পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতা হারানোর পর তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের লোকসভা উপ-নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা এবং সৌরভ গাঙ্গুলীর মধ্যস্থতা নিয়ে তৈরি হওয়া জল্পনা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। সম্প্রতি একটি গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, ভারতের সাবেক ক্রিকেট অধিনায়ক সৌরভ গাঙ্গুলী তৃণমূলের হয়ে লোকসভা সংসদ সদস্য ইউসুফ পাঠানকে তার আসনটি ছেড়ে দেওয়ার অনুরোধ করেছিলেন। তবে এই খবরটিকে সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভুয়া ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে উড়িয়ে দিয়েছেন সৌরভ গাঙ্গুলী ও ইউসুফ পাঠান উভয়েই। তারা স্পষ্ট জানিয়েছেন, এই ধরণের কোনো রাজনৈতিক আলোচনা বা বার্তা আদান-প্রদান মোটেও ঘটেনি।
গত সপ্তাহে একটি শীর্ষস্থানীয় বাংলা দৈনিকের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে ঘুরে দাঁড়াতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় লোকসভার পথ বেছে নিতে পারেন। তবে এর জন্য তৃণমূলের একটি আসন শূন্য হওয়া প্রয়োজন।
সেই প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ইউসুফ পাঠানকে তার বহরমপুর আসনটি ছেড়ে দিতে রাজি করানোর জন্য সৌরভ গাঙ্গুলীর সাহায্য চেয়েছিল তৃণমূল। কিন্তু ইউসুফ পাঠান সেই প্রস্তাব সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেন। এমন এক সময়ে এই চাঞ্চল্যকর দাবিটি সামনে আসে, যখন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় দিল্লির উদ্দেশ্যে রওনা হচ্ছিলেন।
এই চাঞ্চল্যকর দাবিটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পরপরই সৌরভ গাঙ্গুলী এই প্রতিবেদনটিকে ‘ভুল এবং অসত্য’ বলে তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে ভারতের এই সাবেক অধিনায়ক স্পষ্ট করে বলেন:
"মিস মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আমাকে কখনোই ইউসুফ পাঠানকে কোনো বার্তা দেওয়ার জন্য অনুরোধ বা নির্দেশ দেননি—তা সে সংসদীয় আসন ছেড়ে দেওয়ার ব্যবস্থাপনাই হোক বা অন্য কিছু। স্বাভাবিকভাবেই, আমি নিজেও কখনো ইউসুফ পাঠানের সঙ্গে এই ধরণের কোনো অনুরোধ বা বার্তা নিয়ে যোগাযোগ করিনি। ফলে এই বিষয়ে ইউসুফ পাঠানের প্রতিক্রিয়া জানানোর যে দাবি প্রতিবেদনে করা হয়েছে, তার কোনো প্রশ্নই ওঠে না।"
সাবেক এই তারকা ক্রিকেটার অত্যন্ত স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন যে, তিনি কখনোই কোনো রাজনৈতিক বিষয়ের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না এবং ভবিষ্যতেও রাজনীতিতে জড়াতে চান না। আমাদের বিশ্লেষণেও দেখা গেছে, সৌরভ গাঙ্গুলী বরাবরই নিজেকে সক্রিয় রাজনীতি থেকে দূরে রেখেছেন।
আইপিএল-এ একসময় সৌরভ গাঙ্গুলীর অধিনায়কত্বে খেলা সাবেক অলরাউন্ডার এবং বর্তমান বহরমপুরের সংসদ সদস্য ইউসুফ পাঠানও একটি ভিডিও বার্তায় এই খবরকে পুরোপুরি ভুয়া বলে উড়িয়ে দিয়েছেন।
ইউসুফ পাঠান বলেন, "বেশ কিছুদিন ধরে একটি খবর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে যা সম্পূর্ণ মিথ্যা। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বা তৃণমূলের কোনো নেতাই আমাকে সংসদ সদস্য পদ থেকে পদত্যাগ করার জন্য বলেননি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই বিষয়ে আমার সঙ্গে কখনোই কোনো কথা বলেননি।"
জায়ান্ট কিলার ইউসুফ পাঠান: উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের টিকিটে রাজনীতিতে প্রথম অভিষেক ঘটে ইউসুফ পাঠানের। প্রথম নির্বাচনেই বহরমপুরের মাটিতে কংগ্রেসের দীর্ঘদিনের হেভিওয়েট নেতা অধীর রঞ্জন চৌধুরীকে পরাজিত করে তিনি ‘জায়ান্ট কিলার’ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |