| বঙ্গাব্দ

ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে পুশইন জল্পনা: উদ্বেগ জানাল মানবাধিকার সংগঠন এপিডিআর

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 07-06-2026 ইং
  • 2560 বার পঠিত
ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে পুশইন জল্পনা: উদ্বেগ জানাল মানবাধিকার সংগঠন এপিডিআর
ছবির ক্যাপশন: সীমান্তে পুশইন জল্পনা

ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে ‘পুশইন’ জল্পনা: গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করল মানবাধিকার সংগঠন এপিডিআর

ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের বিভিন্ন এলাকায় নারী, শিশু ও পরিবারসহ বহু মানুষকে বাংলাদেশি সন্দেহে জোরপূর্বক সীমান্তের শূন্যরেখার (নো ম্যানস ল্যান্ড) দিকে ঠেলে দিচ্ছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। সাম্প্রতিক এই পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে পশ্চিমবঙ্গের মানবাধিকার সংগঠন ‘অ্যাসোসিয়েশন ফর প্রোটেকশন অব ডেমোক্রেটিক রাইটস’ (এপিডিআর) বা গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষা সমিতি। সংগঠনটির দাবি, বিএসএফ-এর এই অনড় অবস্থানের কারণে পর্যাপ্ত খাবার ও বিশুদ্ধ পানির অভাবে জিরো পয়েন্টে আটকে পড়া সাধারণ মানুষ চরম অমানবিক ও অনিশ্চিত জীবন কাটাতে বাধ্য হচ্ছেন।

সীমান্তে চরম মানবিক সংকট ও এপিডিআর-এর বিবৃতি

কলকাতায় প্রকাশিত এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে এপিডিআর-এর সহসভাপতি রঞ্জিত শূর বলেন, সীমান্তের বিভিন্ন এলাকায় নারী ও শিশুসহ বহু মানুষকে অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে জোরপূর্বক বাংলাদেশের দিকে পাঠানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) পরিচয় নিশ্চিত না হয়ে তাদের গ্রহণ না করায় তারা ভারত ও বাংলাদেশের মাঝখানের শূন্যরেখায় আটকে পড়ছেন।

সংগঠনটি জানায়, সীমান্তে আটকে থাকা এসব মানুষের মধ্যে গর্ভবতী নারী ও শিশুও রয়েছে। তীব্র রোদ, বৃষ্টি ও প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্যে খোলা আকাশের নিচে তারা চরম দুর্ভোগের মুখোমুখি হচ্ছেন। এপিডিআরের ভাষ্য অনুযায়ী, বিএসএফ তাদের ‘বাংলাদেশি’ বলে নিজের দেশের দায়িত্ব এড়াচ্ছে, অন্যদিকে বাংলাদেশ বলছে তাদের নাগরিকত্বের কোনো প্রমাণ নেই। ফলে অসহায় এই মানুষগুলো কার্যত কোনো রাষ্ট্রেরই আইনি বা মানবিক সুরক্ষা পাচ্ছেন না।

ভারতের ‘থ্রি-ডি’ নীতি ও মানবাধিকার লঙ্ঘন

সীমান্তের এই অবস্থাকে একটি তীব্র মানবিক সংকট হিসেবে বর্ণনা করে মানবাধিকার সংগঠনটি ভারতের তথাকথিত ‘থ্রি-ডি’ (Three D) নীতির তীব্র সমালোচনা করেছে। তারা বলছেন—

  • ডিটেক্ট (Identified): চিহ্নিতকরণ

  • ডিলিট (Cancel): নাগরিক পরিচয় মুছে দেওয়া

  • ডিপোর্ট (Expulsion): বহিষ্কার

মানবাধিকার কর্মীদের মতে, এই তিন নীতি ভারতের সংবিধানের মৌলিক অধিকারের সঙ্গে সম্পূর্ণ সাংঘর্ষিক এবং ভারতীয় সংবিধানের ১৪ ও ২১ নম্বর অনুচ্ছেদের সরাসরি লঙ্ঘন। এই পরিস্থিতির প্রতিবাদে আগামী ১১ জুন মালদা শহরে একটি বিক্ষোভ মিছিলের ডাক দিয়েছে এপিডিআর।

বিজিবি ও বিএসএফ-এর পাল্টাপাল্টি অবস্থান

সীমান্তের এই সংকটজনক পরিস্থিতি নিয়ে ভারত ও বাংলাদেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মধ্যেও পাল্টাপাল্টি অভিযোগের খবর সামনে এসেছে। বিজিবি-এর পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে যে— পঞ্চগড়, লালমনিরহাট, নওগাঁ ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্তের বিভিন্ন স্থানে জোরপূর্বক পুশইনের চেষ্টা করা হয়েছে, যা বিজিবি কঠোরভাবে প্রতিহত করেছে।

অন্যদিকে, ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে যে, অবৈধভাবে অবস্থানকারী বিদেশী নাগরিকদের ফেরত পাঠানোর জন্য দুই দেশের মধ্যে নির্দিষ্ট দ্বিপাক্ষিক ব্যবস্থা রয়েছে এবং সেই আইনি প্রক্রিয়াই এখানে অনুসরণ করা হচ্ছে। নয়াদিল্লি আশা প্রকাশ করেছে যে, আটক ব্যক্তিদের নাগরিকত্ব যাচাইয়ের বিষয়ে ঢাকা দ্রুত সাড়া দেবে।

মানবাধিকার বিশেষজ্ঞদের মতে, সীমান্ত নিরাপত্তা যেমন যেকোনো দেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি নারী, শিশু ও অসহায় মানুষের মানবিক মর্যাদা রক্ষা করাও সমান জরুরি। এই দুইয়ের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করা না গেলে সীমান্তের এই সংকট আগামী দিনে আরও জটিল আকার ধারণ করতে পারে।

প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency