নতুন মূল্যহারে আপনার বিদ্যুৎ বিল কত বাড়বে তা নির্ভর করবে আপনার প্রতি মাসের মোট ইউনিট ব্যবহারের ওপর। তবে সাধারণ ও প্রান্তিক গ্রাহকদের স্বস্তি দিয়ে আবাসিক খাতে প্রথম ৭৫ ইউনিট পর্যন্ত বিদ্যুতের বর্ধিত দাম প্রত্যাহার করেছে সরকার। ফলে যারা মাসে সর্বোচ্চ ৭৫ ইউনিট বিদ্যুৎ ব্যবহার করেন, তাদের বিল আগের মতোই থাকবে, কিন্তু বিদ্যুৎ ব্যবহার ৭৫ ইউনিট পার হলেই মাল্টিপল স্ল্যাব বা একাধিক ধাপে নতুন মূল্যে বিল হিসাব করা হবে।
সহজ কথায়, ১ ইউনিট বিদ্যুৎ মানে হলো ১ কিলোওয়াট (১০০০ ওয়াট) বিদ্যুৎ ১ ঘণ্টা ব্যবহার করা। যেমন—১০০ ওয়াটের একটি বাল্ব ১০ ঘণ্টা জ্বললে ১ ইউনিট বিদ্যুৎ খরচ হয়।
মাস শেষে আপনার বিদ্যুৎ বিল কত ইউনিট হলো, তা জানতে মিটারের বর্তমান রিডিং থেকে আগের মাসের রিডিং বাদ দিতে হবে। উদাহরণস্বরূপ, গত মাসে রিডিং যদি ১২,২০০ থাকে এবং বর্তমানে ১২,৫০০ দেখায়, তবে আপনার ব্যবহৃত বিদ্যুৎ হলো ৩০০ ইউনিট। মিটারের ধরন প্রিপেইড বা পোস্টপেইড যাই হোক না কেন, বিল মূলত এই ব্যবহৃত ইউনিটের ওপর ভিত্তি করেই আসে।
বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) ৩ জুন ঘোষিত নতুন খুচরা মূল্যহার পুনঃনির্ধারণ করেছে। নিম্ন আয়ের মানুষের কথা বিবেচনা করে ৭৫ ইউনিট পর্যন্ত দাম অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে।
বিদ্যুতের বর্তমান নতুন ধাপ ও ইউনিট প্রতি মূল্য নিচে দেওয়া হলো:
লাইফলাইন (০-৫০ ইউনিট): ৪ টাকা ৬৩ পয়সা (অপরিবর্তিত)
প্রথম ধাপ (০-৭৫ ইউনিট): ৫ টাকা ২৬ পয়সা (অপরিবর্তিত)
দ্বিতীয় ধাপ (৭৬-২০০ ইউনিট): ৮ টাকা ৫০ পয়সা
তৃতীয় ধাপ (২০১-৩০০ ইউনিট): ৯ টাকা ৫৯ পয়সা
চতুর্থ ধাপ (৩০১-৪০০ ইউনিট): ৯ টাকা ৬২ পয়সা
পঞ্চম ধাপ (৪০১-৬০০ ইউনিট): ১৫ টাকা ০১ পয়সা
সর্বোচ্চ ধাপ (৬০০ ইউনিটের বেশি): ১৭ টাকা ৩৫ পয়সা
বিইআরসি-এর নিয়ম অনুযায়ী, আপনার বিদ্যুৎ ব্যবহার ৭৫ ইউনিট পার হলেই বিল 'মাল্টিপল স্ল্যাবে' গণনা করা হবে। অর্থাৎ, আপনি যদি ৩০০ ইউনিট বিদ্যুৎ ব্যবহার করেন, তবে পুরো ৩০০ ইউনিটের দাম এক হারে বসবে না। প্রথম ৭৫ ইউনিটের বিল প্রথম ধাপের হারে, পরবর্তী ১২৫ ইউনিটের বিল দ্বিতীয় ধাপের হারে এবং শেষ ১০০ ইউনিটের বিল তৃতীয় ধাপের হারে আলাদাভাবে হিসাব করে যোগ করা হবে।
"আগে কারও বিল ২,০০০ টাকা হলে নতুন নিয়মে সেই বিল হয়তো ২,৫০০ টাকার মতো আসবে। অর্থাৎ, বিদ্যুৎ ব্যবহারের পরিমাণ যত উপরে যাবে, বিল ঐকিক নিয়মের মতো ধাপে ধাপে তত বাড়বে।" — ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বিইআরসি।
বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) সাবেক অধ্যাপক ড. ইজাজ হোসেনের মতে, সরকারের জন্য এই দাম বাড়ানো অপরিহার্য ছিল। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের রেখে যাওয়া নানাবিধ অর্থনৈতিক সংকট এবং আমদানি নির্ভরতার কারণে বিদ্যুৎ খাতে ভর্তুকির চাপ অনেক বেড়েছে।
জালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত জানিয়েছেন, দেশের ৬০ শতাংশের বেশি গ্রাহক প্রান্তিক বা ক্ষুদ্র পর্যায়ের। তাই সাধারণ মানুষের ওপর যেন বাড়তি চাপ না পড়ে, সেজন্য আড়াই কোটি প্রান্তিক গ্রাহকের জন্য পুরনো মূল্য বহাল রাখা হয়েছে। এই মূল্যবৃদ্ধির ফলে সরকারের হাতে প্রায় ১৫ হাজার কোটি টাকা আসবে, যা বাজেট ঘাটতি ও ভর্তুকি সামাল দিতে সাহায্য করবে।
সহজ কিছু অভ্যাস পরিবর্তনের মাধ্যমে আপনি নতুন মূল্যহারে বিদ্যুৎ বিল অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারেন:
ইনভার্টার প্রযুক্তির ব্যবহার: সাধারণ ফ্রিজ, এসি বা ওয়াশিং মেশিনের পরিবর্তে ইনভার্টারযুক্ত যন্ত্র ব্যবহার করলে বিদ্যুৎ বিল প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ কমে আসে।
এসি ২৫ ডিগ্রিতে রাখুন: বাসাবাড়িতে এসি চালানোর সময় তাপমাত্রা সবসময় ২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে রাখুন এবং ঘর ঠাণ্ডা হলে এসি বন্ধ করে ফ্যান চালান।
এলইডি বাতি ব্যবহার: ১০০ ওয়াটের সাধারণ বাল্বের পরিবর্তে মাত্র ২৫ ওয়াটের এনার্জি বা এলইডি বাল্ব ব্যবহার করুন।
প্লাগ খুলে রাখা: টিভি, কম্পিউটার বা ইস্ত্রি ব্যবহার না করলে কেবল সুইচ বন্ধ না করে সকেট থেকে প্লাগ খুলে রাখুন।
দেশের বিদ্যুৎ পরিস্থিতি, জ্বালানি খাতের নতুন নীতিমালা এবং অর্থনৈতিক সব ব্রেকিং নিউজ সবার আগে নির্ভরযোগ্যভাবে পেতে নিয়মিত চোখ রাখুন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |