| বাংলাদেশ প্রতিদিন
প্রকাশিত: ১৫ জুন, ২০২৬
জাতীয় সংসদে চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের সংশোধিত ও সম্পূরক বাজেট পেশ করেছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। প্রস্তাবিত এই সংশোধিত বাজেটে সরকারের মোট ব্যয় মূল বাজেট থেকে ২ হাজার কোটি টাকা কমিয়ে ৭ লাখ ৮৮ হাজার কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে সামগ্রিক বাজেট ঘাটতি ধরা হয়েছে ২ লাখ কোটি টাকা—যা দেশের বর্তমান মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ৩.৩ শতাংশ।
আজ সোমবার (১৫ জুন) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশনের সপ্তম দিনে অর্থমন্ত্রী এই সংশোধিত ও সম্পূরক বাজেট আনুষ্ঠানিকভাবে হাউজে উত্থাপন করেন।
বাজেট উপস্থাপনকালীন জবানবন্দিতে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের মূল বাজেটে সরকারের নিট ব্যয় প্রথমে ৭ লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল। তবে দেশজুড়ে নির্বাচন-পূর্ব সময়ে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) মাঠ পর্যায়ের বাস্তবায়ন কিছুটা মন্থর বা ধীরগতির হওয়ায় বাস্তবতার নিরিখে সংশোধিত বাজেটে মোট ব্যয় ২ হাজার কোটি টাকা কমানোর যৌক্তিক প্রস্তাব করা হয়েছে।
তিনি দেশের সামষ্টিক অর্থনৈতিক অবস্থা তুলে ধরে বলেন:
“বর্তমান সরকার গঠনের পর বৈশ্বিক ভূরাজনৈতিক অস্থিরতা এবং অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক দুর্বলতা কাটিয়ে দেশের অর্থনীতিকে পুনরুজ্জীবিত করা আমাদের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার। এই মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সরকারি ব্যয়ের ক্ষেত্রে সব ধরনের অপচয় রোধ, অগ্রাধিকারহীন খাতে কঠোরভাবে ব্যয় সংকোচন এবং প্রশাসনিক মিতব্যয়িতা নিশ্চিত করার সুনির্দিষ্ট উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।”
অর্থমন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন যে, আন্তর্জাতিক বাজারের সাথে সামঞ্জস্য রেখে দেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে ভর্তুকি সমন্বয়ের পাশাপাশি প্রান্তিক মানুষের জন্য ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড এবং ইমাম, পুরোহিত ও মুয়াজ্জিনদের বিশেষ রাষ্ট্রীয় সম্মানী দেওয়ার মতো জনপ্রিয় সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচিগুলোকে আরও বড় পরিসরে সম্প্রসারণ করা হয়েছে। মূলত এই সামাজিক কর্মসূচিগুলোর প্রয়োজনীয় ব্যয় সঠিকভাবে মেটাতেই সম্পূরক বাজেটে অভ্যন্তরীণ ব্যয় ও ঘাটতির এই নতুন সমন্বয় সাধন করা হয়েছে।
অর্থমন্ত্রী কর্তৃক সম্পূরক বাজেট উপস্থাপনের পর সংসদের স্পিকার ২০২৫-২৬ অর্থবছরের দায়যুক্ত ব্যয় ব্যতীত অন্যান্য ব্যয়ের সুনির্দিষ্ট ‘মঞ্জুরি দাবি’র ওপর ভোট গ্রহণ ও পাস করার সংসদীয় প্রক্রিয়া শুরু করেন। স্পিকার হাউজকে স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের ৮৯ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী দায়যুক্ত ব্যয়সমূহ জাতীয় সংসদে বিস্তারিত আলোচিত হলেও তা সরাসরি ভোটাভুটির আওতাভুক্ত নয়।
স্পিকার জানান, এবারের উত্থাপিত সম্পূরক বাজেটে সরকারের বিভিন্ন খাত ও মন্ত্রণালয়ের বিপরীতে মোট ২৫টি মঞ্জুরি দাবি রয়েছে। এই মঞ্জুরি দাবিগুলোর তীব্র বিরোধিতা করে এবং যৌক্তিকতা চ্যালেঞ্জ করে বিরোধী দলের ২০ জন সংসদ সদস্য মোট ৩০৪টি ছাঁটাই প্রস্তাবের (Cut Motion) লিখিত নোটিশ জমা দিয়েছেন।
তবে সংসদীয় কার্য উপদেষ্টা কমিটির সিদ্ধান্ত ও সময় স্বল্পতার বিষয়টি বিবেচনা করে অর্থ বিভাগ, পরিকল্পনা বিভাগ, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়, স্থানীয় সরকার বিভাগ, পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়, খাদ্য মন্ত্রণালয় এবং দুর্নীতি দমন কমিশনসহ (দুদক) অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আটটি মন্ত্রণালয় ও বিভাগের ওপর উত্থাপিত ছাঁটাই প্রস্তাবের ওপর সংসদে উন্মুক্ত আলোচনা করা হবে। এই প্রধান খাতগুলোর আলোচনা শেষ হওয়ার পর বাকি মঞ্জুরি দাবিগুলো সরাসরি গিলোটিন বা ভোটের মাধ্যমে দ্রুত নিষ্পন্ন করা হবে বলে সংসদ সচিবালয় সূত্রে জানা গেছে।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |