আন্তর্জাতিক ডেস্ক | বাংলাদেশ প্রতিদিন
প্রকাশিত: ০৯ জুন, ২০২৬
নিজেদের পরমাণু নীতিতে এক যুগান্তকারী ও ঐতিহাসিক পরিবর্তন এনে ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ১২টি পারমাণবিক ওয়ারহেড বা বোমা সক্রিয়ভাবে মোতায়েন করেছে ভারত। বৈশ্বিক অস্ত্র প্রতিযোগিতা ও সামরিক শক্তির ওপর নজরদারি চালানো বিশ্বের শীর্ষ আন্তর্জাতিক গবেষণা সংস্থা ‘স্টকহোম ইন্টারন্যাশনাল পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউট’ (সিপরাই)-এর সর্বশেষ বার্ষিক প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে।
সিপরাই-এর এই প্রতিবেদনটি কয়েক দশকের পুরোনো পারমাণবিক নীতি থেকে নয়াদিল্লির এক বড় ধরনের সরে আসার স্পষ্ট ইঙ্গিত দেয়। এতকাল ভারতের মূল নীতিই ছিল শান্তিকালীন সময়ে পারমাণবিক ওয়ারহেড এবং সেগুলো উৎক্ষেপণের ক্ষেপণাস্ত্র বা ব্যবস্থা সম্পূর্ণ আলাদা ও বিচ্ছিন্নভাবে সংরক্ষণ করা। তবে এবারই প্রথম আন্তর্জাতিক এই সংস্থাটি ভারতের পারমাণবিক সক্ষমতার একটি অংশকে কেবল ‘মজুত’ হিসেবে না দেখিয়ে ‘সক্রিয়ভাবে মোতায়েনকৃত’ (অপারেশনালি ডেপ্লয়েড) হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভূগর্ভস্থ মিসাইল সাইলো (Missile Silo) এবং নতুন পারমাণবিক সাবমেরিনগুলোতে যেকোনো মুহূর্তে উৎক্ষেপণের জন্য প্রস্তুত অবস্থায় এই ১২টি পারমাণবিক বোমা যুক্ত করা হয়েছে। এটি ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনীর সর্বোচ্চ যুদ্ধপ্রস্তুতিরই একটি স্পষ্ট সংকেত। এই প্রথমবারের মতো ভারত তাদের পারমাণবিক ওয়ারহেডগুলোকে সরাসরি উৎক্ষেপণ ব্যবস্থার সাথে যুক্ত করেছে কিংবা সরাসরি অপারেশনাল ফোর্সের ঘাঁটিতে মোতায়েন সম্পন্ন করেছে।
সদ্য প্রকাশিত এই আন্তর্জাতিক প্রতিবেদন থেকে আরও জানা যায়, গত এক বছরে ভারতের সামগ্রিক পারমাণবিক বোমার মজুতও আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৬ সালের জানুয়ারি মাসের হিসাব অনুযায়ী, ভারতের মোট পারমাণবিক বোমার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে প্রায় ১৯০টিতে, যা আগের বছরের চেয়ে উল্লেখযোগ্য পরিমানে বেশি।
এই পরমাণু অস্ত্রগুলো মূলত ভারতের আকাশপথ, স্থলভাগ এবং সাবমেরিন চালিত নৌবাহিনীর সমন্বয়ে গঠিত একটি পরিপক্ব ‘নিউক্লিয়ার ট্রায়াড’ (Nuclear Triad)-এর অংশ হিসেবে বিন্যস্ত রয়েছে। এর মধ্যে ১২টি পরমাণু অস্ত্র সরাসরি ব্যবহারের জন্য প্রস্তুত রাখা হয়েছে এবং বাকি ১৭৮টি সুরক্ষিত মজুতে রয়েছে। সিপরাই-এর ধারণা, ভারত তাদের ব্যালিস্টিক মিসাইল সাবমেরিন (SSBN) এবং সমুদ্রভিত্তিক কৌশলগত টহল কার্যক্রম জোরদার করার লক্ষ্যেই শান্তিকালীন সময়ে ক্ষেপণাস্ত্রের সাথে সরাসরি ওয়ারহেড জুড়ে দেওয়ার এই নতুন ও আগ্রাসী কৌশল বেছে নিয়েছে।
তবে এই বড় ধরনের কৌশলগত পরিবর্তনের মধ্যেও ভারত তার দীর্ঘদিনের ‘নো ফার্স্ট ইউজ’ (No First Use) বা ‘আগে আঘাত না করার’ নীতিতে এখনো অনড় রয়েছে। এই নীতি অনুযায়ী, ভারত কখনই কোনো দেশের বিরুদ্ধে নিজে থেকে বা যেচে পড়ে আগে পারমাণবিক হামলা চালাবে না। কেবল ভারতীয় ভূখণ্ড বা বিশ্বের যেকোনো প্রান্তে থাকা ভারতীয় বাহিনীর ওপর যদি কোনো শত্রুদেশ আগে পারমাণবিক হামলা চালায়, তবেই তার চরম প্রতিশোধ বা পাল্টা জবাব হিসেবে এই পরমাণু অস্ত্র ব্যবহার করা হবে।
ভারতের প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, কোনো দেশকে আক্রমণ করার প্রতিযোগিতায় না নেমে, সম্ভাব্য প্রধান দুই প্রতিবেশী শত্রুভাবাপন্ন দেশের যেকোনো আগ্রাসন থেকে নিজেদের সীমান্ত ও সার্বভৌমত্ব সুরক্ষিত রাখতেই ভারত এই সীমিত অথচ অত্যন্ত কার্যকর পারমাণবিক সক্ষমতা বজায় রাখছে। তবে সিপরাই-এর এই নতুন তথ্য দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনীতি ও সামরিক ভারসাম্যে এক নতুন উত্তাপের জন্ম দিয়েছে।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |