| বঙ্গাব্দ

পাকিস্তানি মডেল মোমিনা ইকবালকে সাইবার হয়রানি: পিএমএল-এন নেতার বিরুদ্ধে মামলা

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 06-06-2026 ইং
  • 3255 বার পঠিত
পাকিস্তানি মডেল মোমিনা ইকবালকে সাইবার হয়রানি: পিএমএল-এন নেতার বিরুদ্ধে মামলা
ছবির ক্যাপশন: পিএমএল-এন নেতার বিরুদ্ধে মামলা

পাকিস্তানি মডেল মোমিনা ইকবালকে সাইবার হয়রানি: পিএমএল-এন নেতার বিরুদ্ধে মামলা

বিয়ের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করায় পাকিস্তানের জনপ্রিয় মডেল ও অভিনয়শিল্পী মোমিনা ইকবালকে সাইবার হয়রানি, ব্ল্যাকমেইল এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগে দেশটির ক্ষমতাসীন দল পাকিস্তান মুসলিম লীগ-নওয়াজের (পিএমএল-এন) আইনপ্রণেতা সাকিব চাথারের বিরুদ্ধে একটি গুরুতর মামলা দায়ের করা হয়েছে।

পাকিস্তানের প্রিভেনশন অব ইলেকট্রনিক ক্রাইমস অ্যাক্টের (পেকো) অধীনে দেশটির কেন্দ্রীয় সংস্থা ‘ন্যাশনাল সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি’ (এনসিসিআইএ) এই মামলাটি নথিবদ্ধ করেছে। অভিযুক্ত সাকিব চাথার পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রাদেশিক পরিষদের একজন বর্তমান সদস্য (এমপিএ)।

বিয়ের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান ও ব্ল্যাকমেইলের সূত্রপাত

মামলার এজাহার (এফআইআর) অনুযায়ী, পঞ্জাবের এমপিএ সাকিব চাথার বিবাহিত হওয়া সত্ত্বেও অভিনেত্রী মোমিনা ইকবালকে বিয়ের প্রস্তাব দেন। সাকিব যে আগে থেকেই বিবাহিত—এই সত্যটি জানতে পেরে মোমিনা তাঁর প্রস্তাব সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেন।

এরপরই ক্ষিপ্ত হয়ে ওই আইনপ্রণেতা মোমিনার কিছু ব্যক্তিগত ভিডিও তাঁর ফোনে পাঠিয়ে ব্ল্যাকমেইল করা শুরু করেন। বিয়েতে রাজি না হলে সেই ব্যক্তিগত ভিডিও ও তথ্য ইন্টারনেটে ছড়িয়ে (লিক) দেওয়ার তীব্র হুমকি দেন সাকিব। এই কার্যকলাপে সাকিবের স্ত্রী এবং বেশ কয়েকজন সহযোগীও যুক্ত ছিলেন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

২০২৩ সালেও বিয়ে ভেঙে দেওয়ার অভিযোগ

তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, মোমিনা ইকবালের ওপর সাকিবের এই মানসিক নির্যাতন নতুন কিছু নয়। এর আগে ২০২৩ সালেও সাকিব চাথার এই অভিনেত্রীর বিরুদ্ধে সমাজ ও আত্মীয়দের কাছে নানা মিথ্যা অপবাদ ছড়িয়েছিলেন, যার কারণে মোমিনার আগের একটি বিয়ের কথাবার্তা চূড়ান্ত পর্যায়ে গিয়েও ভেঙে যায়।

চলতি সপ্তাহের শুরুর দিকেই মোমিনা ইকবাল বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছেন। তাঁর এই বিয়ের প্রস্তুতি চলাকালীন হেনস্তার বিষয়টি আবারও চরম আকার ধারণ করে। মোমিনা, তাঁর বর্তমান স্বামী, বোন এবং পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের ফোনে অনবরত হুমকিমূলক বার্তা ও গালিগালাজ পাঠানো হতো।

ডিজিটাল প্রমাণ উদ্ধার ও ডেটা মুছে ফেলার চেষ্টা

এনসিসিআইএ-র তদন্তে বেরিয়ে এসেছে চাঞ্চল্যকর সব তথ্য:

  • নম্বর শনাক্ত: হুমকিমূলক বার্তাগুলো সাকিব চাথারের ব্যক্তিগত ফোন নম্বর থেকেই পাঠানো হয়েছিল বলে প্রমাণ মিলেছে।

  • ভিডিও উদ্ধার: সাকিবের পাঠানো ব্ল্যাকমেইলের ভিডিওগুলো মোমিনার মোবাইল ফোন থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ।

  • প্রমাণ লোপাটের চেষ্টা: আইনপ্রণেতা সাকিব চাথার তাঁর মোবাইল ফোনটি এনসিসিআইএ-র কাছে জমা দেওয়ার আগেই ফোন থেকে চতুরতার সাথে সব ডেটা ও মেসেজিং অ্যাপস মুছে (ডিলিট) ফেলেন। তবে ডিজিটাল ফরেনসিক পরীক্ষার মাধ্যমে তা পুনরুদ্ধারের চেষ্টা চলছে।

উল্লেখ্য, পেশায় আইনজীবী মোমিনা ইকবালের বোন এই হুমকির সপক্ষে একটি শক্তিশালী ভিডিও প্রমাণ এনসিসিআইএ-র কাছে জমা দিয়েছেন। এর আগে লাহোরের চুং থানায় সাকিবের বিরুদ্ধে মামলা করতে গিয়ে ব্যর্থ হন মোমিনা। পরবর্তীতে উচ্চপর্যায়ের সাইবার ক্রাইম এজেন্সির হস্তক্ষেপে এই প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতার বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া শুরু হলো।

বিনোদন জগতের খবর, আন্তর্জাতিক অপরাধ এবং বিশ্বের সব ব্রেকিং নিউজ সবার আগে নির্ভরযোগ্যভাবে পেতে নিয়মিত চোখ রাখুন বাংলাদেশ প্রতিদিন ওয়েবসাইটে।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency