের অবস্থান তৈরি করেছে, তার পেছনে কয়েকটি সুনির্দিষ্ট কারণ রয়েছে:
গ্লোবাল সাউথের কণ্ঠস্বর: এশিয়া, আফ্রিকা এবং লাতিন আমেরিকার উন্নয়নশীল দেশগুলোর অভাব-অভিযোগ ও আকাঙ্ক্ষার কথা বৈশ্বিক আলোচনায় তুলে ধরতে ভারত এখন প্রধান অনুঘটক ও সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করছে।
বিশাল অর্থনীতির হাতছানি: ১৪০ কোটিরও বেশি মানুষের দেশ ভারত এখন বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ ভোক্তা বাজার। ডিজিটাল অর্থনীতি, ম্যানুফ্যাকচারিং এবং প্রযুক্তিতে ভারতের দ্রুত অগ্রগতি বৈশ্বিক সরবরাহ চেইন (Supply Chain) সচল রাখতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
চীনের প্রভাব মোকাবিলায় কৌশলগত ভারসাম্য: ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে চীনের ক্রমবর্ধমান সামরিক ও অর্থনৈতিক প্রভাব মোকাবিলায় জি-৭ দেশগুলোর কাছে ভারত এখন এক অপ্রতিদ্বন্দ্বী কৌশলগত সঙ্গী।
জলবায়ু লড়াইয়ে নেতৃত্ব: ‘ইন্টারন্যাশনাল সোলার অ্যালায়েন্স’-এর মতো উদ্যোগ এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়িয়ে ভারত এখন জলবায়ু লক্ষ্য অর্জনে বিশ্বকে পথ দেখাচ্ছে।
স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতি ও গণতন্ত্র: বিশ্বের বৃহত্তম গণতান্ত্রিক দেশ হিসেবে ভারত কোনো নির্দিষ্ট ব্লকে না গিয়ে সংলাপের পক্ষে কথা বলে। রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাত বা মধ্যপ্রাচ্য সংকটে ভারতের এই ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থান বিশ্ব রাজনীতিতে অত্যন্ত মূল্যবান।
ডিজিটাল অবকাঠামো, খাদ্য নিরাপত্তা, বৈশ্বিক উন্নয়ন এবং প্রযুক্তির মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে ভারত এখন নতুন নতুন সমাধান ও আইডিয়া নিয়ে জি-৭ এর টেবিলে বসছে। বর্তমান বিশ্বব্যবস্থায় একটি বিষয় পরিষ্কার—বৈশ্বিক প্রভাব এখন আর কেবল পশ্চিমা দেশগুলোর মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। ভারতের মতো উদীয়মান শক্তির হাতেই এখন বিশ্বরাজনীতির ভবিষ্যৎ অনেকটা নির্ভর করছে।
১৯৭৩ সালে প্যারিসে এই প্রভাবশালী জোটের আনুষ্ঠানিক সূচনা হলেও এর প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হয় ১৯৭৫ সালে।
প্রতিষ্ঠাতা সদস্য: প্রথম বৈঠকে জার্মানি, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ইতালি, ফ্রান্স এবং জাপান অংশ নেয়।
পরবর্তী অন্তর্ভুক্তি: ১৯৭৬ সালে এই জোটে যোগ দেয় কানাডা এবং ১৯৭৭ সাল থেকে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (EU) এই বৈঠকে অংশ নেওয়া শুরু করে। তবে ইইউ আলাদা করে জি-৭ এর পূর্ণাঙ্গ সদস্য হয়নি।
প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
তথ্যসূত্র: এনডিটিভি (NDTV)
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন:
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |